বাংলা ভাষা ও সাহিত্য

বাংলা ভাষা ও সাহিত্য

ভাষা

বাংলা ভাষা

  • মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যম ভাষা। বাংলা ভাষার প্রধান রুপ দুটি হলো-সাধু ও চলিত রুপ।
  • সাধু ও চলিত রীতির পার্থক্য সর্বনাম ও ক্রিয়া পদের ব্যবহারে।
  • সাধু ভাষার বৈশিষ্ট্য- গুরুগম্ভীর এ রীতিতে তৎসম শব্দের ব্যবহার বেশি।
  • সাধু ভাষার নাটকের সংলাপ, বক্তৃতা ও আলোচনায় অনুপযোগী।
  • বাংলা সাহিত্যে চলিত ভাষা রীতির প্রবর্তক- প্রমথ চৌধুরী।
  • চলিত ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য-পরিবর্তনশীলতা।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য

বাংলা ভাষা ও সাহিত্য

ব্যাকরণ

  • ব্যাকরণ= (বি+আ+কৃ+অন) অর্থ বিশেষভাবে বিশ্লেষণ।
  • ব্যাকরণ শব্দটি এসেছে সংস্কৃত ভাষা থেকে।
  • ভাষার অভ্যন্তরীণ শূঙ্খলা আবিস্কারের নামই-ব্যকরণ।
  • ব্যাকরণের প্রধান কাজ -ভাষার বিশ্লেষণ।
  • অর্থতত্ব আলোচিত হয়- ব্যাকরণের উচ্চস্তরে।

বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থ

  • বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ (পতুর্গিজ ভাষায় লিখিত) পর্তুগিজ পাদ্রি মনোএল দা আসসুস্পসাউ রচিত ‘ভোকাবুলিরও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ’ (১৭৪৩)।
  • বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণগ্রন্থ (ইংরেজিতে তবে আংশিক বাংলা মুদ্রিত) ন্যথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড রচিত ‘A Grammar of the Bangal Language’ (১৯৯৮)।
  • উইলিয়াম কেরি ১৮০১ সালে ইংরেজিতে A Grammar of the Bangali Language নামে ব্যাকরণ রচনা করেন।
  • বাংলা ভাষায় প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন রাজা রামমোহন রায় “গৌড়ীয় ব্যাকরণ” নামে ১৮৩৩ সালে (এটিই প্রথম কর্তৃক রচিত ব্যাকরণ)।
  • উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ ব্যকরণবিদ- পাণিনি।
  • ড.সুনীতিকুমার চট্রাপাধ্যায় রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থ- ‘ভাষা প্রকাশ বাংলা ব্যাকরণ’।
  •  ‘ব্যাকরণ কৌমুদী’ রচয়িতা- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এবং ‘ব্যাকরণ মঞ্জুরী’ গ্রন্থর রচয়িতা-ড. মুহাম্মদ এনামুল হক।
  • বাংলাভাষার প্রথম ব্যাকরণবিদ- মনোএল দ্য আসসুম্পসাউ কিন্তু টাইপ সহযোগে প্রথম বাংলা ব্যাকরণ মুদ্রণ করেন-ন্যথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড।
ব্যাকরণ গ্রন্থ গ্রন্থকার
A Grammar of the Bangali Language (১৮০১) উইলিয়াম কেরি
বাংলা ব্যাকরণ (১৮৫৩) শ্যামাচরণ সরকার
ব্যাকরণ কৌমুদী (১৮৫৩) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
বাঙ্গলা ব্যাকরণ ড.মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাকরণ মঞ্জরী ড. মুহম্মদ এনামুল হক
ভাষারোধ বাঙ্গলা ব্যাকরণ নকুলেশ্বর বিদ্যাভূষণ
আধুনিক বাংলা ব্যাকরণ জগদীশচন্দ্র ঘোষ
ভাষা প্রকাশ বাংলা ব্যাকরণ সুনীতিকুমার চট্রোপাধ্যায়
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ মুনীর চৌধুরী, ইব্রাহীম খলিল ও মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী
প্রমিত বাংলাভাষার ব্যাকরণ ( বাংলা একাডেমি প্রণীত) রফিকুল ইসলাম ও পবিত্র সরকার

বাংলা ব্যাকরণে আলোচিত বিষয়

ধ্বনিতত্ত্ব শব্দতত্ত্ব বা রুপতত্ত্ব বাক্যতত্ত্ব
সন্ধি, ণ-ত্ব বিধি ও য-ত্ব বিধি। লিঙ্গ, সমাস, কারক, বচন, ক্রিয়া, কাল, পুরুষ, উপসর্গ, বাচ্য, প্রত্যয়। যতিচিহ্ন, বাগধারা, পদ ধ্বনি গঠন।

বাংলা ভাষা ও সাহিত্য

প্রয়োগ- অপপ্রয়োগ

লিঙ্গের অপপ্রয়োগঃ

অপপ্রয়োগ শুদ্ধ প্রয়োগ অপপ্রয়োগ শুদ্ধ প্রয়োগ অপপ্রয়োগ শুদ্ধ প্রয়োগ
ত্রিনয়নী ত্রিনয়না অধিনী অধীনা সুকেশিনী সুকেশ
অন্সরী অন্সরা সিংহিনী সিংহী অনাথিনী অনাথা
পণ্ডিতানী পণ্ডিতা বিহঙ্গিনী বিহঙ্গী অর্ধাঙ্গিনী অর্ধাঙ্গী
গাগিনী গাগী সর্পিনী সর্পী নির্দোষিণী নির্দোষা

সংযুক্ত বর্ণের অপপ্রয়োগঃ

অপপ্রয়োগ শুদ্ধ প্রয়োগ অপপ্রয়োগ শুদ্ধ প্রয়োগ অপপ্রয়োগ শুদ্ধ প্রয়োগ
কান্ড কাণ্ড মধ্যাহ্ মধ্যাহ্ন স্বাস্থ স্বাস্থ্য
ভান্ডার ভাণ্ডার সায়াহ্ সায়াহ্ন মনজুষা মঞ্জুষা
সন্ধা সন্ধ্যা বহি বহ্নি ব্রাক্ষণ ব্রাক্ষণ
রুদ্ব রুদ্ধ পূর্বাহ্ন পূর্বাহ চক্র চক্র
গ্রীস্ম গ্রীষ্ম অপরাহ্ন অপরাহ্ আকাঙ্খা আকাঙ্ক্ষা

অর্থ ও রীতির অপপ্রয়োগঃ

অপপ্রয়োগ শুদ্ধ প্রয়োগ অপপ্রয়োগ শুদ্ধ প্রয়োগ অপপ্রয়োগ শুদ্ধ প্রয়োগ
অশ্রুজল অশ্রু সময়কাল সময়/কাল আগতকল্য আগামীকল্য
শবপোড়া শবদাহ্ন যদাপিত্ত যদ্যাপি অন্নকাপড় অন্নবস্ত্র
আয়ত্তাধীন আয়ত্ত সুবুদ্দিমান সুবুদ্ধি সুস্বাস্হ্য স্বাস্হ্য

সন্ধি এর অপপ্রয়োগঃ

অপপ্রয়োগ শুদ্ধ প্রয়োগ অপপ্রয়োগ শুদ্ধ প্রয়োগ অপপ্রয়োগ শুদ্ধ প্রয়োগ
দুরোদৃষ্ট দুরদৃষ্ট উপর্যুক্তি উপর্যপরি য-ইচ্ছা যশেচ্ছা
দুরাবস্থা দুরবস্থা উপরোক্ত উপর্যুক্ত সন্মুথ সম্মুখ
জ্যোতীন্দ্র জ্যোতিরিন্দ্র ব্যাবধান ব্যবধান জগচন্দ্র জগৎচন্দ্র
অধ্যবধি অদ্যাবধি বন্দোপাধ্যায় বন্দ্যোপাধ্যায় জগৎবন্ধু জগবন্ধু
অনাটন অনটন বাগেশ্বরী বাগীশ্বরী নিস্ফল নিষ্ফল
পৃথগন্ন পৃথকন্ন মনোকষ্ট মনঃকষ্ট কিম্বদন্তী কিংবদন্তী
প্রাতরাশ প্রাতঃরাশ মনরথ মনোরথ শিরচ্ছেদ নিরচ্ছেদ
তরুচ্ছায়া তরুছায়া মুখচ্ছবি মুখছবি তিরষ্কার তিরস্কার

সমাস এর অপপ্রয়োগঃ

অপপ্রয়োগ শুদ্ধ প্রয়োগ অপপ্রয়োগ শুদ্ধ প্রয়োগ অপপ্রয়োগ শুদ্ধ প্রয়োগ
অহোরাত্রি অহোরাত্র মাহারা মাতৃহারা সুকণ্ঠিনী সুকণ্ঠি/সুকণ্ঠ
অর্ধরাত্রি অর্ধরাত্র যুবরাজা যুবরাজ নিস্কলস্কী নিষ্কলস্ক
অনর্হিশি অহর্নিশি রাজাগণ রাজগণ নিস্পাপী নিষ্পাপ
ভ্রাতাবৃন্দ ভ্রাতৃবৃন্দ শশীভুষণ শশিভূষণ নির্দোষী নির্দোষ
ভ্রাতাসংঘ ভ্রাতৃসংঘ কালীদাস কালিদাস নির্ধনী নির্ধন
অতলস্পর্শী অতলস্পর্শ সক্ষম ক্ষম নিরহঙ্কারী নিরহঙ্কার
নীরোগী নীরোগ সশষ্ক সশষ্ক নির্বিরোধী নির্বিরোধ
বানাপানি বীনাপাণি মৃগনয়নী মৃগণয়না নির্গুনী নির্গুন

প্রত্যয় এর অপপ্রয়োগঃ

অপপ্রয়োগ শুদ্ধ প্রয়োগ অপপ্রয়োগ শুদ্ধ প্রয়োগ
দারিদ্র্যতা দারিদ্রা, দরিদ্রতা প্রসারতা প্রসার
দুরাবস্থা দুরবস্থা পরিত্যজ্য পরিত্যাজ্য
স্বাতন্ত্র স্বাতন্ত্র্য উদ্বেলিত উদ্বেল
দৌর্বল্যতা দৌর্বল্য, দুর্বলতা উৎকর্ষতা উৎকর্ষ, উৎকৃষ্টতা
দৌরাত্ন দৌরাত্ন্য উত্যক্ত উত্ত্যক্ত
পৌরুষত্ব পৌরুষ, পুরুষত্ব বরণ্যনীয় বরণীয়
দৈন্যতা দৈন্য/দীনতা মহাত্ন মহাত্ন্য
ধৈর্যতা ধৈর্য/ধীরতা মার্ধুযতা মাধুর্য,মধুরতা
বৈচিত্র্যতা বৈচিত্র্য/বিচিত্রতা ঐক্যমত ঐকমত্য
অধের্যতা অধের্য/অধীরতা ঐক্যতা ঐক্য,একতা
অধীনস্থ অধীন কার্পণ্যতা কার্পন্য,কৃপণতা
অপকর্যতা অপকর্ষ/অপকৃষ্টতা গাম্ভীর্যতা গাম্ভীর্য,গম্ভীরতা
অসহানীয় অসহনীয় ঘৃর্ণীয়মান ঘূর্ণায়মান
আবশ্যকীয় আবশ্যক চাঞ্চল্যতা চাঞ্চল্য,চঞ্চলতা
আলস্যতা আলসা/অলসতা চাপলতা চাপল্য, চপলতা
প্রবন্ধিক প্রাবন্ধিক চাতুর্যতা চাতুর্য, চতুরতা
লঘিষ্ঠতম লঘিষ্ঠ কনিষ্ঠতম কনিষ্ঠ, সর্বকনিষ্ঠ

ণ-এর অপপ্রয়োগঃ

অপপ্রয়োগ শুদ্ধ প্রয়োগ অপপ্রয়োগ শুদ্ধ প্রয়োগ অপপ্রয়োগ শুদ্ধ প্রয়োগ
আগুণ আগুন দুর্ণীতি দুর্নীতি বিহ্ণ বহ্নি
গগণ গগন নির্ণিমেষ নির্নিমেষ মধ্যাহ্ণ মধ্যাহ্ন
দর্শণ দর্শন ফালগুণ ফাল্গুন মুর্ধণ্য মূর্ধন্য
দুর্ণাম দৃর্নাম ফেণ ফেন সায়াহ্ণ সায়াহ্ন

ষ-এর অপপ্রয়োগঃ

অপপ্রয়োগ শুদ্ধ প্রয়োগ অপপ্রয়োগ শুদ্ধ প্রয়োগ অপপ্রয়োগ শুদ্ধ প্রয়োগ
তিরষ্কার তিরস্কার কল্যাণীয়াষু কল্যাণীয়াসু বিষ্ফোরণ বিস্ফোরণ
নিষ্পন্দ নিস্পন্দ বৃহষ্পতি বৃহস্পতি সংষ্কৃত সংস্কৃত
পুরষ্কার পুরস্কার ভূমিষাৎ ভূমিসাৎ পরিষ্ফুট পরিস্ফুট

শ, ষ, স-এর অপপ্রয়োগঃ

অপপ্রয়োগ শুদ্ধ প্রয়োগ অপপ্রয়োগ শুদ্ধ প্রয়োগ অপপ্রয়োগ শুদ্ধ প্রয়োগ
কুসাসন কুশাসন প্রসংশা প্রশংসা সুশ্রুষা শুশ্রুষা
ধ্বংশ ধ্বংস বিমর্শ বিমর্ষ নৃসংস নৃশংস

ক্ষ-এর অপপ্রয়োগঃ

অপপ্রয়োগ শুদ্ধ প্রয়োগ অপপ্রয়োগ শুদ্ধ প্রয়োগ অপপ্রয়োগ শুদ্ধ প্রয়োগ
পুঙ্কানুপুঙ্ক্ষ পুঙ্কানুপুঙ্খ ক্ষচিত খচিত কামাক্ষ্যা কামাখ্যা
ক্ষেচর খেচর ক্ষদ্দের খদ্দের ক্ষেয়াল খেয়াল

খ-এর অপপ্রয়োগঃ

অপপ্রয়োগ শুদ্ধ প্রয়োগ অপপ্রয়োগ শুদ্ধ প্রয়োগ অপপ্রয়োগ শুদ্ধ প্রয়োগ
খমা ক্ষমা খয় ক্ষয় খুধা ক্ষুধা
আকাঙ্খা আকাঙ্ক্ষা খেক ক্ষেত খত ক্ষত

ড়-এর অপপ্রয়োগঃ

অপপ্রয়োগ শুদ্ধ প্রয়োগ অপপ্রয়োগ শুদ্ধ প্রয়োগ অপপ্রয়োগ শুদ্ধ প্রয়োগ
ঘড় ঘর মীড়া মীরা কাপড় পড়া কাপড় পরা
শতকড়া শতকরা সাগড় সাগর আহাড় আহার
আষাড় আষাঢ় মুঢ় মৃঢ় পৌড় প্রৌঢ়
গাড় গাঢ় রুড় রুঢ় গুড় গুঢ়

ট-এর অপপ্রয়োগঃ

অপপ্রয়োগ শুদ্ধ প্রয়োগ অপপ্রয়োগ শুদ্ধ প্রয়োগ অপপ্রয়োগ শুদ্ধ প্রয়োগ
কোষ্টী কোষ্ঠী বলিষ্ট বলিষ্ঠ প্রকোষ্ট প্রকোষ্ঠ
ঘনিষ্ট ঘনিষ্ঠ লুঠতরাজ লুটতরাজ হটাৎ হঠাৎ
জ্যৈষ্ট জ্যৈষ্ঠ কন্ট কষ্ঠ লন্টন লষ্ঠন

ব্যা-এর অপপ্রয়োগঃ

অপপ্রয়োগ শুদ্ধ প্রয়োগ অপপ্রয়োগ শুদ্ধ প্রয়োগ অপপ্রয়োগ শুদ্ধ প্রয়োগ
ব্যাবসায় ব্যবসায় ব্যাথা ব্যথা ব্যাবস্থা ব্যবস্থা
ব্যাবহার ব্যবহার ব্যায় ব্যয় ব্যাবস্থা ব্যবস্থা
ব্যাবহার ব্যবহার ব্যায় ব্যয় ব্যাস্ত ব্যস্ত
ব্যাভিচার ব্যভিচার ব্যাগ্র ব্যগ্র ব্যাতীত ব্যতীত

ব-ফলার এর অপপ্রয়োগঃ

অপপ্রয়োগ শুদ্ধ প্রয়োগ অপপ্রয়োগ শুদ্ধ প্রয়োগ অপপ্রয়োগ শুদ্ধ প্রয়োগ
আয়ত্ত্ব আয়ত্ত স্বাত্ত্বিক সাত্ত্বিক স্বরস্বতী সরস্বতী
ইয়ত্ত্বা ইয়ত্তা স্বচ্ছল সচ্ছল সত্ত্বা সত্তা
স্বস্ত্রীক সস্ত্রীক স্ববিনয়ে সবিনয়ে স্বারকথা সারকথা

বাংলা ভাষা ও সাহিত্য

বাক্যে শব্দের অপপ্রয়োগ ও শুদ্ধ প্রয়োগঃ

অপপ্রয়োগঃ পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারদিকে ঘূর্ণীয়মান।

শুদ্ধ প্রয়োগঃ পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারদিকে ঘূর্ণায়নমান।

অপপ্রয়োগঃ রফিক সাংঘাতিক মেধাবী।

শুদ্ধ প্রয়োগঃ রফিক অত্যন্ত মেধাবী।

অপপ্রয়োগঃ বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল রাষ্ট্র।

শুদ্ধ প্রয়োগঃ বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্র।

অপপ্রয়োগঃ রতন মিয়া মামলার সাক্ষী দেবে।

শুদ্ধ প্রয়োগঃ রতন মিয়া মামলার সাক্ষ্য দেবে।

অপপ্রয়োগঃ মেয়েটি ভয়ানক সুন্দরী।

শুদ্ধ প্রয়োগঃ মেয়েটি অনিন্দ্য সুন্দরী।

অপপ্রয়োগঃ অশ্রুজলে বুক ভেসে গেল।

শুদ্ধ প্রয়োগঃ অশ্রুতে বুক ভেসে গেল।

অপপ্রয়োগঃ ইহার আবশ্যক নাই।

শুদ্ধ প্রয়োগঃ ইহার আবশ্যকতা নাই।

অপপ্রয়োগঃ আমি অপমান হয়েছি।

শুদ্ধ প্রয়োগঃ আমি অপমানিত হয়েছি।

অপপ্রয়োগঃ ঘটনা বর্ণনা হয়েছে।

শুদ্ধ প্রয়োগঃ ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।

অপপ্রয়োগঃ তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।

শুদ্ধ প্রয়োগঃ তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে।

অপপ্রয়োগঃ কে এই বুদ্ধিমান বালিকা? তাকে ডেকে আন।

শুদ্ধ প্রয়োগঃ কে এই বুদ্ধিমতী বালিকা? তাকে ডেকে আন।

অপপ্রয়োগঃ আজকাল বিদ্বান মেয়ের অভাব নেই।

শুদ্ধ প্রয়োগঃ আজকাল বিদূষী মেয়ের অভাব নেই।

শব্দের বিশিষ্ট প্রয়োগ

মাথা

মাথা বুদ্ধি মাথা খাওয়া সর্বনাশ করা
মাথা সর্বেসর্বা মাথা খাওয়া শপথ করা
মাথা দেওয়া অংশগ্রহণ করা মাথা খাটানো বুদ্ধি খাটানো
মাথা দেওয়া দায়িত্ব গ্রহণ মাথা গরম করা রাগান্বিত হওয়া
মাথা গোঁজা আশ্রয় মাথা ঘামানো চিন্তা করা
মাথা হেঁট করা লজ্জায় মাথা নিচু করা মাথায় ঢোকা বোধগম্য হওয়া
মাথা ধরা রোগ বিশেষ মাথায় হাত বুলানো ফাঁকি দেওয়া
মাথা ব্যথা আগ্রহ মাথাপিছু জনপ্রতি
মাথা কাটা যাওয়া সম্মানহীন রাস্তার মাথায় মিলন স্থলে
গাঁয়ের মাথা মোড়ল রাগের মাথায় হঠাৎ ক্রোধবশত

মুখ

মুখ রক্ষা সম্মান বাঁচানো মুখ খারাপ গালি
মুখ করা গাল মন্দ করা মুখ ভার গম্ভীর
মুখ ছুটা গালিগালাজের আরম্ভ মুখ সামলানো সাবধানে
মুখ তুলে চাওয়া অনুগ্রহ করা মুখপোড়া নির্লজ্জ

কান

কানে খাটো কম শোনা কান ভারি কুপরামর্শ
কানে তোলা মনোযোগ দেয়া খান খাড়া উৎকর্ণ
কান কাটা নির্লজ্জ কান পাতলা অতি বিশ্বাসী

চোখ

চোখের চামড়া লজ্জা চোখ রাঙ্গানো রাগ দেখানো
চোখ টাটানো ঈর্ষা চোখ রাখা দৃষ্টি রাখা
চোখ ফোটা জ্ঞান হওয়া চক্ষুদান চুরি করা

কাঁচা

কাঁচা অসিদ্ধ কাঁচা অল্প বয়স
কাঁচা অপরিপক্ক কাঁচা অস্থায়ী
কাঁচা অদক্ষ কাঁচা মাটির তৈরি

পাকা

পাকা পরিপক্ক পাকা ইটের তৈরি
পাকা অভিজ্ঞ/দক্ষ পাকা সাদা
পাকা স্থায়িত্ব    

কথা

কথা পরামর্শ কথা আদেশ
কথা সাধারণ বাক্যালাপ কথা মতের মিল
কথা ওয়াদা কথা বকুনি

কাটা

কাটা খণ্ড বা টুকরো করা কাটা বিক্রি হওয়া
কাটা দূর হওয়া কাটা এড়িয়ে চলা
কাটা অতিবাহিত হওয়া কাটা বিপদ দূর হওয়া
কাটা লজ্জা পাওয়া    

লাগা

লাগা থামা লাগা আঘাত
লাগা অংশগ্রহণ লাগা শত্রুতা
লাগা অনুভূত হওয়া লাগা প্রয়োজন

ধরা

ধরা পড়া অসৎ কাজের জন্য আটকে যাওয়া কলম ধরা লেখালেখি শুরু করা
মনে ধরা পছন্দ হওয়া রোগে ধরা আক্রান্ত হওয়া
দোষ ধরা ভুল ধরা দাম ধরা মূল্য নির্ধারণ

বানান ও বাক্য শুদ্ধি

বানান শুদ্ধি

অশুদ্ধ শুদ্ধ অশুদ্ধ শুদ্ধ
অদ্যপি অদ্যাপি মনকষ্ট মনঃকষ্ট
মনযোগ মনোযোগ লজ্জাষ্কর লজ্জাকর
অপ্সরী অপ্সরা সতর্কিত সতর্ক
সুকেশিনী সুকেশী সখ্যতা সখ্য
দোষণীয় দূষণীয় ঐক্যতা ঐক্য
ভৌগলিক ভৌগোলিক পিচাশ পিশাচ
দৃর্গ দুর্গ ভূল ভুল
সন্নাসী সন্ন্যাসী শংসপ্তক সংশপ্তক
সামর্থ সামরর্থ্য মুখস্ত মুখস্থ
চন্ডিদাস চণ্ডীদাস হরিৎ হরিত
দেবীদাস দেবিদাস কালীদাস কালিদাস
ব্যধি ব্যাধি কীর্তিবাস কৃত্তিবাস
অর্ধাঙ্গিনী অর্ধাঙ্গী অকালপক্ক অকালপক্ব
অনাথিনী অনাথা অকালকুস্মাণ্ড অকালকুষ্মাণ্ড
অগ্নুৎপাত অগ্ন্যুৎপাত অতিথী অতিথি
অত্যাধিক অত্যধিক উৎকর্ষতা উৎকর্ষ
কাংখিত কাঙ্ক্ষিত কৌতূক কৌতুক
জলতাঙ্ক জলতঙ্ক কৌতুহল কৌতূহল
জোৎস্না জ্যোৎস্না জলোচ্ছাস জলোচ্ছাস
প্রভ্যুতপন্নমতি প্রত্যুৎপন্নমতি দারিদ্রতা দরিদ্রতা/দারিদ্র্য
ভীবিষিকা বিভীষিকা দারিদ্রতা দরিদ্রতা/দারিদ্র্য
ব্যাতীত ব্যতীত পিপিলিকা পিপীলিকা
বয়ঃজেষ্ঠ্য বয়োজ্যেষ্ঠ বয়সন্ধি বয়ঃসন্ধি
ভবিষ্যৎবাণী ভবিষ্যদ্বাণী ভৎসনা ভৎসনা
মনিষি মনীষি মুহূর্মুহূ মুহুর্মুহু
মরীচীকা মরীচিকা মুহুর্ত মুহূর্ত
মরুদ্যান মরূদ্যান মধুসুদন মধুসূদন
মধ্যাহ্ণ মধ্যাহ্ন যক্ষা যক্ষ্মা
যশলাভ যশোলাভ ইতিপূর্বে ইতোপূর্বে
শশীভূষণ শশিভূষণ শ্রদ্দাস্পাদাসু শ্রদ্ধাস্পদেষু
শশ্রুষা শুশ্রূষা শিরোচ্ছেদ শিরশ্ছেদ
সান্তনা সান্ত্বনা ষাম্মাসিক ষাণ্মাষিক
সন্নাসী সন্ন্যাসী স্বায়ত্বশাসন স্বায়ত্তশাসন
সমীচিন সমীচীন স্বরস্বতী সরস্বতী
ঐশর্য ঐশ্বর্য স্বত্ত্বাধিকার স্বত্বাধিকার

বাক্য শুদ্ধি

অশুদ্ধ : আমি, তুমি ও সে কাল সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ দেখিতে যাব।

শুদ্ধ : সে, তুমি ও আমি কাল সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ দেখতে যাব।

অশুদ্ধ : লক্ষী মেয়ে যারা ছিল, তারা এখন ঘোড়া চরছে।

শুদ্ধ : যারা লক্ষী ছিল, তারা এখন ঘোড়া চরছে।

অশুদ্ধ : শাড়ি পরা সবুজ মেয়েটিকে আমি চিনি।

শুদ্ধ : সবুজ শাড়ি পরা মেয়েটিকে আমি চিনি।

অশুদ্ধ : এখানে খাঁটি গরুর দুধ পাওয়া যায়।

শুদ্ধ : এখানে গরুর খাঁটি দুধ পাওয়া যায়।

অশুদ্ধ : আশ্চর্য কথা তো আগে এমন শুনিনি

শুদ্ধ : এমন আশ্চর্য কথা তো আগে শুনিনি

অশুদ্ধ : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অন্যতম বাংলা ভাষার কবি।

শুদ্ধ : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা ভাষার অন্যতম কবি।

অশুদ্ধ : জীবনে পালাক্রমে সুখ আসে দুঃখ।

শুদ্ধ : জীবনে সুখ-দুঃখ পালাক্রমে আসে ।

অশুদ্ধ : সেখানে গেলে তুমি অপমান হবে

শুদ্ধ : সেখানে গেলে তুমি অপমানিত হবে

অশুদ্ধ : সূর্য উদয় হয়েছে।

শুদ্ধ : সূর্য উদিত হয়েছে।

অশুদ্ধ : আমি সন্তোষ হলাম

শুদ্ধ : আমি সন্তুষ্ট হলাম

অশুদ্ধ : একথা শুনে আমি বিস্ময় হয়েছি।

শুদ্ধ : একথা শুনে আমি বিস্মিত হয়েছি।

অশুদ্ধ : যুক্তি খণ্ডন হয়েছে।

শুদ্ধ : যুক্তি খণ্ডিত হয়েছে।

অশুদ্ধ : একথা অবশেষে প্রমাণ হয়েছে।

শুদ্ধ : একথা অবশেষে প্রমাণিত হয়েছে।

অশুদ্ধ : তোমার গোপন কথা শোনা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।

শুদ্ধ : তোমার গোপনীয় কথা শোনা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।

অশুদ্ধ : অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতুহল ভালো নয়।

শুদ্ধ : অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতুহল ভালো নয়।

অশুদ্ধ : আবশ্যকীয় ব্যয়ে কাপর্ণ্য অনুচিত।

শুদ্ধ : আবশ্যক ব্যয়ে কাপর্ণ্য অনুচিত।

অশুদ্ধ : সমৃদ্ধমান পরিবারে তার জন্ম।

শুদ্ধ : সমৃদ্ধ পরিবারে তার জন্ম।

অশুদ্ধ : স্বন্ত্রীক আসবেন।

শুদ্ধ : সন্ত্রীক আসবেন।

অশুদ্ধ : অন্যায়ের প্রতিফল দুর্নিবার্য

শুদ্ধ : অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য

অশুদ্ধ : সাগরের অতলে প্রবাল থাকে।

শুদ্ধ : সাগরের তলে প্রবাল থাকে।

অশুদ্ধ : মাতৃবিয়োগে তিনি শোকানলে মগ্ন।

শুদ্ধ : মাতৃবিয়োগে তিনি শোকানলে দগ্ধ।

অশুদ্ধ : বহু ঘরে ঘরে ভাত নেই।

শুদ্ধ : বহু ঘরে/ঘরে ঘরে ভাত নেই।

অশুদ্ধ : এইসব মানুষগুলির কোন ঠিকানা নেই।

শুদ্ধ : এসব মানুষের কোন ঠিকানা নেই।

অশুদ্ধ : সলজ্জিত হাসি হেসে মেয়েটির উত্তর দিল।

শুদ্ধ : সলজ্জ(লজ্জিত) হাসি হেসে মেয়েটি উত্তর দিল।

অশুদ্ধ : সকলসভ্যগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।

শুদ্ধ : সকল সভ্য সভায় উপস্থিত ছিলেন।

অশুদ্ধ : বমালশুদ্ধ চোর গ্রেপ্তার হয়েছে।

শুদ্ধ : বমাল চোর গ্রেপ্তার হয়েছে।

অশুদ্ধ : বাহুল্যতা বর্জন করা উচিত।

শুদ্ধ : বাহুল্য বর্জন করা উচিত।

অশুদ্ধ : আমি এ ঘটনা চাক্ষুস প্রত্যক্ষ করেছি।

শুদ্ধ : আমি এ ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছি।

অশুদ্ধ : সে ভিড়ে অন্যান্যদের মধ্যে হারিয়ে গেল।

শুদ্ধ : সে ভিড়ে হারিয়ে গেল।

অশুদ্ধ : সব ছেলেগুলোকে ডাক।

শুদ্ধ : সব ছেলেকে ডাক।

অশুদ্ধ : দেশের সব আলেমগণ এখানে উপস্থিত।

শুদ্ধ : দেশের সব আলেম এখানে উপস্থিত।

অশুদ্ধ : সেদিন সবাই নিজ দায়িত্ব পালন করেছে।

শুদ্ধ : সেদিন সবাই নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করেছে।

অশুদ্ধ : তার জ্যৈষ্ঠ পুত্র ও কনিষ্ট কন্যা বিদেশে গিয়াছে।

শুদ্ধ : তার জ্যেষ্ঠপুত্র ও কনিষ্ঠ কন্যা বিদেশে গেছে।

অশুদ্ধ : সে স্কুলটি পরিদেখা করতে এলো।

শুদ্ধ : সে স্কুলটি পরিদর্শন করতে এলো।

অশুদ্ধ : আড় নয়নে সে তাকাল

শুদ্ধ : আড় নজরে সে তাকাল

অশুদ্ধ : অনাসৃজনে গা ভাসিয়ে লাভ নেই।

শুদ্ধ : অনাসৃষ্টিতে গা ভাসিয়ে লাভ নেই।

অশুদ্ধ : কী হিতু এসেছ,তুনি, কহ বিস্তারিয়া।

শুদ্ধ : কী হেতু এসেছ,তুনি, কহ বিস্তারিয়া।

অশুদ্ধ : সত্য বহি মিথ্যা বলিব না।

শুদ্ধ : সত্য বই মিথ্যা বলিব না।

অশুদ্ধ : সে কানেতে শোনে না

শুদ্ধ : সে কানেত শোনে না

অশুদ্ধ : দরজাতে হাতি বাঁধা আছে।

শুদ্ধ : দরজায় হাতি বাঁধা আছে।

অশুদ্ধ : আমার পিপাসা হয়েছে।

শুদ্ধ : আমার পিপাসা লেগেছে।

অশুদ্ধ : তাহার কি তোমার মনে পড়ে?

শুদ্ধ : তাহাকে কি তোমার মনে পড়ে?

অশুদ্ধ : বাঘে-গরুরে এক ঘাটে পানি খায়।

শুদ্ধ : বাঘে-গরুতে এক ঘাটে পানি খায়।

অশুদ্ধ : কারোর জন্যই দৈন্যতা কাংখিত হতে পারে না

শুদ্ধ : কারোর জন্যই দৈন্য কাঙ্ক্ষিত হতে পারে না

অশুদ্ধ : রচনাটির উৎকর্ষতা অনস্বীকার্য

শুদ্ধ : রচনাটির উৎকর্ষ অনস্বীকার্য

অশুদ্ধ : তার কথার সঙ্গে কাজের সামঞ্জস্যতা নেই।

শুদ্ধ : তার কথার সঙ্গে কাজের সামঞ্জস্য নেই।

অশুদ্ধ : ইহার আবশ্যক নাই।

শুদ্ধ : ইহার আবশ্যকতা নাই।

অশুদ্ধ : ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভাঙ্গে।

শুদ্ধ : ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে।

অশুদ্ধ : শকুনের চোখ ময়লার দিকে।

শুদ্ধ : শকুনের চোখ ভাগাড়ের দিকে।

অশুদ্ধ : পরে দর্শন দারি,আগে গুণ বিচারী।

শুদ্ধ : পরে দর্শনদারি, আগে গুণবিচারী।

অশুদ্ধ: একের লাঠি, দশের বোঝা।

শুদ্ধ : দশের লাঠি, একের বোঝা।

অশুদ্ধ : মুমুর্ষ লোকটির সাহায্য করা উচিত।

শুদ্ধ : মুমুর্ষ লোকটিকে সাহায্য করা উচিত।

অশুদ্ধ : তোমার কটুক্তি শুনিয়া তিনি মর্মাহত হয়েছেন।

শুদ্ধ : তোমার কটুক্তি শুনে তিনি মর্মাহত হয়েছেন।

অশুদ্ধ : পুকুর পরিস্কারের জন্য কর্তৃপক্ষ পুরস্কার ঘোষনা করেছে।

শুদ্ধ : পুকুর পরিস্কারের জন্য কর্তৃপক্ষ পুরস্কার ঘোষণা করেছে।

অশুদ্ধ : বানান ভূল দোষণীয়।

শুদ্ধ : বানান ভুল দোষণীয়।

অশুদ্ধ : তার দূরাবস্থা দেখে দুঃখ হয়।

শুদ্ধ : তার দূরবস্থা দেখে দুঃখ হয়।

অশুদ্ধ : আজ অপরাহ্নে তিনি আসবেন।

শুদ্ধ : আজ অপরাহ্ণে তিনি আসবেন।

অশুদ্ধ : আমার আর বাঁচিবার স্বাদ নেই।

শুদ্ধ : আমার আর বাঁচিবার স্বাদ নেই।

অশুদ্ধ : পুরাণ চাল ভাতে বাড়ে।

শুদ্ধ : পুরাণ চালে ভাত বাড়ে।

অশুদ্ধ : তুমি ছাড়া এ কাজ হবে না।

শুদ্ধ : তোমাকে ছাড়া এ কাজ হবে না।

অশুদ্ধ : দরিদ্র অন্ন দাও।

শুদ্ধ : দরিদ্রকে অন্ন দাও।

অশুদ্ধ : তাহার কথা বিশ্বাস কী?

শুদ্ধ : তাহার কথায় বিশ্বাস কী?

অশুদ্ধ : জ্ঞানি মুর্খ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর।

শুদ্ধ : জ্ঞানী মুর্খ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।

অশুদ্ধ : হিমালয় পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা বৃহত্তর পর্বত।

শুদ্ধ : হিমালয় পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা উচ্চ পর্বত।

অশুদ্ধ : বিদ্বান মুর্খ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর।

শুদ্ধ : বিদ্বান মুর্খ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।

অশুদ্ধ : লোকটি দরিদ্র এবং সৎ

শুদ্ধ : লোকটি দরিদ্র কিন্তু সৎ

অশুদ্ধ : না খেয়ে মরব বরং তবু চুরি করব না।

শুদ্ধ : বরং না খেয়ে মরব তবু চুরি করব না।

অশুদ্ধ : তিনি ধনী ছিলেন এবং সুখী ছিলেন না।

শুদ্ধ : তিনি ধনী ছিলেন কিন্তু সুখী ছিলেন না।

অশুদ্ধ : নতুন নতুন ছেলেগুলো স্কুলে বড় উৎপাত করে।

শুদ্ধ : নতুন ছেলেগুলো স্কুলে বড় উৎপাত করে।

অশুদ্ধ : কলেজের সকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী নয়।

শুদ্ধ : কলেজের সকল ছাত্র পাঠে মনোযোগী নয়।

অশুদ্ধ : ছাত্রীগণের মধ্যে অনুপস্থিতের সংখা কম।

শুদ্ধ : ছাত্রীদের মধ্যে অনুপস্থিতের সংখা কম।

অশুদ্ধ : মেয়েটি সুকেশিনী এবং সুহাসি।

শুদ্ধ : মেয়েটি সুকেশী এবং সুহাসিনী।

অশুদ্ধ : হে ত্রিনয়নী, আমাকে রক্ষা কর।

শুদ্ধ : হে ত্রিনয়না, আমাকে রক্ষা কর।

অশুদ্ধ : অভাগা মেয়েটিকে নিয়ে বড় বিপদে পড়েছি।

শুদ্ধ : অভাগী মেয়েটিকে নিয়ে বড় বিপদে পড়েছি।

অশুদ্ধ : তার কনিষ্ঠ মেয়েটি বেশ সরলা।

শুদ্ধ : তার কনিষ্ঠা মেয়েটি বেশ সরল।

অশুদ্ধ : মেয়েটি যেমন তড়িৎকর্মা তেমনি সুন্দর।

শুদ্ধ : মেয়েটি যেমন করিৎকর্মা তেমনি সুন্দরী।

অশুদ্ধ : বিগত পরীক্ষায় প্রথম হবার জন্য সে চেষ্টা করছে।

শুদ্ধ : আগামি পরীক্ষায় প্রথম হবার জন্য সে চেষ্টা করছে।

অশুদ্ধ : মেয়েটি পড়াইতেছে না তাহা আমি লক্ষ করি নাই।

শুদ্ধ : মেয়েটি পড়িতেছে না তাহা আমি লক্ষ করি নাই।

অশুদ্ধ : তাহারা সেখানে যাই।

শুদ্ধ : তাহারা সেখানে যায়।

অশুদ্ধ : হীন চরিত্র লোক পশ্বাধম।

শুদ্ধ : চরিত্রহীন লোক পশ্বধম।

অশুদ্ধ : পাতায় পাতায় পড়ে শিশির নিশির।

শুদ্ধ : পাতায় পাতায় পড়ে নিশির শিশির।

অশুদ্ধ : আশা করি ভাল আছ তুমি।

শুদ্ধ : আশা করি তুমি ভাল আছ।

অশুদ্ধ : গাড়ি গিয়ে পাই নি স্টেশনে।

শুদ্ধ : স্টেশনে গিয়ে গাড়ি পাইনি।

অশুদ্ধ : তার পিতামাতা নেই।

শুদ্ধ : তার মাতাপিতা নেই।

অশুদ্ধ : সে এই ব্যাপারে সর্ম্পুণ নির্দোষী।

শুদ্ধ : সে এই ব্যাপারে সর্ম্পুণ নির্দোষ।

অশুদ্ধ : অঙ্ক কষিতে ভুল করিও না।

শুদ্ধ : অঙ্ক ভুল করিও না।

অশুদ্ধ : দৈন্যতা প্রশংসনীয় নয়।

শুদ্ধ : দৈন্য/দীনতা প্রশংসনীয় নয়।

অশুদ্ধ : সৎ চরিত্রবান লোক সকলের প্রিয়।

শুদ্ধ : চরিত্রবান লোক সকলের প্রিয়।

অশুদ্ধ : ধৈর্যতা, সহিষ্ণুতা মহত্ত্বের লক্ষণ।

শুদ্ধ : ধৈর্য, সহিষ্ণুতা মহত্ত্বের লক্ষণ।

অশুদ্ধ : তাদের মধ্যে বেশ সখ্যতা দেখতে পাই।

শুদ্ধ : তাদের মধ্যে বেশ সখ্য দেখতে পাই।

অশুদ্ধ : তুমি কি সেখানে গিয়েছিলে।

শুদ্ধ : তুমি কি সেখানে গিয়েছিলে?

অশুদ্ধ : আমি সেখানে যাব না?

শুদ্ধ : আমি সেখানে যাব না।

অশুদ্ধ : বাহ? কী সুন্দর দৃশ্য।

শুদ্ধ : বাহ!কী সুন্দর দৃশ্য।

অশুদ্ধ : শপথ নিলাম- পাস করবই।

শুদ্ধ : শপথ নিলাম: পাস করবই।

অশুদ্ধ : একের লাঠি দশের বোঝা।

শুদ্ধ : দশের লাঠি একের বোঝা।

অশুদ্ধ : দশ চক্রে ঈশ্বর ভূত।

শুদ্ধ : দশ চক্রে ভগবান ভূত।

অশুদ্ধ : মনে রেখ, এক পৌষে শীত যায় না।

শুদ্ধ : মনে রেখ, এক মাঘে শীত যায় না।

অশুদ্ধ : এ বৎসর বর্ষার জল বৃদ্ধি হয়েছে।

শুদ্ধ: এ বৎসর বর্ষার জল বৃদ্ধি পেয়েছে।

অশুদ্ধ : ব্র্যাধিগ্রস্ত লোকের সংস্পর্শ বর্জন করিবে।

শুদ্ধ : ব্যাধিগ্রস্ত লোকের সংস্পর্শ বর্জন করবে।

অশুদ্ধ : কন্যার বাপ সবুর করিতে পারতেন।

শুদ্ধ : কন্যার বাপ সবুর করতে পারতেন।

অশুদ্ধ : মেয়ের বয়স বাড়িয়া গেছে।

শুদ্ধ : মেয়ের বয়স বেড়ে গেছে।

অশুদ্ধ : মেয়েরা উঠানে বিচালি কাটছে, ছাগল বাঁধিতেছে।

শুদ্ধ : মেয়েরা উঠানে বিচালি কাটছে, ছাগল বাঁধছে।

অশুদ্ধ : তার কথা স্মৃতিপটে জাগরূক থাকবে।

শুদ্ধ : তার কথা স্মৃতিপটে অঙ্কিত থাকবে।

অশুদ্ধ : সে সংকট অবস্থায় পড়েছে।

শুদ্ধ : সে সংকটজনক অবস্থায় পড়েছে।

অশুদ্ধ : তার সাঙ্ঘাতিক আনন্দ হল।

শুদ্ধ : তার অপরিসীম আনন্দ হল।

অশুদ্ধ : হস্তীটি অপরিসীম স্থুল।

শুদ্ধ : হস্তীটি অত্যন্ত স্থুলকায়।

অশুদ্ধ : বঙ্কিমচন্দ্রের ভয়ঙ্কর প্রতিভা ছিল।

শুদ্ধ : বঙ্কিমচন্দ্রের অসাধারণ প্রতিভা ছিল।

অশুদ্ধ : অধীনস্থ কর্মচারীরা করেছে।

শুদ্ধ : অধীন কর্মচারীরা করেছে।

অশুদ্ধ : দুষ্কৃতকারীরা সমাজের শত্রু।

শুদ্ধ : দুষ্কৃতকারী সমাজের শত্রু।

অশুদ্ধ : নিরপরাধী ব্যক্তিকে ক্ষমা কর।

শুদ্ধ : নিরপরাধ ব্যক্তিকে ক্ষমা কর।

বাংলা ভাষা ও সাহিত্য

পরিভাষা

মূল শব্দ            পারিভাষিক শব্দ মূল শব্দ            পারিভাষিক শব্দ
Agenda আলোচ্যসূচী Efficiency কর্মদক্ষতা
Ambassador রাষ্ট্রদূত Ethics নীতিবিদ্যা
Approval অনুমোদন Extreme চরম
Acknowledgement প্রাপ্তি স্বীকার Endorsement সত্যায়ন
Act আইন Enforcement শক্তিপ্রয়োগ
Absconder ফেরারি Enterprise উদ্যোগ
Ad hoe তদর্থক Epidemic মহামারি
Abolition বিলোপ সাধন Evidence সাক্ষ্য,প্রমাণ
Audit নিরীক্ষা Episode উপকাহিনী
Aeronautics বিমানবিদ্যা Fascism ফাসিবাদ
Aesthetics নন্দনতত্ত্ব Fiction কথাসাহিত্য
Affidavit হলফনামা Forestry বনবিদ্যা
Affiliation সমন্ধীকরণ Forgery জলিয়াতি
Alien বিদেশি,বহিরাগত Free market মুক্তবাজার
Allegation অভিযোগ Gazette ঘোষণাপত্র
Alliance মৈত্রীজোট Global বিশ্বব্যাপী
Amalgamation সংমিশ্রণ Hostile শত্রুঋভাবাপন্ন
Archaeology প্রত্নতত্ত্ব Handicraft হস্তশিল্প
Ambiguous দ্ব্যর্থক,অস্পষ্ট Imperialism সাম্রাজ্যবাদ
Anatomy শারীরবিদ্যা Industriasation শিল্পায়ন
Anthropology নৃতত্ত্ব Justice ন্যায় বিচার
Intellectual বুদ্ধিজীবী Knight সম্ভ্রান্ত বংশীয়
Apartheid বর্ণবৈষম্য Logic যুক্তিবিদ্যা
Appendix পরিশিষ্ট Manifesto ইশতেহার
Assassination গুপ্তহত্যা Manuscript পান্ডুলিপি
Assessment নির্ধারণ Materialism বস্তুবাদ
Attestation সত্যায়ন Meteorology আবহবিদ্যা
Auction নিলাম Monetary policy মুদ্রানীতি
Astronomy জ্যোতির্বিদ্যা Mivority সংখ্যালঘু
Annexure ক্রোড়পত্র Monarchy রাজতন্ত্র
Autonomous স্বায়ত্তশাসিত Mythology পুরানতত্ত্ব
Ballad গীতিকা North star ধ্রুবতারা
Bankrupt দেউলিয়া Nazism নাৎসিবাদ
Banquet ভোজসভা Non aligned জোট নিরপেক্ষ
Barter বিনিময় Non cooperation অসহযোগ
Blue print প্রতিচিত্র Nomads যাযাবর
Broker দালাল Ombudsman ন্যায়পাল
Bureaucracy আমলাতন্ত্র Osteology অস্থিবিজ্ঞান
Bookpost খোলাডাক Pen name ছদ্মনাম
Booklet পুস্তিকা Philology ভাষাতত্ত্ব
Bonafide প্রকৃত, বিশ্বস্ত Phonetics ধ্বনিবিদ্যা
Census আদমশুমারি Progressive প্রগতিশীল
Crown মুকুট Pshcholgy মনোবিদ্যা
Custody হেফাজত Quarterly ত্রৈমাসিক
Cold war স্নায়ুযুদ্ধ Rationalism যুক্তিবাদ
Compensation ক্ষতিপূরণ Referenum গণভোট
Callgraphy হস্তলিপিবিদ্যা Socialism সমাজতন্ত্র
Capitalism পুজিঁবাদ Statistics পরিসংখ্যান
Care taker তত্ত্বাবধায়ক Subsidiary সম্পূরক
Chornological কালানুক্রমিক Successor উত্তরাধিকারী
Civik action দেওয়ানি মামলা Terminolgy পারিভাষিক শব্দ
Colony উপনিবেশ Universal বিশ্বজনীন
Copyright গ্রন্থস্বত্ব Underdeveloped অনুন্নত
Civil wae গৃহযুদ্ধ Up to date হালনাগাদ
Dictator একনায়ক Wisdom প্রজ্ঞা
Dialect উপভাষা Withness প্রমাণ
Diplomat কূটনীতিক Walk out সভাবর্জন
Dyarchy দ্বৈতশাসন Walk over অনায়াসে বিজয়
Disarmament নিরস্ত্রীকরণ War criminal যুদ্ধাপরাধী

সমার্থক ও বিপরীতার্থক শব্দ

সমার্থক শব্দ

ঝড় ঝটিকা, বাত্যা, প্রবলবায়ু, ঘূর্ণিঝড়।
পাপ পাতক, কলুষ, দুষ্কর্ম।
ধন বিত্ত, অর্থ, সম্পদ, বিভব, বৈভব, বিভূতি, নিধি।
দিবস দিবা, দিনমান, অযামিনী, অহনা, অহ্ন।
যুদ্ধ সংগ্রাম, সমর, আহব, বিগ্রহ, রণ।
বন্ধু সখা, মিত্র, সুহূদ, বান্ধব।
শত্রু অরাতি, অরি, বৈরি, রিপু, প্রতিপক্ষ।
অগ্নি আগুন, অনল, হুতাশন, শিখা, দহন, পাবক, বহ্নি।
অন্ধকার আঁধার, তিমির, তমসা, তমঃআঁধি।
অশ্ব ঘোড়া, ঘোটক, বাজী, তুরগ, তুরঙ্গ।
আকাশ গগন, নভঃ, আসমান, অন্তরীক্ষ, দ্যুলোক, ব্যোম, শূন্যলোক
উর্মি ঢেউ, তরঙ্গ, উদ্বেল, বিপুল, কল্লোল, বীচি।
কেশ চুল, কবরী, চিকুর, কুন্তল, অলক।
কিরণ রশ্মি, জ্যোতি, প্রভা, দীপ্রি, আলোক, দ্যুতি, বিভা।
খবর সংবাদ, বার্তা, তথ্য, সন্দেশ, সন্ধান।
বিটপী গাছ, তরু, পাদপ, উদ্ভিদ, মহীরুহ, বৃক্ষ, অরবী।
গা শরীর, গাত্র, দেহ, তনু, কায়া, অবয়ব।
চক্ষু চোখ, আঁখি, নয়ন, লোচন, নেত্র, অক্ষি।
চাঁদ চন্দ্র, বিধু, শশাঙ্ক, শশধর, নিশাকর, সুধাংশু, হিমাংশু।
জল অম্বু, জীবন, নীর, পানি, সলিল।
সমুদ্র অর্ণব, দরিয়া, পাথার, সাগর, সিন্ধু, জলধি, জলনিধি, পারাবার, বারিধি।
ঝরনা ফোয়ারা, নির্ঝর, জলধারা।
ঠোঁট অধর, ওষ্ঠ, চষ্ণু।
সূর্য আদিত্য, তপন, দিবাকর, ভাস্কর, মার্তন্ড, রবি, সবিতা, আফতাব, অর্ক, ভানু, প্রভাকর, দিনমণি, দিনপতি
তনয় পুত্র, ছেলে, বাছা, বৎস, বেটা
নদী স্রোতস্বিনী, স্রোতস্বতী, তটিনী, প্রবাহিনী, কল্লোলিনী, তরঙ্গিনী, শৈবালিনী।
পদ্ম পঙ্কজ, সরোজ, কমল, উৎপল, শতদল।
পর্বত অচল, আদ্রি, ভূধর, শৈল, পাহাড়, গিরি, শূঙ্গ, শিখরী, মহীন্দ্র।
পাখি পক্ষী, বিহগ, বিহঙ্গ, খেচর, শকুন্ত ।
পৃথিবী ধরণী, দুনিয়া, জগৎ, ধরা, ক্ষিতি, অবনী, বসুন্ধরা, বসুমতি, ভুবন, ভুলোক।
সাপ ভুজঙ্গ, অহি, আশীবিষ, ফণী, সর্প, ভুজগ, উরগ, নাগ।
বন অরণ্য, কানন, কুঞ্জ, অটবী, গহন, জঙ্গল।
বাতাস বাসু, পবন, হাওয়া, সমীরণ, সমীর, অনিল।
বিদ্যুৎ বিজলি, তড়িৎ, ক্ষণপ্রভা, সৌদামিনী, চপলা, শম্পা।
মেঘ বলাহক, বারিদ, জলদ, জলধর, নীরদ, অম্বুদ।
রাত্রী নিশি, নিশা, রাত, রজনী, যামিনী, শর্বরী, নিশীথিনী।
ললাট কপাল, ভাগ্য, অদৃষ্ট, ভাগ্যলিপি, তিলক।
সিংহ কেশরী, মৃগরাজ, পশুরাজ, মৃগেন্দ্র, সিঙ্গি।
হাত কর, বাহু, ভুজ, পাণি, হস্ত।
হাতী করী, কুঞ্জর, গজ, নাগ, নাতঙ্গ, হস্তী।
অনীক সৈনিক
অপলাপ অস্বীকার
বিরাগী উদাসীন
ইচ্ছা অভিলাস, অভিপ্রায়, বাসনা, কামনা, সাধ, আগ্রহ, মনোরত, অভিরুচি।
গৃহ আলয়, নিলয়, নিকেতন, সদনআগার, ঘর, ধাম, বাটী, নিবাস।
শিষ্টাচার সদাচার

বিপরীতার্থক শব্দ

শব্দ বিপরীতার্থক শব্দ শব্দ বিপরীতার্থক শব্দ
ক্ষীয়মান বর্ধমান তাপ শৈত্য
স্থাবর অস্থাবর/জঙ্গম সংশয় প্রত্যয়
বন্ধন মুক্তি সৌম্য উগ্র
চপল গম্ভীর উদার সংকীর্ণ
অর্বাচীন প্রাচীন কোমল কর্কশ
অনুগ্রহ নিগ্রহ বিদিত অজ্ঞাত
স্থির চঞ্চল ক্ষুদ্র বৃহৎ
যশ অপযশ শূন্য পূর্ণ
নশ্বর অবিনশ্বর বিদ্বান মূর্খ্য
দাতা গ্রহীতা দীর্ঘ হ্রস্ব
তারুণ্য বার্ধক্য গ্রহন বর্জন
কর্কশ কোমল এঁড়ে বকনা
ঋজু বক্র উৎকর্ষ অপকর্ষ
উম্মীলন নির্মীলন উন্নতি অবনতি
ইদানিং তদানিং ইতর ভদ্র
আর্বিভাব তিরোভাব আর্দ্র শুষ্ক
অপচয় উপচয় অনুরক্ত বিরক্ত
অগ্র পশ্চাৎ অনন্ত সান্ত
অন্তরঙ্গ বহিরঙ্গ আরোহন অবরোহন
অনুলোপ প্রতিলোপ আচার অনাচার
আগমন গমন আনকোরা পুরানো
আদি অন্ত আলসে চটপটে
‌আস্থা অনাস্থা ইহলোক পরলোক
ইহা উহা উত্তমর্ণ অধমর্ণ
উজান ভাটি উৎসাহ নিরুৎসাহ
উষ্ণ শীতল ওস্তাদ শাগরেদ/শিষ্য
এলোমেলো গোছালো কৃত্রিম স্বাভাবিক
ওঠা নামা খরা ছাওয়া
কপট অকপট খুঁত নিখুঁত
খোঁজ নিখোঁজ ঘাত প্রতিঘাত
গুরু শিষ্য আকুঞ্চন প্রসারণ
চেতন অচেতন জোয়ার ভাটা
জীবিত মৃত জেতা ঠকা
জাগরিত নিদ্রিত টানা পোড়েন
টাটকা বাসি দুর্বল সবল
দুষ্ট শিষ্ট ধনবান ধনহীন
নাস্তিক আস্তিক নিরাকার সাকার
পালক পালিত প্রকৃত বিকত
বাদী বিবাদী ব্যর্থ সার্থক
ভূত ভাবী মানী মানহীন
পথ বিপথ বিরত রত
মহৎ নীচ মৃদু প্রবল
শিষ্ট অশিষ্ট সরস কুটিল
সাধু তস্কর সুশ্রী বিশ্রী
হিত অহিত লায়েক নালায়েক
স্বতন্ত্র পরতন্ত্র স্মৃতি বিস্মৃতি

ধ্বনি

ধ্বনি: ভাষার মূল উপাদান- ধ্বনি,ধ্বনিই ভাষার ক্ষুদ্রতম একক। ভাষার মৌলিক ধ্বনিগুলো স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি এ দুই প্রকার।

১. স্বরধ্বনি: স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় ফুসফুস তাড়িত বাতাস বেরিয়ে যেতে মুখবিবরের কোথাও বাধা পায় না। যেমন-অ, আ, ই, ঈ ঈত্যাদি।

  • স্বরধ্বনিকে দুই প্রকার মৌলিক ও যৌগিক স্বরধ্বনি।
  • যেসব স্বরধ্বনি অন্য স্বরধ্বনির সহযোগ ছাড়াই উচ্চারিত হতে পারে সেগুলোই মৌলিক স্বরধ্বনি বলে, মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি হলো- অ, আ, অ্যা, ই, উ, এ ,ও।
  • দুটি মৌলিক স্বরধ্বনি সহযোগে উচ্চারিত স্বরধ্বনিকে যৌগিক স্বরধ্বনি বলে।যৌগিক স্বরধ্বনি ২টি হলো- ঐ(ও+ই),ঔ(ও+উ)
  • উচ্চারণের কাল অনুসারে স্বরধ্বনি হ্রস্বস্বর ও দীর্ঘস্বর এই দুই প্রকার।
  • যেসব স্বরধ্বনি উচ্চারণে কম সময় লাগে তাদেরকে হ্রস্ব স্বরধ্বনি বলে। হ্রস্বস্বর ৪টি হলো- অ, ই, উ, ঋ।
  • যেসব স্বরধ্বনি উচ্চারণে কিছুটা বেশি সময় লাগে তাদেরকে দীর্ঘস্বর বলে।দীর্ঘস্বর ৭টি হলো- আ, ঈ, ঊ, এ, ঐ, ও, ঔ।

স্বরধ্বনির অন্যান্য শ্রেণিবিভাগ:

  • ই, উ সংবৃত স্বরধ্বনি।
  • অ, আ বিবৃত স্বরধ্বনি।
  • ই, এ সম্মুখস্থ স্বরধ্বনি।
  • অ, আ, উ, ও পশ্চান্তগন্থ স্বরধ্বনি।

২. ব্যঞ্জন ধ্বনিঃ যে সকল ধ্বনি উচ্চারণের সময় ফুসফুস তাড়িত বাতাস বেরিয়ে যেতে মুখবিবরের কোথাও না কোথাও কোনো প্রকার বাধা পায় কিংবা ঘর্ষণ লাগে, তাদেরকে বলা হয় ব্যঞ্জনধ্বনি (Consonance Sonud)। যেমনঃ ক, চ, ট, ত, গ ইত্যাদি।

উচ্চারণের স্থানভেদে ব্যঞ্জনধ্বনির বিভাগঃ

উচ্চারণ স্থান উচ্চারণ স্থান অনুযায়ী নাম ব্যঞ্জনধ্বনির বর্ণসমূহ
জিব্হামূল কণ্ঠ বা জিহ্বামূলীয় বর্ণ ক খ গ ঘ ঙ
অগ্রতালু তালব্য বর্ণ চ ছ জ ঝ ঞ শ ষ য়
পশ্চাৎ দন্তমুল মূর্ধন্য বা পশ্চাৎ দন্তমূলীয় বর্ণ ট ঠ ড ঢ ণ ষ র ড় ঢ়
অগ্র দন্তমূল দন্তা বর্ণ ত থ দ ধ ন ল স
ওষ্ঠা ওষ্ঠ্য বর্ণ প ফ ব ভ ম

ব্যঞ্জনধ্বনি প্রকারভেদঃ

১. স্পর্শ ধ্বনিঃ কণ্ঠ, তালু মুর্ধা, দন্ত্য, ওষ্ঠ্য স্পর্শ করে যে ধ্বনি উচ্চারিত হয় তাকে স্পর্শ ধ্বনি বলে। ক থেকে ম পর্যন্ত পঁচিশটি স্পর্শ ধ্বনি ৫ ভাগে বিভক্ত।

উচ্চারণ স্থান অঘোষ ঘোষ
অল্পপ্রাণ মহাপ্রাণ অল্পপ্রাণ মহাপ্রাণ নাসিক্য
কণ্ঠ
তালু
মূর্ধ
দন্ত্য
ওষ্ঠ্য

মনে রাখুনঃ বর্গের প্রথম ও দ্বিতীয়বর্ণ অঘোষ এবং তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ণ ঘোষ।

বর্গের প্রথম ও দ্বিতীয়বর্ণ অল্পপ্রাণ এবং বর্গের দ্বিতীয় ও চতুর্থ বর্ণ মহাপ্রাণ।

উচ্চারণের স্থানভেদে ব্যঞ্জনধ্বনির প্রকারভেদঃ

বর্ণ উচ্চারণ স্থান অনুযায়ী নাম ব্যঞ্জনধ্বনির বর্ণসমূহ
ক-বর্গীয় বণ্ঠ্য বা জিহ্বামূলীয় বর্ণ ক খ গ ঘ ঙ
চ- বর্গীয় তালব্য বর্ণ চ ছ জ ঝ ঞ
ট- বর্গীয় মূর্ধন্য বা পশ্চাৎ দন্তমূলীয় বর্ণ ট ঠ ড ঢ ণ
ত- বর্গীয় দন্ত্য বর্ণ ত থ দ ধ ন
প- বর্গীয় ওষ্ঠ্য বর্ণ প ফ ব ভ ম

ক. অল্পপ্রাণ ধ্বনিঃ কোনো কোনো ধ্বনি উচ্চারণের সময় নিঃশ্বাস জোরে সংযোজিত হয় না। এরুপ ধ্বনিকে অল্পপ্রাণ ধ্বনি বলে। যেমনঃ ক, গ ইত্যাদি।

খ. মহাপ্রাণ ধ্বনিঃ কোনো কোনো ধ্বনি উচ্চারণের সময় নিঃশ্বাস জোরে সংযোজিত হয়। এরুপ ধ্বনিকে মহাপ্রাণ ধ্বনি বলা হয়। যেমনঃ খ, ঘ ইত্যাদি।

গ. অঘোষ ধ্বনিঃ  কোনো কোনো ধ্বনি উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী অনুরণিত হয় না। তখন ধ্বনিটির উচ্চারণ গাম্ভীর্যহীন মৃদু হয়। এরুপ ধ্বনিকে বলা হয় অঘোষ ধ্বনি। যেমনঃ ক,খ ইত্যাদি।

ঘ. ঘোষ ধ্বনিঃ ধ্বনি উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী অনুরণিত হলে ঘোষ ধ্বনি হয়। যেমনঃ গ, ঘ ইত্যাদি।

ঙ. নাসিক্য ধ্বনিঃ যে বর্ণ উচ্চারণকালে নাক দিযে ফুসফুস তাড়িত বাতাস বের হয় এবং উচ্চারণের সময় নাসিকার আংশিক সাহায্য পায় তাকে নাসিক্য ধ্বনি বলে। নাসিক্য বর্ণ ৫টি। যেমনঃ ঙ, ঞ, ণ, ন, ম।

২. অস্তঃস্থ ধ্বনিঃ স্পর্শ বা উষ্ম ধ্বনির অন্তরে অর্থাৎ মাঝে আছে বলে এগুলোকে অন্তঃস্থ ধ্বনি বলা হয়। যেমনঃ য, র, ল।

৩. উষ্ম ধ্বনিঃ যে ব্যঞ্জনের উচ্চারণের বাতাস মুখবিহ্বরের কোথাও বাধা না পেলে কেবল ঘর্ষণপ্রাপ্ত হয় এবং শিশ ধ্বনির সৃষ্টি করে, সেটি উষ্ম বা শিশ ধ্বনি। যেমনঃ শ, ষ, স, হ-এ ৪টি উষ্মবর্ণ। শ, ষ, স-এ তিনটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি অঘোষ অল্পপ্রাণ এবং ‘হ’ ঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি।

৪. অযোগবাহ ধ্বনিঃ অন্য বর্ণের সঙ্গে যোগ রেখে যে ধ্বনিগুলোর প্রয়োগ হয় তাদের অযোগবাহ ধ্বনি বলে। যেমনঃ ং এবং ঃ।

ব্যঞ্জনধ্বনির অন্যান্য শ্রেণিবিভাগঃ

  • র, হ-কে কম্পনজাত ধ্বনি বলে।
  • ং, ঃ কে পরাশ্রয়ী বর্ণ বলে।
  • ল বর্ণের দ্যোতিত ধ্বনি হচ্ছে পার্শ্বিক ধ্বনি।
  • ড় ও ঢ় বর্ণের দ্যোতিত ধ্বনি তাড়নজাত ধ্বনি।
  • চন্দ্রবিন্দুকে (”) অনুনাসিক ধ্বনি বলে।

ধ্বনি পরিবর্তন

উচ্চারণের সময় সহজীকরণের প্রবগতায় শব্দের মূল ধ্বনির যেসব পরিবর্তন ঘটে তাকে ধ্বনি পরিবর্তন বলা হয়।

বিভিন্ন প্রকার ধ্বনি পরিবর্তনঃ

১. আদি স্বরাগমঃ কোনো কারণে শব্দের প্রথমে ব্যঞ্জনধ্বনির আগে কোন স্বরধ্বনির আগমন হলে তাকে আদি স্বরাগম বলে। যেমন। স্কুল>ইস্কুল, স্টেশন>ইস্টিশন, স্ত্রী>ইস্ত্রী

২. মধ্য স্বরাগমঃ মধ্য স্বরাগমে সাধারণত সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। যেমনঃ শ্লোক>শোলক, স্বপ্ন>স্বপন।

৩. অপিনিহিতঃ অপিনিহিতের ক্ষেত্রে পরের ই-কার বা উ-কার আগে চলে আসে। যেমনঃ আজি>আইজ, চারি>চাইর, সাধু>সাউধ। আবার য ফলার অন্তর্নিহিত ই ধ্বনিরও অপনিহিতি ঘটে। যেমনঃ সত্য> সইত্য, কন্যা>কইন্যা।

৫. অসমীকরণঃ একই স্বরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে স্বরধ্বনি যুক্ত হলে তাকে অসমীকরণ বলে। যেমনঃ টপ+টপ>টপাটপ, ধপ+ধপ>ধপাধপ।

৬. স্বরসঙ্গতিঃ একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলা হয়। যেমনঃ মুলা>মুলো, বিলাতি>বিলিতি, দেশি>দিশি।

৭. সম্প্রকর্ষঃ উচ্চারণের দ্রুততার জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে সম্প্রকর্ষ বলা হয়। যেমনঃ জানালা> জানলা, সুবর্ণ>স্বর্ণ, আশা>আশ।

৮. ধ্বনি বিপর্যয়ঃ শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর স্থান পরিবর্তনকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে। যেমনঃ পিশাচ, লাফ>ফাল, (ইংরেজি)বাক্স> (বাংলা)বাস্ক, (জাপানি)রিক্ সা> (বাংলা) রিস্ কা।

৯. সমীভবনঃ মৌলিক বাংলায় সমীভবণের প্রচলন বেশি। আর সমীভবনে দুটো ধ্বনি একে অপরের প্রভাব সমতা লাভ করে। যেমনঃ জন্ম>জন্ম, তৎ+হিত>তদ্ধিত, কাঁদনা>কান্না।

১০. বিষমীভবনঃ বিষমীভবনের ক্ষেত্রে দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তন ঘটে। যেমনঃ লাল > নাল, শরীর > শরীল।

১১. ব্যঞ্জন বিকৃতিঃ শব্দের মধ্যে কোনো কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তন হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হলে তাকে ব্যঞ্জন বিকৃতি বলে বলা হয়। যেমনঃ ধাইমা > দাইমা, কবাট > কপাট।

১২. অন্তর্হতি:  পদের মধ্যে কোন ব্যঞ্জন লোপ হলে অন্তর্হতি হয়। যেমনঃ ফলাহার > ফলার, ফাগুন > ফাগুন, আলাহিদা > আলাদা।

১৩. ব্যঞ্জনচ্যুতি: সমউচ্চচারণের দুটো ব্যঞ্জনধ্বনি থেকে একটি লোপ পাওয়াকে বলে ব্যঞ্জনচ্যুতি। যেমনঃ বউদিদি > বউদি, বড়দাদা > বড়দা ।

১৪. অভিশ্রুতিঃ বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে অভিশ্রুতি বলে। যেমনঃ শুনিয়া > শুনে, চলিয়া > চলে, হাটুয়া > হাউটা > হেটো।

১৫. র-কার লোপ: আধুনিক চলিত ভাষায় অনেক ক্ষেত্রে র-কার লোপ পায় এবং পরবর্তী ব্যঞ্জন দ্বিত্ব হয়। যেমনঃ তর্ক > তক্ক, মারল > মাল্ল, করতে > কত্তে।

১৬. হ-কার লোপঃ আধুনিক চলিত ভাষায় অনেক সময় দু স্বরের মাঝামাঝি হ-কারের লোপ হয়। যেমনঃ- পুরোহিত > পুরুত, গাহিল > গাইল, চাহে > চায়।

বর্ণ

  • ভাষার মূল উপাদান ধ্বনি আর ধ্বনি নিদের্শক চিহ্নকে বলা হয় বর্ণ।
  • “ধ্বনি দিয়ে আট বাঁধা শব্দই ভাষার ইট” এই ইটকে বাংলা ভাষায় বলে- বর্ণ।
  •  ভাষার বর্ণসমষ্ঠিকে বলা হয়– বর্ণমালা।  
  • যে বর্ণমালায় বাংলা ভাষা লিখিত হয় তাকে বলা হয়- বঙ্গলিপি।
  • স্বল্পতম প্রশ্বাসে শব্দের যতটুকু অংশ উচ্চারিত হয়, তাকে অক্ষর বলে। যেমনঃ ‘আম’ শব্দটিতে দুটি বর্ণ আ, ম রয়েছে, কিন্তু অক্ষর আছে একটি।
  • বাংলা বর্ণমালায় মোট ৫০টি বর্ণ রয়েছে। তার মধ্যে স্বরবর্ণ ১১টি ও ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি।
  • স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে বলে-কার, ব্যঞ্জনবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে বলে ফলা।

মাত্রার উপর ভিত্তি করে বর্ণ তিন প্রকারঃ

  • মাত্রাহীন বর্ণ ১০টি                      এ ঐ ও ঔ            ঙ, ঞ্‌, ৎ, ং, ঃ      

                                           (স্বরবর্ণ ৪টি)         (ব্যঞ্জনবর্ণ ৬টি)  

  • অর্থমাত্রার বর্ণ ৮টি             ঋ                    খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ                                                  (স্বরবর্ণ ১টি)            (ব্যঞ্জনবর্ণ ৭টি)
  • পূর্ণমাত্রার বর্গ ৩২টি  (স্বরবর্ণ ৬টি + ব্যঞ্জনবর্ণ ২৬টি)
উচ্চারণ স্থান অঘোষ ঘোষ
  অল্পপ্রাণ মহাপ্রাণ অল্পপ্রাণ মহাপ্রাণ নাসিক্য
কন্ঠ
তালু
মূর্ধা
দন্ত্য
ওষ্ঠ্য
  • বর্গের প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ণ ও অঘোষ এবং তৃতীয় ও চতুর্থ বর্গ ঘোষ।
  • বর্গের প্রথম ও তৃতীয় বর্ণ অল্পপ্রাণ এবং বর্গের দ্বিতীয় ও চতুর্থ বর্ণ মহাপ্রাণ।
  • পরাশ্রয়ী ধ্বনি- ং ঃ
  • নাসিক্য ধ্বনি- ঙ ঞ ণ ন ম।
  • উষ্মধ্বনি-শ ষ স হ।
  • অন্তস্থ ধ্বনি-য র ল ব।
  • যৌগিক স্বরজ্ঞার্প দুটো বর্ণ- ঐ(অ+ই), ও (অ+ উ) ।  

যুক্তবর্ণ

ক্ষ ক + ষ রক্ষা, ক্ষমা ক্ষ হ + ম ব্রক্ষ, ব্রাক্ষণ
জ্ঞ্র জ + ঞ জ্ঞান, বিজ্ঞান ঞ্জ ঞ + জ গঞ্জ, মঞ্জূষা
ঞ্চ ঞ + চ মঞ্চ, সঞ্চয় ঞ্ছ ঞ + ছ বাঞ্ছিত, বাঞ্ছনীয়
শ্রু শ + র + উ অশ্রু, শ্রুতি শ্রূ শ + র + ঊ শুশ্রূষা
হ্ন হ + ন মধ্যাহ্ন, সায়াহ্ন হ্ণ হ + ণ পূর্বাহ্ণ, অপরাহ্ণ
ষ্ণ ষ+ণ উষ্ণতা, তৃষ্ণা      

শব্দ

  • শব্দের ক্ষুদ্রতম একক ধ্বনি।
  • ভাষার ক্ষুদ্রতম একক ধ্বনি।
  • বাক্যের ক্ষুদ্রতম একক শব্দ।  
গঠন ভাবে শব্দ দুই প্রকার
মৌলিক শব্দ সাধিত শব্দ  
তিন, লাল, গোলাপ হাত + ল = হাতল, চল + অন্ত = চলন্ত।  
অর্থগতভাবে শব্দ তিন প্রকার
যৌগিক শব্দ রূঢ়ি শব্দ যোগরূঢ় শব্দ  
গায়ক, কর্তব্য,  বাবুয়ানা, মধুর, দৌহিত্র বাঁশি, তৈল, প্রবীণ, পাঞ্জাবী, সন্দেশ, কালি। পঙ্কজ, রাজপুত, মহাযাত্রা, জলধি।  
সগতভাবে শব্দ ৫ প্রকার
তৎসম/সংস্কৃত শব্দ চন্দ্র, সূর্য, নক্ষত্র, পাত্র, ভবন, মনুষ্য, হস্ত, বৃক্ষ, ভাতা, ভগ্নি, ধর্ম, পুষ্প, পিতা, মাতা, কর্মকার, চমৎকার, কৃষ্ণ, মস্তক, ঘৃত, রাত্রি, সন্ধ্যা, কর্ম, পর্বত, অল্প, অদ্য, কল্য, মুক্তি, পুত্র।  
অর্ধতৎসম শব্দ জ্যোছনা, ছেরাদ্দ, গিন্নী, বোষ্টম, কুচ্ছিত, কেষ্ট, চন্দর, গতর, বিষ্টু, তেষ্টা, হথ, নেমন্তন, সু্য্যি, পুরুত, পেন্নাম, মশায়।  
তদ্ভব শব্দ মা, হাত, চাঁদ, চামার, পা, ঘি, কামার, দুধ, সব।  
দেশি শব্দ কুলা, গঞ্জ, টোপর, চোঙ্গা, ডাব, ডাগর, ডিঙ্গা, ঢেঁকি, ধামা, খেয়া, খোটা, বাদুল, চুলা, ডিঙ্গা, ঝাড়, নারিকেল, পিছা, ঝোল, খোল, ডিঙ্গি, ঝিঙা, পাংসা, ঝাড়, ডাসা, ঝাউ, ঝাঁটা, ঢিল, খাদা, বোচা, ঝিনুক, কাতলা, চিংড়ি, চাউল, কালা, বোবা, মুড়ি।  
বিদেশি শব্দঃ  
আরবি শব্দঃ তুফান, মর্সিয়া, আল্লাহ, হারাম, হালাল, কলম, জান্নাত, জাহান্নাম।  
ফারসি শব্দঃ খোদা, নামাজ, তারিখ, বেহেশ্ত, দোজখ, রোজা, চশমা, পেরেশান, জিন্দাবাদ।  
পর্তুগিজ শব্দঃ আনারস, আলকাতরা, পিস্তল, কেরানি, পেয়ারা, আলপিন, আলমারি, গীর্জা, গুদাম, চাবি,   পাউরুটি, পাদ্রি, বালতি, জানালা।  
ফরাসি শব্দঃ কার্তুজ, কুপন, ডিপো, ক্যাপে, রেস্তোরাঁ, রেনেসাঁ, প্রোগ্রাম, আতাঁত, বুর্জোয়া।  
ওলন্দাজঃ ইস্কাপন, টেককা, তুরুক, রুইতন, হরতন।  
গুজরাটিঃ খদ্দর, হরতাল।
পাঞ্জাবিঃ চাহিদা, শিখ।
তুর্কিঃ চাকর, চাকু, তোপ, দারোগা, বাবুর্চি, কাঁচি, বন্ধুক, বাবা, লাশ, উজবুক।
চিনাঃ চা, চিনি।
মায়ানমার (বার্মি): ফুঙ্গি, লুঙ্গি।
জাপানিঃ রিক্সা, হারিকেন, হারাকিরি, জুডো, হাস্নাহেনা।
মেক্সিকো শব্দঃ চকোলেট।
হিন্দি শব্দঃ  পানি, ফালতু, দাদা।
জার্মান শব্দঃ কিন্ডার গারটেন।
গ্রিক শব্দঃ দাম, কোণ।
ইতালিয়ান শব্দঃ সনেট, ম্যাজেন্টা।
সিংহলী শব্দঃ বেরিবেরি, সিডর।
মিশ্র শব্দঃ চৌ-হদ্দি, (ফারসি + আরবি), বেটাইম (ফারসি + ইংরেজি), খ্রিষ্টাব্দ (ইংরেজি  + তৎসম), হাট-বাজার (বাংলা + ফারসি), পকেটমার (ইংরেজি + বাংলা)।

পদ

  • বিভক্তিযুক্ত শব্দ মাত্রই পদ; পদ ৫ প্রকার- বিশেষ্য, বিশেষ্‌ সর্বনাম, অব্যয় ও ক্রিয়া।
  • কোন কিছুর নামকে বিশেষ্য পদ বলে।
  •  যে পদ বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ,  অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ ইত্যাদি প্রকাশ করে তাকে বিশেষণ পদ বলে।
  •  বিশেষ্যের পরিবর্তে যে পদ বা শব্দ ব্যবহৃত হয়, তাকে সর্বনাম পদ বলে।
  •  যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থেকে কখনও বাক্যের শোভা বর্ধন করে, কখনও একাধিক পদের, বাক্যাংশের বা বাক্যের সংযোগ বা বিয়োগ সম্বন্ধ ঘটায় তাকে অব্যয় পদ বলে।
  • যে পদ দ্বারা কোন কার্য সম্পাদন করা বুঝায় তাকে ক্রিয়াপদ বলে।
  • বিভক্তিহীন নাম পদকে প্রাতিপাদিক বলা হয়।
  • ‘নদী’ হল জাতিবাচক বিশেষ্য।
  • ‘তারুণ্য’ হলো গুণবাচক বিশেষ্য। ‘ইচ্ছা’ বিশেষ্যের বিশেষণ হল ঐচ্ছিক; ‘সন্ধ্যা’ শব্দের বিশেষণ সান্ধ্য ।
  • ‘এ মাটি সোনার বাড়া’ এখানে ‘সোনা’ বিশেষণের অতিশায়ন ।
  • তুমি এতক্ষণ কী করেছ? এখানে ‘কী’ সর্বনাম পদ ।

বাক্য

  • যে সুবিন্যস্ত পদসমষ্টি দ্বারা কোন বিষয়ে বক্তার মনোভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকাশিত হয়, তাকে বাক্য বলে।
  •  বাক্যের নিম্নলিখিত ৩টি গুণ থাকা আবশ্যক- আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি, যোগ্যতা।
  •  বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার ইচ্ছাকে আকাঙ্ক্ষা বলে।
  •  বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃংখল পদবিন্যাসই আসত্তি।
  •  বাক্যস্থিত পদসমূহের অর্থগত এবং ভাবগত মিলবন্ধনের নাম যোগ্যতা।
  •  গঠন অনুসারে বাক্য ৩ প্রকার- সরল, জটিল ও যৌগিক বাক্য।                   

বাক্য রূপান্তরঃ

সরল বাক্য : তার বয়স বাড়লেও বুদ্ধি বাড়েনি।
জটিল বাক্য : তার বয়স বেড়েছে, বুদ্ধি বাড়েনি।
যৌগিক বাক্য : তার বয়স বেড়েছে, কিন্তু বুদ্ধি বাড়েনি।
সরল বাক্য : দরিদ্র হলেও তাঁর অন্তঃকরণ অতিশয় উচ্চ।
জটিল বাক্য : যদিও তিনি অত্যন্ত দরিদ্র, তথাপি তাঁর অন্তঃকরণ অতিশয় উচ্চ।
যৌগিক বাক্য : তিনি অত্যন্ত দরিদ্র, কিন্তু তাঁর অন্তঃকরণ অতিশয় উচ্চ।
সরল বাক্য : দোষ স্বীকার করলে তোমাকে কোন শাস্তি দেবো না।
জটিল বাক্য : যদি দোষ স্বীকার কর, তাহলে তোমাকে কোন শাস্তি দেব না।
যৌগিক বাক্য : যদি দোষ স্বীকার কর, তোমাকে কোন শাস্তি দেব না।
সরল বাক্য : কাল সে আসলে আমি যাব।
জটিল বাক্য : যদি সে কাল আসে, তাহলে আমি যাব।
যৌগিক বাক্য : সে কাল আসবে এবং আমি যাব।
সরল বাক্য : সেকাল যদি সে কাল আসে তাহলে আমি যাব।
জটিল বাক্য : সেকাল যদি সে কাল আসে তাহলে আমি যাব।
সরল বাক্য : মেঘ গর্জন করলে ময়ূর নৃত্য করে।
জটিল বাক্য : যদি মেঘ গর্জন করে, তাহলে ময়ূর নৃত্য করে। 
যৌগিক বাক্য : মেঘ গর্জন করে, তবে ময়ূর নৃত্য করে।
সরল বাক্য : মিথ্যা কথা বলার জন্য তোমার পাপ হবে।
জটিল বাক্য : যেহেতু তুমি মিথ্যা বলেছ, সেহেতু তোমার পাপ হবে।
যৌগিক বাক্য : তুমি মিথ্যা বলেছ, সুতরাং তোমার পাপ হবে।
সরল বাক্য : সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছি।
জটিল বাক্য : যেহেতু আমি সত্য কথা বলিনি, সেহেতু আমি বিপদে পড়েছি।
যৌগিক বাক্য : সত্য কথা বলিনি, তাই বিপদে পড়েছি।
সরল বাক্য : সে পরিশ্রমই হলেও নির্বোধ।
জটিল বাক্য : যদিও সে পরিশ্রমী তথাপি নির্বোধ।
যৌগিক বাক্য : সে পরিশ্রমী বটে, কিন্তু নির্বোধ।
সরল বাক্য : পড়াশোনা করলে জীবনে উন্নতি করতে পারবে।
জটিল বাক্য : যদি পড়াশোনা কর, তাহলে জীবনে উন্নতি করতে পারবে।
যৌগিক বাক্য : পড়াশোনা কর, তবে জীবনে উন্নতি করতে পারবে।
সরল বাক্য : লোভ পরিত্যাগ কর, তুমি সুখে থাকবে।
জটিল বাক্য : যদি লোভ পরিত্যাগ কর, তাহলে সুখে থাকবে।
যৌগিক বাক্য : পানিতে নামলে সাঁতার শিখতে পারবে।
জটিল বাক্য : যদি পানিতে নামো, তবে সাঁতার শিখতে পারবে।
যৌগিক বাক্য : পানিতে নামো, তবে সাঁতার শিখতে পারবে।
সরল বাক্য : রক্ষকই ভক্ষক।
জটিল বাক্য : যে রক্ষক সেই ভক্ষক।
যৌগিক বাক্য : সেই রক্ষক, অথচ সেই ভক্ষক।

প্রত্যয়

  • কোনো মৌলিক শব্দের যে অংশকে আর কোনোভাবেই বিভক্ত বা বিশ্লেষণ করা যায় না, তাকে প্রকৃতি বলে।
  •  যে বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি ধাতু বা শব্দ (প্রাতিপাদিক) এর পর যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে, তাকে প্রত্যয় বলে ।
  • প্রত্যয় দুই প্রকার। যেমনঃ কৃৎ প্রত্যয় ও তদ্ধিত প্রত্যয়।

নিম্নে কিছু প্রত্যয় এর উদাহরণ দেওয়া হলোঃ

বহতা = বহ্ + তা নন্দন = নন্দি + অন
যুদ্ধ = যুধ্ + ক্ত জয় = জী + অল
হেয় = হা + য বাংলাদেশী = বাংলাদেশ + ঈ
শক্তি = শক্  + ক্তি চৈত্র = চিত্র + ষ্ণ
দাতা = দা + তৃচ কৌমার্য = কুমার = ষ্ণ > য
গীতি = গৈ + ক্তি দ্রাঘিমা = দীর্ঘ + ইমন
মুটে = মোট + এ লাগব = লঘু + ষ্ণ
গৌরব = গুরু + ষ্ণ সভ্য = সভা + য়
জলুয়া = জল + উয়া পার্বত্য = পর্বত + ষ্ণ্য
হাতা = হাত + আ নাগর = নগর + ষ্ণ
শীতল = শীত + ল ছেলেপনা = ছেলে + পনা
সুখী = সুখ + ঈন গুণবান = গুন = বতুপ
সেলামী = সেলাম + ঈ বৎসল = বৎস + ল
সার্বভৌম = সর্বভূমি + ষ্ণ > অ শৈশব = শিশু + ষ্ণ
জেলে = জাল + ইয়া সাহিত্যিক = সাহিত্য + ষ্ণি > ইক
বর্গাদার = বর্গা + দার প্রাচ্য = প্রাচী + য
কারক = কৃ + ণক চাকরানী = চাকর + আনী
গমন = গম্  + অন গায়ক = গৈ + ণক
ক্ষয়িষ্ণু = ক্ষি + ইষ্ণু মুক্ত = মুচ্  + ত
পানসে = পানস + এ মেধাবী = মেধা + বিন
উক্তি = বচ্  + ক্তি ঠগী = ঠগ + ঈ
দোলনা = দুল্ + অনা নীলিমা = নীল + ইমন
পঠিত = পঠ্ + ক্ত নীলিমা = নীল + ইমন
হৈমন্তিক = হেমন্ত + ষ্ণি > ইক মেছো = মাছ + উয়া > ও
সর্বজনীন = সর্বজন + নীন > ঈন কুলীন = কুল + নীল > ঈন
মিথ্যুক = মিথ্যা + উক সহিষ্ণু = সহ্ + ইষ্ণু
কর্তব্য = কৃ + তব্য বৈমাত্রেয় = বিমাতৃ + ষ্ণেয় > এয়
বর্তমান = বৃৎ + মান বর্ধমান = বৃধ্ + শানচ
শ্রবণ = শ্রু + অন মনুষ্য = মনুঃ + ষ্ণা

সন্ধি

  • সন্ধি শব্দের অর্থ মিলন। পাশাপাশি দুটি বর্ণের  মিলনকে সন্ধি বলে ।
  • সন্ধির উদ্দেশ্য হল উচ্চারণের সুবিধা ও ধ্বনিগত মাধুর্য সৃষ্টি ।
  • সন্ধি আলোচনা করা হয়- ধ্বনিতত্ত্বে।

গুরুত্বপূর্ণ সন্ধি

সাহচর্য = সহচর + য বাগাড়ম্বর = বাক + আড়ম্বর লবণ = লো + অন
জনৈক = জন + এক পুরাধ্যক্ষ = পুর + অধ্যক্ষ দর্শনীয় = দৃশ + অনীয়
ষড়ঋতু = ষট + ঋতু রত্নাকর = রত্ন + আকর অন্বেষণ = অনু + এষণ
যাচ্ছেতাই = যা + ইচ্ছা + তাই পরীক্ষা = পরি + ঈক্ষা চলচ্চিত্র = চলৎ + চিত্র
অতীত = অতি + ইত ইত্যাদি = ইতি + আদি উচ্ছ্বাস = ­­­­­উৎ + শ্বাস
প্রত্যেক = প্রতি + এক তন্বী = তনু + ঈ  পদ্ধতি = পদ + হতি
কুজঝটিকা = কুৎ + ঝটিকা উদ্ধার = উৎ + হার যশোলাভ = যশঃ + লাভ
বাগদান = বাক + দান ব্যর্থ = বি + অর্থ নাবিক = নৌ + ইক
সংবাদ = সম + বাদ ষষ্ঠ = ষষ + থ নায়ক = নৈ + অক
মনোরম = মনঃ + রম ষড়যন্ত্র = ষট + যন্ত্র বৃষ্টি = বৃষ + তি
দুর্যোগ = দুঃ + যোগ শিরশ্ছেদ = শিরঃ + ছেদ পদ্ধতি = পদ + হতি
পর্যালোচনা = পরি + আলোচনা স্বাগত = সু + আগত নিরবধি = নির + অবধি
পাগলামী =  পাগল + আমি বহুৎসব = বহ্নি + উৎসব  সংবিধান = সম + বিধান
পিত্রালয় = পিতৃ + আলয় ক্ষুধার্ত = ক্ষুদা + ঋত মরুদ্যান = মরু + উদ্যান
মস্যাধার = মসী + আধার রাজর্ষি = রাজা + ঋষি জলৌকা = জল + ওকা
পশ্বধম = পশু + অধম মন্বন্তর = মনু + অন্তর নয়ন = নে + অন
পাবক = পৌ + অক প্রত্যেক = প্রতি + এক মিথ্যুক = মিথ্যা + উক
প্রত্যুষ = প্রতি + ঊষ ঘোড়দৌড় = ঘোড়া + দৌড় ভাবুক = ভৌ + উক
একচ্ছত্র = এক + ছত্র উল্লাস = উৎ + লাস উডডীন = উৎ + ডীন
শঙ্কা = শম + কা তদ্রুপ = তৎ + রূপ সংস্কার = সম + কার
সন্তাপ = সম + তাপ ক্ষুৎপিপাসা = ক্ষুধ + পিপাসা নিজন্ত = নিচ + অন্ত
পদস্থলন = পদঃ খলন দৈহিতা = দুতিতা + ষ্ণ্য অত্যন্ত = অতি + অন্ত
অত্যাধিক = অতি + অধিক গায়ক = গৈ + অক গবেষণা = গো + এষণা
তৃষ্ণার্ত = তৃষ্ণা + ঋত নবান্ন = নব + অন্ন বিদ্যালয় = বিদ্যা + আলয়
যথেষ্ট = যথা + ইষ্ট দোলনা = দুল + আনা বিচ্ছিন্ন = বি + ছিন্ন
সন্ধান = সম + ধান চতুরঙ্গ = চতুঃ + অঙ্গ দুর্যোগ = দুঃ + যোগ
নিরস = নিঃ + রস পুরস্কার = পুরঃ + কার মনোযোগ = মনঃ + যোগ
ধনুষ্টংকার = ধনুঃ + টঙ্কার নিষ্ঠা = নিঃ + ঠা অহরহ = অহঃ + অহ
  • নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি

নিপাতনে সিদ্ধ শব্দটি ব্যাকরণে প্রচলিত শব্দ। সন্ধির ক্ষেত্রে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি হলে কোন নিয়ম অনুযায়ী নিষ্পন্ন না হওয়া। নিম্নে কতিপয় স্বর, ব্যঞ্জন ও বিসর্গ- নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ দেওয়া হলো।

  • নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি
কুল + অটা = কুলটা অন্য + অন্য = অন্যান্য গো + অক্ষ = গবাক্ষ
শুদ্ধ + ওদন = শুদ্ধোদন প্র + ঊঢ় = প্রৌঢ় মার্ত + অণ্ড = মার্তণ্ড
রক্ত + ওষ্ঠ = রক্তোষ্ঠ সীমন + অত = সীমন্ত শার + অঙ্গ = শারঙ্গ
  • নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি
বৃহ + পতি = বৃহস্পতি এক + দশ = একাদশ ষট + দশ = ষোড়শ
তৎ + কার = তস্কর দিব্ + লোক = দ্যুলোক গো + পদ = গোষ্পদ
মনস + ঈষা = মনীষা পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি আ + চর্য = আশ্চর্য
বন + পতি = বনস্পতি পর + পর = পরস্পর  

মনে রাখার কৌশলঃ বৃহস্পতিবার একাদশ এবং ষোড়শ তস্কর মিলে দ্যুলোকের যে গোষ্পদ ও বনস্পতি ধ্বংস করেছে, মনীষা ও পতঞ্জলি তাদের চিনতে পেরে আশ্চর্য হয়ে পরস্পরের দিকে তাকালেন।

  • বিশেষ নিয়মে সাধিত ব্যঞ্জনসন্ধি
সম + কৃত = সংস্কৃত সম + কার = সংস্কার পরি + কার = পরিষ্কার
উৎ + স্থাপন = উত্থাপন পরি + কৃত = পরিষ্কৃত সম + কৃতি = সংস্কৃতি
উৎ + স্থান = উত্থান    

মনে রাখার কৌশলঃ সংস্কৃত ভাষা সংস্কার না করে পরিষ্কারভাবে উত্থাপন করায় এক পরিস্কৃত  সংস্কৃতির উত্থান হয়।

  • নিপাতনে সিদ্ধ বিসর্গসন্ধি
প্রাতঃ + কাল = প্রাতঃকাল মনঃ + কষ্ট = মনঃকষ্ট শিরঃ + পীড়া = শিরঃপীড়া
অহঃ + অহ = অহঅহ ভাঃ + কার = ভাস্কর প্রাতঃ + আশ = প্রাতরাশ
অহঃ + নিশা = অহর্নিশ আঃ + পদ = আস্পদ হরিঃ + চন্দ্র = হরিশ্চন্দ্র

সমাস

  • সমাস অর্থ- সংক্ষেপ, মিলন, একাধিকপদের একপদীকরণ। সমাস ভাষাকে সংক্ষেপ করে।  
  • সমাসের রীতি সংস্কৃত থেকে বাংলায় এসেছে।
  • সমাসবদ্ধ বা সমাস নিষ্পন্ন পদটির নাম সমস্ত পদ। যেমনঃ সিংহাসন।
  •  সমাসবদ্ধ পদের অন্তর্গত প্রতিটি পদকে- সমস্যমান পদ বলে। যেমনঃ ‘সিংহ’, ‘আসন’।
  •  সমাসবদ্ধ পদকে ভেঙে যে বাক্যাংশ করা হয় তাকে- ব্যাসবাক্য, বিগ্রহবাক্য বা সমাস বাক্য বলে। যেমনঃ সিংহ চিহ্নিত আসন।
  • সমাস ছয় প্রকারঃ
  • দ্বন্দ্ব সমাসঃ একই ধরনের দুই বা ততোধিক পদ মিলে একপদ হয় এবং প্রত্যেক পদের অর্থ প্রাধান্য পায়।
সমস্তপদ ব্যাসবাক্য সমাসের নাম
আয়-ব্যয় আয় ও ব্যয়       দ্বন্দ্ব
ভাই-বোন ভাই ও বোন
দম্পতি জায়া ও পতি
দুধ-ভাত দুধ ও ভাত
জমা-খরচ জমা ও খরচ
ছেলে-মেয়ে ছেলে ও মেয়ে
যাকে-তাকে যাকে ও তাকে অলুক দ্বন্দ্ব
সাহেব-বিবি-গোলাম সাহেব, বিবি ও গোলাম বহুপদী দ্বন্দ্ব
  • কর্মধারয় সমাসঃ বিশেষণ বা বিশেষণ ভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা  বিশেষ্য ভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং বিশেষ্যের অর্থ প্রাধান্য পায়।
সমস্ত পদ ব্যাসবাক্য সমাসের নাম
নীলাম্বর নীল যে অম্বর       কর্মধারয়
নীলাকাশ নীল যে আকাশ
নীলপদ্ম নীল যে পদ্ম
শান্তশিষ্ট যে শান্ত সেই শিষ্ট
পলান্ন পল মিশ্রিত অন্ন
মহানবী মহান যে নবী
  • মধ্যপদলোপী কর্মধারয়ঃ মধ্যপদ বা ব্যাসবাক্য লোপ পেয়ে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস হয়।
সমস্ত পদ ব্যাসবাক্য সমাসের নাম  
হাসিমুখ হাসিমাখা মুখ মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
বৌ-ভাত বৌ উপলক্ষে যে ভাত
  • যার সঙ্গে (প্রত্যক্ষ) কোন ব্যক্তি বা বস্তুর তুলনা করা হয় তা উপমান এবং  যাকে (পরোক্ষ) তুলনা করা হয় তা উপমেয় বা উপমিত।
  • উপমান কর্মধারয়ঃ সাধারণ গুণ বা ধর্ম উল্লেখ থাকবে।
ভ্রমর কৃষ্ণ কেশ ভ্রমণের ন্যায় কৃষ্ণ যে কেশ   উপমান কর্মধারয়
তুষার শুভ্র তুষারের ন্যায় শুভ্র
  • উপমিত কর্মধারয়ঃ সাধারণ গুণের উল্লেখ থাকবে না। (‘কি’ দিয়ে প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় না)
সোনা মুখ সোনা তুল্য মুখ   উপমিত কর্মধারয়
মুখচন্দ্র মুখ চন্দ্রের ন্যায়
পুরুষ সিংহ পুরুষ সিংহের ন্যায়
  • রূপক কর্মধারয়ঃ প্রত্যক্ষ করা যায় না এরকম পদ রূপক অর্থে পূর্বে বসে।  
বিষাদ সিন্ধু বিষাদ রূপ সিন্ধু               রূপক কর্মধারয়  
ভবনদী ভব রূপ নদী
মনমাঝি মন রূপ মাঝি
ক্ষুধানল ক্ষুধা রূপ অনল
  • পুরুষ সমাসঃ পূর্ব পদে সব বিভক্তি লোপ পায় এবং পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।
মনগড়া মন দ্বারা গড়া ৩য়া তৎপুরুষ
ঘরছাড়া ঘর থেকে ছাড়া ৫মী তৎপুরুষ
বিলাতফেরত বিলাত হইতে ফেরত ৫মী তৎপুরুষ
রাজহংস হংসের রাজা ৬ষ্ঠী তৎপুরুষ
মনমরা মনে মরা ৭মী তৎপুরুষ
পকেটমার পকেট মারে যে উপপদ তৎপুরুষ
অনাদর ন আদর নঞ তৎপুরুষ
  • বহুব্রীহি সমাসঃ সমস্যমান পদগুলোর কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য ব্যক্তি বা বস্তুকে বুঝায়।
নবান্ন নতুন ধানে যে অন্ন       বহুব্রীহি
দশানন দশ আনন্দ আছে যার
নীলকন্ঠী নীল কণ্ঠ যার
পঙ্কজ পঙ্কে জন্মে যে
বহুব্রীহি বহুব্রীহি আছে যার
সহোদর সমান উদর যাদের
লাঠালাঠি লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ ব্যতিহার বহুব্রীহি
হাতাহাতি হাতে হাতে যে যুদ্ধ
বীণাপাণি বীণা পাণিতে যার ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি
  • দ্বিগু সমাসঃ সংখ্যাবাচক পদের সঙ্গে সমষ্টি অর্থে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয়।
শতাব্দী শত অব্দের সমাহার   দ্বিগু
পঞ্চনদ পঞ্চ নদীর সমাহার
শতবার্ষিকী শত বর্ষের সমাহার
  • অব্যয়ীভাব সমাস: পূর্ব পদে অব্যয় থাকবে এবং অব্যয়ের অর্থ প্রাধান্য পাবে।
হাভাতে ভাতের অভাব            অব্যয়ীভাব
বেহায়া হায়ার অভাব
উপশহর শহরের সদৃশ
প্রতিদিন দিন দিন
আপাদমস্তক পা হতে মাথা পর্যন্ত
উপকণ্ঠ কন্ঠের সমীপে
উপদ্বীপ দ্বীপের সদৃশ
ক্ষণস্থায়ী ক্ষণ কাল ব্যাপীয়া স্থায়ী।  
  • প্রাদি সমাসঃ প্র, প্রতি, অনু প্রভৃতি অব্যয়ের সঙ্গে কৃৎ প্রত্যয় যোগে প্রাদি সমাস হয়। যেমনঃ প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন= প্রবচন। পরি (চতুর্দিকে)যে ভ্রমণ= পরিভ্রমণ।  
  • নিত্য সমাসঃ যে সমাসের সমস্যমান পদগুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না তাকে নিত্য সমাস বলে। যেমনঃ অন্য গ্রাম= গ্রামান্তর, অন্যযুগ= যুগান্তর, তুমি, আমি ও সে= আমরা, দুই এবং নব্বই= বিরানব্বই ।
  • অলুক সমাসঃ পূর্ব পদের বিভক্তি লোপ না হয়ে অলুক সমাস গঠিত হয়।  যেমনঃ হাতে-কলমে, দুধে-ভাতে।

অন্যান্য

 ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধান

ণত্ব বিধানঃ বাংলা ভাষায় প্রচলিত তৎসম শব্দের দন্ত্য ন মূর্ধন্য ণ-তে পরিণত  হওয়ার নিয়মকে ণত্ব বিধান বলে। অর্থাৎ যে বিধান বা নিয়মের সাহায্যে মূর্ধন্য ণ-এর সঠিক ব্যবহার জানা যায় তাকে ণত্ব বিধান বলে।

  • ণত্ব বিধানগুলো নিম্নরূপঃ

১. ঋ (ঋ-কার), র (রেফ, র-ফলা), ষ-এই কটি বর্ণের পরে দন্ত ন মূর্ধন্য ণ হয়। যেমনঃ ঋণ, তৃণ, বরণ, বর্ণ, ভূষণ ইত্যাদি।

২. একই শব্দের মধ্যে ঋ, র, ষ এর যে কোন একটি বর্ণের পর যদি স্বরবর্ণ (অ-ঔ পর্যন্ত), ক-বর্গ (ক-ঙ), প- বর্গ (প-ম), য, ব, হ, ং এর যেকোনো একটি বর্ণ থাকে, তাহলে দন্ত ন হলে মূর্ধন্য ণ হয়। যেমনঃ হরিণ (হ+র+ই+ণ), কৃপণ, শ্রবণ, দর্পণ, গ্রহণ ইত্যাদি। তবে ঋ, র, ষ এর পর উপযুক্ত স্বরবর্ণ,ক- বর্গ য, ব, হ, ং, ভিন্ন অন্য বর্ণ থাকলে দন্ত ন হয়। যেমনঃ নর্তন, দর্শন, প্রার্থনা ইত্যাদি। তাছাড়া দুটি পথ মিলে সমাস গঠিত হলে দন্তন্য হলে মূর্ধন্য ণ হয় না। যেমনঃ সর্বনাম, ত্রিনয়ন ইত্যাদি।

৩. ট-বর্গীয় বর্ণের পূর্বে (অর্থাৎ ট,ঠ,ড,ঢ এর পূর্বে) মূর্ধন্য ণ হয়। যেমনঃ কন্টক, লুণ্ঠন,খন্ড ইত্যাদি।

৪. প্র, পরা, পরি, নির- এই চারটি উপসর্গের পর এবং ‘অন্তর’ শব্দের পর যদি নদ, নম, নশ ,নহ, নী, নি, নুদ, অনু ,হল- এ একটি ধাতুর ‘ন’ স্থলে ‘ণ’ হয় ।   যেমনঃ প্রণাম, পরিনাম, প্রণাশ, পরিণতি, নির্ণয়, প্রণিপাত, প্রণিধান ইত্যাদি।

৫. ঋ, র, ষ, ব, প- বর্গীয় বর্ণের সাথে অয়ন/আয়ন প্রত্যয় যুক্ত হলে অয়ন/আয়ন এর শেষ ‘ন’ স্থলে  ‘ণ’ হয়।  যেমনঃ উত্তর+অয়ন= উত্তরায়ণ; রাম+আয়ন=রামায়ণ, শিবায়ণ, রুপায়ণ; চন্দ্র+আয়ন=চন্দ্রায়ণ, নারায়ণ ইত্যাদি।

৬. প্র, পরা, পূর্ব ও অপর এর পরবর্তী অহ্ন শব্দের দন্ত্য ন স্থলে মূর্ধন্য ণ হয়।  যেমনঃ  প্রাহ্ণ, পরাহ্ন ,পূর্বাহ্ন, অপরাহ্ন ইত্যাদি ।  

  • কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ বসেঃ

              চাণক্য মাণিক্য গণ         বাণিজ্য লবণ মণ

বেণু বীণা কঙ্কণ কণিকা

কল্যাণ শোণিত মণি        স্থাণু গুণ পুণ্য বেণী  

ফনি অণু বিপণী গণিকা।  

আপন লাবণ্য বাণী         নিপুন ভণিতা পানি  

গৌণ  কোণ ভাণ পণ শাণ ।

 চিক্কণ নিক্কণ তৃণ                কফোণি বণিক গুণ

              গণনা পিণাক পণ্য বাণ।

  • ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়ঃ
  • ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ন কখনো ণ হয়না, ন হয় । যেমনঃ অন্ত,গ্রন্থ, ক্রন্দন।
  • বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশী শব্দের বানানে মূর্ধন্য বর্ণ (ন) লেখার প্রয়োজন হয় না।
  • সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ন হয় ।   যেমনঃ সর্বনাম , ত্রিনয়ন, দুর্নীতি, দুর্নিবার, দুর্নাম, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক ইত্যাদি।
  • ষত্ব বিধানঃ বাংলা ভাষায় প্রচলিত তৎসম শব্দের দন্ত্য স মূর্ধন্য ষ- তে  পরিণত হওয়ার নিয়মকে ষত্ব বিধান বলে। অর্থাৎ যে বিধান বা নিয়মের  সাহায্যে মূর্ধন্য ষ-এর সঠিক ব্যবহার জানা যায় তাকে ষত্ব বিধান বলে।
  • ষত্ব বিধানগুলো নিন্মরূপঃ

১. ঋ (ঋ-কার) এরপর ষ হয়। যেমনঃ ঋষি, বর্ষ ইত্যাদি।

২. অ,আ ভিন্ন স্বরবর্ণ, ক এবং র (রেফ, র-ফলা) এরপর পরস্থিত প্রত্যায়াদির দন্ত্য-স মূর্ধন্য ষ হয়। যেমনঃ ভীষণ, আকর্ষণ, কৃষক, বিমর্ষ ইত্যাদি।

৩. দুটি পদ সমাস যুক্ত হয়ে একপদে পরিণত হলে প্রথম পদের শেষে  ই, উ, ঋ, ও থাকলে পরবর্তী পদের আদ্য দন্ত্য স, মূর্ধন্য ষ হয়। যেমনঃ সু+সমা=সুষমা, গোষ্ঠী। সু+স্থ= সুষ্ঠু, যুধিষ্ঠির ইত্যাদি।

৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ’ হয়। যেমনঃ অতিষ্ঠ, অনুষ্ঠান, নিষেধ, অভিষেক ইত্যাদি।

৫. ট ও ঠ-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে দন্ত্য-স না হয়ে ষ হয়। যেমন কষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, নিষ্ঠা ইত্যাদি।

৬. নিঃ দুঃ আবিঃ চতুঃ, প্রাদঃ- এই বিসর্গ উপসর্গগুলোর পর ক, খ, প, ফ থাকলে বিসর্গ স্থানে মর্ধন্য ষ হয়। যেমনঃ নিঃ +কাম= নিষ্কাম, দুঃ+ কর=দুষ্কর, আবিষ্কার, বহিষ্কার, নিষ্ফল, নিষ্পাপ ইত্যাদি।

  • ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়ঃ
  • আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশী ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না। তাছাড়া দেশি ও তদ্ভব শব্দের বানানেও ‘ষ’ লেখার প্রয়োজন হয় না।    যেমনঃ জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট, স্টেশন ইত্যাদি।
  • সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদেও হয় না। যেমনঃ অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।
  • কতগুলো শব্দে স্বভাবতই মূর্ধন্য ‘ষ’ হয়। যেমনঃ
আষাঢ় ঊষা ঊষর আভাষ
অভিলাষ ঈষৎ কোষ পাষণ্ড
পাষাণ পোষণ ভাষা ভাষ্য
ভাষণ ষণ্ড মানুষ সরিষা
ঔষধ ঔষধি ষোড়শ তোষণ
পৌষ রোষ কলুষ দ্বেষ
ভূষণ ষড়যন্ত্র ষটচক্র রোষ

বাংলা ভাষা ও সাহিত্য

ক্রিয়ার কাল

ক্রিয়া লংঘটনের সময়কে ‘কাল’ বা ক্রিয়ার কাল বলে।

  • ক্রিয়ার কাল প্রধানণত ৩ প্রকার। যথা- বর্তমান কাল, অতীত কাল ও ভবিষ্যৎ কাল।
  • যে ক্রিয়ার কাজ এখন ঘটছে বা স্বভাবত ঘটে থাকে বা কিছুক্ষণ পূর্বে ঘটলেও তার ফল বিদ্যামান বোঝালে তাকে বর্তমান কাল বলে।যেমন- সে ভাত খায়।  আমি বাড়ী যায় । পৃথিবী সূর্যের চারপাশে ঘোরে ।
  • যে ক্রিয়া সাধারণভাবে অতীত সময়ে সংঘঠিত হয়েছে, তার কালকে সাধারনত অতীত কাল বলে । যেমন সে কাল এসেছিল । আমি সেদিন গিয়েছিলাম ।   শমী গেছে ।
  • যে ক্রিয়া এখনও ঘটেনি ভবিষ্যতে ঘটবে, এমন বোঝালে তাকে সাধারণত ভবিষ্যৎ কাল বলে। যেমনঃ আমি এখন পড়ব। সুমন বিদেশে যাবে । সুজন আগামী বছর বিসিএস পরিক্ষা দেবে ।

বাংলা অনুজ্ঞা

আদেশ, আনুরোধ, অনুমতি, প্রার্থণা, অনুনয় প্রভৃতি অর্থে বর্তমানে এবং ভবিষ্যৎ কালে মধ্যম পুরুষে ক্রিয়াপদের যে রুপ হয় তাকে অনুজ্ঞা পদ বলে ।

  • উত্তম পুরুষের অনুজ্ঞা পদ হতে পারে না।কারণ, কেউ নিজেকে আদেশ করতে পারে না ।
  • অপ্রত্যক্ষ বলে নাম পুরুষের অনুজ্ঞা হয় না। তবে এই মত সকলে সমর্থন করেন না।
  • প্রাচিন বাংলা রীতিতে মধ্যম পুরুষের অনুজ্ঞায় ক্রিয়ার সজ্ঞে ‘হ’ যোগ করার নিয়ম ছিল। যেমনঃ ‘অধম সন্তানে মাগো দেহ (দাও)’ পদাচ্ছায়া ।
  • বর্তমান কালের অনুজ্ঞাঃ আদেশ– কাজটি করে ফেল। তোমরা এখন যাও।

         পদেশঃ সত্য কথা গোপন করো না। ‘পাতিস নে শিলাতলে পদ্মপাতা’ ।

         অনুরোধঃ আমার কাজটা এখন কর। অঙ্কটা বুঝিয়ে দাও ন।

         প্রার্থনাঃ আমার দরখাস্তটা পড়ুন

         অভিশাপঃ মর, পাপিষ্ঠ ।

  • ভবিষ্যকালের অনুজ্ঞাঃ আদেশ: সদা সত্য কথা বলবে। সম্ভাবনায়ঃ চেষ্ঠা কর, সবই বুঝতে পারবে। বিধান অর্থেঃ রোগ হলে ওষুধ খাবে । অনুরোধঃ কাল একবার এসো ।

উপসর্গ ও অনুসর্গ

উপসর্গঃ যেসব অব্যয় ধাতুর পূর্বে যুক্ত হয়ে নতুন নতুন শব্দ গঠন করে সেগূলোকে উপসর্গ বলে।

  • উপসর্গগুলো অব্যয় পদ
  • উপসর্গের অর্থবাচকতা নেই কিন্তু অর্থদ্যোতকতা আছে ।
  • উপসর্গ কথাটির অর্থ উপসৃষ্টি ।
বাংলা উপসর্গ ২১টি অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন, (ঊনা) কদ, কু, নি, পতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা ।
তৎসম উপসর্গ ২০ টি প্র, পরা, অপ, সম, বি, অনু, অব, নির, দূর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।
  • আ, সু ,বি ,নি এই চারটি উপসর্গ বাংলা এবং তৎসম উভয় ক্ষেত্রেই রয়েছে ।
  • বিদেশী উপসর্গঃ-
ফারসিঃ কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
আরবিঃ আম, খাস, লা, বাজে, গর, খায়ের।
উর্দু-হিন্দিঃ হর।
ইংরেজিঃ সাব, হেড, ফুল, হাফ।

অনুসর্গঃ যেসব অব্যয় বিশেষ্য ও সর্বনামের পরে বসে বিভক্তির কাজ করে তাই অনুসর্গ।

  • অনুসর্গ কখনো স্বাধীন পদ রূপে, কখনো বিভক্ত রূপে ব্যবহৃত হয়।
  • উপসর্গ যেমন নাম শব্দ বা কৃদন্ত শব্দের আগে বসে, অনুসর্গ তেমনি নাম শব্দের পরে বসে।
  • অনুসর্গের নিজস্ব অর্থ আছে।
  • বাংলা ভাষায় বহু অনুসর্গ আছে। যেমনঃ প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, অবদি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্যে, জন্য, পর্যন্ত, অপেক্ষা, সহকারে, তরে, পানি, মত, নিকট, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়ে, কর্তৃক, সাথে, সঙ্গে, হইতে, হতে, থেকে, চেয়ে, পাছে, ভিতরে ইত্যাদি.।

বচনঃ

  • বচন ব্যাকরণের একটি পারিভাষিক শব্দ, বচন অর্থ সংখ্যার ধারণা। বচন দুই প্রকার।
  • কেবল অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত হয়- আবলি, দাম, নিকুঞ্জ, মালা, রাজি, রাশি।
  • কেবল উন্নত প্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত হয়- গোবিন্দ, মন্ডল, লি,বর্গ।
  • কেবল প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত হয়- কুল, সকল, সব, সমূহ।
  • পাল ও যুথ শব্দ দুটো কেবল জন্তুর বহুবচনে ব্যবহৃত হয়।

পুরুষ ও স্ত্রীবাচক শব্দ

  • কতগুলো শব্দ কেবল পুরুষ বোঝায়-কবিরাজ, ঢাকী, কৃতদার, অকৃতদার, রাষ্ট্রপতি।
  • কতগুলো শব্দ পুরুষ ও স্ত্রী দুই বোঝায়-গুরু, শিশু, সন্তান, জন, শিক্ষিত, পাখি।
  • নারীকে সম্বোধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে- কল্যাণীয়েষু ।
  • লিঙ্গান্তর হয় না এমন শব্দ- কবিরাজ
  • কতগুলো নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ- শাকচুন্নি, সধবা, সতীন, সৎমা, দাই।
  • দুটি পুরুষবাচক শব্দ রয়েছে- ননদ

ধাতু

  • ক্রিয়াপদের মূল অংশকে বলা হয় ধাতু বা ক্রিয়ামূল। ধাতু তিন প্রকার- মৌলিক ধাতু, সাধিত ধাতু ও যৌগিক ধাতু।
  • যে ধাতু বিশ্লেষণ করা সম্ভব নয়, সেগুলোই মৌলিক বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতু। যেমনঃ চল, পড়, খা, ইত্যাদি ।
  • মৌলিক ধাতু কিংবা কোন নাম শব্দের সঙ্গে ‘আ’ প্রত্যয় যোগে যে ধাতু গঠিত হয়, তাকে সাধিত ধাতু বলে । যেমনঃ কর+আ=করা, হাত+আ=হাতা, বল+আ =বলা, দেখ+আ=দেখা ইত্যাদি।
  • বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধনাত্মক অব্যয় পরে কর, দে, পা, খা, ছাড় ইত্যাদি মৌলিক ধাতু যুক্ত হয়ে যে নতুন ধাতু হয়, সে গুলোকে যৌগিক বা সংযোগমূলক ধাতু বলে।

দ্বিরুক্ত শব্দ

  • দ্বিরুক্ত অর্থ দুই বা উক্ত হয়েছে এমন।
  • কোন শব্দ, পদ বা অনুকার শব্দ, একবার ব্যবহার করলে যে অর্থ প্রকাশ করে, দুইবার ব্যবহার করলে সম্প্রসারিত অন্য কোন অর্থ প্রকাশ করে তাকে শব্দের দ্বিরুক্তি বলে।
  • আমার জ্বর জ্বর লাগছে” দ্বিরুক্তির অর্থ- ঠিক জ্বর নয়, জ্বর এর অভাব ।
  • দ্বিরুক্তি তিন প্রকার- শব্দের দ্বিরুক্তি, পদের দ্বিরুক্তি, অনুকার দ্বিরুক্তি।

  শব্দের দ্বিরুক্তি

  • একই শব্দ দুইবার ব্যবহার করা হয় এবং শব্দ দুটি অবিকৃত থাকে। যেমনঃ বছর বছর পরীক্ষা।
  • একই শব্দের সমার্থক আরো একটি শব্দ যোগ করে ব্যবহৃত হয় । যেমনঃ ধন-দৌলত।
  • দ্বিরুক্ত শব্দ-জোড়ার দ্বিতীয় শব্দটির আংশিক পরিবর্তন হয়। যেমনঃ মিট-মাট; ফিট ফাট ।
  • সমার্থক বা বিপরীতার্থক শব্দ যোগে । যেমনঃ লেন-দেন, দেনা –পাওনা; টাকা –পয়সা

পদের দ্বিরুক্তিঃ-

  • দুটো পদে একি বিভক্তি প্রয়োগ করা হয়, শব্দ দুটো ও বিভক্তি অপরিবর্তিত থাকে। যেমনঃঘর ঘরে লেখাপড়া হচ্ছে।
  • দ্বিতীয় পদের আংশিক ধবনিগত পরিবর্তন ঘটে , কিন্তু পদ বিভক্তি অবিকৃত থাকে। যেমনঃ চোর হাতে নাতে ধরা পড়েছে। আমার সন্তান যেন তাকে দুধে-ভাতে ।

অনুকার দ্বিরুক্তি/ ঋণাত্মক দ্বিরুক্তিঃ

কোন কিছু স্বাভাবিক বা কাল্পনিক অনুকৃতিবিশিষ্ট শব্দের রুপকে ধবম্যাত্মক শব্দ বলে। এ জাতীয় ধবন্যাত্মক শদের দুবার প্রয়োগের নাম ধবন্যাত্মক দ্বিরুক্তি। ধবন্যাত্মক দ্বিরুক্তি দ্বারা বহুত্ব, আধিক্য ইত্যাদি বোঝায়। যেমনঃ

  • মানুষের ধ্বনির অনুকারঃ ভেউ ভেউ- মানুষের উচ্চস্বরে কান্নার ধ্বনি। এরূপ- ট্যা ট্যা, হি হি ইত্যাদি।
  • জীবজন্তুর ধ্বনির অনুকারঃ ঘেউ ঘেউ (কুকুরের ধ্বনি)। এরূপ- মিউ মিউ (বিড়ালের ধ্বনি), কুহু কুহু (কোকিলের ধ্বনি), কা কা (কাকের ডাক) ইত্যাদি।
  • বস্তুর ধ্বনির অনুকারঃ ঘচাঘচ (ধান কাটার শব্দ) এরূপ- মড় মড় (গাছ ভেঙে পড়ার শব্দ), ঝম ঝম (বৃষ্টি পড়ার শব্দ), টাপুর টুপুর, হু হু (বাতাসের প্রবাহের শব্দ) ইত্যাদি।
  • অনুভূতিজাত কাল্পনিক ধ্বনির অনুকারঃ ঝিকিমিকি (ঔজ্জ্বল্য), এরূপ-ঠা ঠা (রোদের তীব্রতা), কুট কুট (শরীরে কামড় লাগার মত অনুভূতি), অনুরূপভাবে- মিন মিন, পিট পিট,বি বি, ইত্যাদি।

বাংলা বিরামচিহ্ন

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সর্বপ্রথম বাংলা ভাষায় যতি বা ছেদ চিহ্নের প্রবর্তন করেন

যতি চিহ্নের নাম আকৃতি বিরতি-কাল-পরিমাণ
কমা , ১(এক) বলতে যে সময় প্রয়োজন।
সেমিকোলন ; ১ বলার দ্বিগুণ সময়
দাড়ি এক সেকেন্ড
জিজ্ঞাসা চিহ্ন ?
বিস্ময় চিহ্ন !
কোলন :
কোলন ড্যাস :-
ড্যাস /পথ সংযোগ
হাইফেন থামার প্রয়োজন নেই
ইলেক বা লোপ চিহ্ন
উদ্ধরণ চিহ্ন ‘’ ‘’ ১(এক) উচ্চারণে যে সময় লাগে
ব্রাকেট (বন্ধনী চিহ্ন) ( ) থামার প্রয়োজন নেই
  [ ]
  { }

কমা/ পাদচ্ছেদ ( , ):

  • স্বল্প বিরতি বোঝাতে কম ব্যবহৃত হয়। যেমনঃ সুখ চাও, সুখ পাবে পরিশ্রমে।
  • পরস্পর সম্বন্ধযুক্ত একাধিক বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ একসঙ্গে বসলে শেষ পত্র ছাড়া বাকি সবগুলোর পরে কমা বসে। যেমনঃ সুখ-দুঃখ, আশা-নৈরাশা একই মালিক আর পুষ্প।
  • সম্বোধনের পরে কমা বসাতে হয়। যেমনঃ রশিদ, এদিকে এসো। 
  • জটিল বাক্যের অন্তর্গত প্রত্যেক খন্ড বাক্যের পরে কমা বসবে। যেমনঃ কাল যে লোকটি এসেছিল, সে আমার পূর্ব পরিচিত।
  • উদ্ধরণ চিহ্নের পূর্বে খন্ড বাক্যের শেষে কমা বসাতে হয়। যেমনঃ সাহেব বললেন, ‘ছুটি পাবেন না”।
  • মাসের তারিখ লিখতে ১২ মাসের পর ‘কমা’ বসবে। যেমনঃ ১৬ পৌষ, বুধবার, ১৩৯৯ সন।
  • বাড়ি বা রাস্তার নম্বরের পরে কমা বলবে। যেমনঃ ৬৮, নবাবপুর রোড, ঢাকা -১০০০।
  • নামের পরে ডিগ্রী সূচক পরিচয় সংযোজিত হলে সেগুলোর প্রত্যেকটির পরে কমা বসে। যেমনঃ ডক্টর মুহাম্মদ এনামুল হক, এম,এ,পি-এইচ, ডি।

সেমিকোলন (;): কমা অপেক্ষা বেশি বিরতির প্রয়োজন হলে, সেমিকোলন বসে।   যেমনঃ সংসারের মায়া জালে আবদ্ধ আমরা; এ মায়ার বাঁধন কি সত্যিই দুঃসাধ্য?

দাড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ ( ): বাক্যের পরিসমাপ্তি বোঝাতে দাড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ ব্যবহার করতে হয়। যেমনঃ শীতকালে এদেশে আবহাওয়া শুষ্ক থাকে।

প্রশ্নবোধক চিহ্ন ( ? ): জিজ্ঞাসা সূচক বাক্যের শেষে প্রশ্নবোধক চিহ্ন বসে। যেমনঃ তুমি কখন এলে?

বিস্ময় (!): আবেগ প্রকাশ করতে(!) চিহ্নটি বসে। যেমনঃ আহা! কি চমৎকার দৃশ্য।

কোলন (:) :  একটি অপূর্ণ বাক্যের পরে অন্য একটি বাক্যের অবতারণা করতে হলে কোলন ব্যবহার হয়। যেমনঃ সভায় সাব্যস্ত হলঃ এক মাস পরে নতুন সভাপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

ড্যাশ-চিহ্ন (-): যৌগিক ও মিশ্র বাক্যে পৃথক ভাবাপন্ন দুই বা তার বেশি বাক্যের সমন্বয় বা সংযোগ বোঝাতে চিহ্ন ব্যবহৃত হয়। যেমনঃ তোমরা দরিদ্রের উপকার কর-এতে তোমাদের সম্মান যাবে না -বাড়বে।

কোলন ড্যাস(:-) উদাহরণ বোঝাতে কোন এবং একসঙ্গে ব্যবহৃত হয়। যেমনঃ পদ পাঁচ প্রকারঃ- বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, অব্যয় ও ক্রিয়া।

হাইফেন  বা সংযোগ চিহ্ন(-): সমাসবদ্ধ পদের অংশগুলো বিচ্ছিন্ন করে দেখাবার জন্য হাইফেনের ব্যবহার হয়। যেমনঃ এ আমাদের শ্রদ্ধা-অভিনন্দন, আমাদের প্রীতি-উপহার।

ইলেক(“) বা লোপ চিহ্নঃ কোন বর্ণ বিশ্লেষণ এর লোক বোঝাতে বিলুপ্ত বর্ণের জন্য (‘)লোপ-চিহ্ন দেওয়া হয়। যেমনঃ মাথার, পরে জ্বলছে রবি (‘পরে=ওপরে)। পাগড়ী বাঁধা যাচ্ছে কা’রা ?(কা’রা=কাহারা)

উদ্ধরণ চিহ্ন (“ “):  বক্তার প্রত্যক্ষ উক্তিকে এই চিহ্নের অন্তর্ভুক্ত করতে হয়। যেমনঃ শিক্ষক বললেন, “গতকাল তুরস্কে ভয়ানক ভূমিকম্প হয়েছে”।

ব্রাকেট বা বন্ধনী চিহ্ন(),{},[]:  এই তিনটি চিহ্নই গণিতশাস্ত্রে ব্যবহৃত হয়। তবে প্রথম বন্ধনীটি বিশেষ ব্যাখ্যামূলক অর্থে সাহিত্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যেমনঃ ত্রিপুরায় (বর্তমানে  কুমিল্লা) তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

  • ব্যাকরণিক চিহ্নঃ

ক.  ধাতু বোঝাতে (V)  চিহ্ন: Vস্থা= স্থা ধাতু

খ.  পরবর্তী শব্দ থেকে উৎপন্ন বোঝাতে(<) চিহ্ন: জাদরেল < জেনারেল.

গ. পূর্ববর্তী শব্দ থেকে উৎপন্ন বোঝাতে(>) চিহ্নঃ গঙ্গা > গাঙ।

ঘ.   সমানবাচক বা সমস্তবাচক বোঝাতে সমান (=) চিহ্নঃ নর ও নারী = নরনারী

কারক ও বিভক্তি

  • বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে নাম পদের যে সম্পর্ক তাকে- কারক বলে।
  • কারক শব্দটির অর্থ- যা ক্রিয়া সম্পাদন করে ।কারক- ৬ প্রকার।
  • বাক্যস্থিত একটি শব্দের সঙ্গে কোন শব্দের সমন্বয় সাধনের জন্য শব্দের সঙ্গে যে সকল বর্ণ যুক্ত হয়, তাদের বিভক্তি বলে। বিভক্তি- ৭ প্রকার।

কারক চেনার সহজ উপায়

  কারক বাক্যের ধরণ
কে?/ কীসে /+ক্রিয়া কর্তৃ কারক বাক্যের প্রধান কর্তা
কী?/ কাকে?+ ক্রিয়া কর্মকারক কর্তার কাজ বোঝাবে
কী/ কীসের দ্বারা?+ ক্রিয়া করণ কারক মাধ্যম বা media বোঝাবে
কাকে দান করা হল? সম্প্রদান কারক স্বত্ব ত্যাগ বোঝাবে
কী/ কীসের/ কোথা থেকে? +ক্রিয়া অপাদান কারক গৃহীত, উৎপন্ন, ভীত,চলিত, পতিত বোঝাবে
কখন?/কোথায়?/ কিভাবে ?/বিষয়?+ ক্রিয়া অধিকরণ কারক স্থান, কাল, বিষয়, ভাব বোঝাবে
  • কর্তৃকারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগঃ
  • বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক।
  • ক্রিয়ার সঙ্গে কে বা কারা যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তাই কর্তৃকারক।
কর্তৃকারকে শূন্য পাখি সব করে রব। নগরের নটী চলে অভিসারে।
কর্তৃকারকে দ্বিতীয়া তোমাকে ঢাকা যেতে হবে। আমাকে বই পড়তে হবে।
কর্তৃকারকে তৃতীয়া আমদ্বারা একাজ হবে না। রাম কর্তৃক সীতা উদ্ধার হয়েছিল।
কর্তৃকারকে চতুর্থী সকলকে মরতে হবে। তোমাতে আমার কাজ হবে না।
কর্তৃকারকে পঞ্চমী আম হতে এ কাজ হবে না।
কর্তৃকারকে ষষ্ঠী আমার কোরান পড়া হয়েছে।
কর্তৃকারকে সপ্তমী ঘোড়ায় গাড়ি টানে। বুলবুলিতে ধান খেয়েছে।
  • কর্ম কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগঃ
  • যাকে উদ্দেশ্য করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে কর্মকারক বলে।
  • ক্রিয়ার সঙ্গে কি বা কাকে যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তাই কর্মকারক।
কর্মে শূন্য অর্থ অনর্থ ঘটায়। সর্বাঙ্গে ব্যথা, ঔষধ দিব কোথা।
কর্মে দ্বিতীয় ডাক্তারকে ডাক। পাহাড়কে নাড়াতে পারেকে? মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছে।
কর্মে ষষ্ঠী তাহার দেখা পাওয়া ভার।
কর্মে সপ্তমী জিজ্ঞাসিব জনে জনে।
  • করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগঃ
  • ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র ,উপকরণ বা সহায়কেই করণ কারক বলা হয়।
  • ক্রিয়াপদের সঙ্গে কিসের ধারা বা কি উপায়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তাই করণ কারক।
করনের শূন্য বিভক্তি ছেলেরা ফুটবল খেলছে। শিক্ষক ছাত্রকে বেত মারলেন। তাস খেলে পড়া নষ্ট কর না। পাখিকে ঢিল মেরো না। তাহারা পাশা খেলছে
করণে দ্বিতীয় পুরাতন তাসকে খেলা যায় না।
করণে তৃতীয়া সে চাকর দ্বারা রান্না করায়। মুখের দ্বারাই এসব কাজ সম্ভব।
করণে পঞ্চমী তাহাহতে ভালো আশা বৃথা।
করণে ষষ্ঠী ইটপাথরের বাড়ি বড় শক্ত। হাতের তৈরি জিনিস আমার প্রিয়।
করণে সপ্তমী আমারি সোনার ধানে গিয়াছে ভরি। তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে। টাকায় বাঘের দুধ মেলে। ব্যায়ামে শরীর ভাল থাকে। 
  • সম্প্রদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগঃ
  • যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে কিছু দেওয়া হয় তাই সম্পাদন কারক।
সম্প্রদানে কারকে শূন্য  দিব তোমা শ্রদ্ধা ভক্তি। দারে ভিক্ষুক, ভিক্ষা দাও।
সম্প্রদানে কারকের চতুর্থী শীতার্তকে বস্ত্র দাও। ক্ষুধিতেরে অন্য দাও।
নিমিত্তার্থে বেলা যে পড়ে এল জলকে চল। সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু ।
সম্প্রদানে ষষ্ঠী টাকার লোভ ভালো নয়।
সম্প্রদানে সপ্তমী মৃতজনে দেহ প্রাণ। অন্নহীনে অন্ন দাও। গৃহহীনে গৃহ দিলে আমি থাকি ঘরে। সর্বশিষ্যে জ্ঞান দেন গুরু মহাশয়। সৎপাত্রে কন্যা দান করিও।
  • অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগঃ
  • যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ ও দূরীভূত হয় তাকে বলা হয় অপাদান কারক।
  • ক্রিয়ার সঙ্গে কোথা/হতে কি/হতে কিসের/হাতে যোগকরে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়।
অপাদানে শূন্য  স্কুল পালিয়ে পন্ডিত হওয়া যায় না। গাড়ি এতক্ষনে ঢাকা ছাড়ল। পারাবত কখন ঢাকা ছাড়ে?
অপাদানে দ্বিতীয়া   আমাকে তোমার কিসের ভয়? অসৎকে সকলে ভয় করে।
অপাদানে তৃতীয়া গা দিয়ে ঘাম ঝরছে। চোখ দিয়ে পানি পড়ে।
পঅপাদানে ৫মী আমার চেয়ে বড় বন্ধু তোমার নাই। টাকার চেয়ে মূল্যবান কিছু নেই। সরিষা হতে তৈল হয়।
অপাদানে ষষ্ঠী যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধ্যা হয়। সাপের ভয়ে কেউ পোড়াবাড়িতে ঢুকত না।
অপাদানে সপ্তমী   বিপদে মোরে রক্ষা কর এ নহে মোর প্রার্থনা। আমি কি ডরাই সখি, ভিক্ষারি রাঘবে? তিলে তৈল হয়। প্রিয়জনে যাহা দিতে পারি। মেঘে বৃষ্টি হয়। লোকমুখে শুনেছি, টাকায় টাকা আনে।
  •  অধিকরণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগঃ
  • ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধার কে অধিকরণ কারক বলে।
  • ক্রিয়ার সঙ্গে কোথায়/কিসে/ কখন যোগ করে প্রশ্ন করলে, যে উত্তর পাওয়া যায় তাই অধিকরণ কারক।
অধিকরন কারকে শূন্য ভোর বেলা সূর্য উঠে। একদিন পাপের ফল ফলবে। আমি সোমবার ঢাকা যাব। সে বাড়ি নাই। শুক্রবার কলেজ বন্ধ থাকে।
অধিকরন কারকে দ্বিতীয়া আজকে আমার যাওয়া হবেনা।
অধিকরন কারকে তৃতীয়া ছায়াঢাকা পথ দিয়ে চলতে আরাম।
অধিকরন কারকে পঞ্চমী   ছেলেরা ছাদ থেকে ঘুড়ি উড়াচ্ছে। প্রাসাদ থেকে তাকে ডাকলাম । সিংহাসন হতে রাজা ঘোষণা করলেন।
অধিকরন কারকে সপ্তমী সর্বাঙ্গে ব্যাথা। সরোবরে পদ্মার জন্মে। বসন্তে নানা ফুল ফুটে। নদীতে মাছ আছে। প্রভাতে সূর্য ওঠে । হে অতীত তুমি ভুবনে ভুবনে আকাশে তো আমি রাখি নাই মোর উড়িবার ইতিহাস।

ছন্দ প্রকরণ

  • ছন্দ অর্থ ‘গতি সৌন্দর্য’। সাহিত্যে এর অর্থ ‘ভাষাগত ধ্বনি-সৌন্দর্য’।
  • পদসমূহকে যেভাবে সাজালে নিয়মিত গতিবেগ সঞ্চারিত হয়ে বাক্য প্রতিশ্রুতি মধুর হয় এবং সহজে চিত্রে রসের সঞ্চার করে তাকেই ছন্দ বলা হয়।
  • ছন্দ তিন প্রকার। যথা- স্বরবৃত্ত ,মাত্রাবৃত্ত ও অক্ষরবৃত্ত ছন্দ।
  • যে ছন্দে যুগ্নধ্বনি সব সময় এক মাত্রা গণনা করা হয় এবং প্রত্যেক পর্বের প্রথম শব্দের আদিতে শ্বাসাঘাত পড়ে তাকে স্বরবৃত্ত ছন্দ বলে। প্রতিটি চরণ সাধারণত চারটি পর্বে বিভক্ত এবং প্রতি পর্বের মাত্রা সংখ্যা চার। যেমনঃ কে বকেছে। কে মেরেছে। কে দিয়েছে । গাল।  
  • যে ছন্দে বন্ধ্যা ক্ষর সর্বত্রই দুই মাত্রা হিসেবে বিবেচিত হয় তাকে মাত্রাবৃত্ত ছন্দ বলে। যেমনঃ গগনে গরজে মেঘ। ঘন বরষা
  • যে ছন্দে স্বরের হ্রস্ব-দীর্ঘ বিচার করা হয় না এবং প্রতিটি অক্ষর একমাত্র হিসেবে ধরা হয় বা অক্ষর গুণে যে ছন্দের মাত্রা সংখ্যা গণনা করা হয়, তাকে অক্ষরবৃত্ত ছন্দ বলে।
  • অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রধান বৈশিষ্ট্যই হচ্ছে প্রবাহমানতা, মিলহীনতা এবং যতি পাতের স্বাধীনতা। অমিত্রাক্ষর ছন্দে অন্ত্যামিল নেই। মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা কাব্য অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তন করেন।
  • মুক্তক ছন্দের সুষ্ঠু প্রয়োগ করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।এই ছন্দে প্রতি পংক্তির অক্ষর সংখ্যা অসমান।
  • একটি মাত্র অনুভূতি বা অখন্ড ভাব কল্পনা নিয়ে বিশেষ ছন্দোরীতিতে রচিত চৌদ্দ বা  আঠারো মাত্রা বিশিষ্ট চৌদ্দ পংক্তির কবিতাকে সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতা বলে। বাংলা কাব্য সাহিত্যে মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম সনেট রচনা করেন। ইতালিয় কবি পেত্রার্ক এ ধারার আদি কবি। সনেটের দুইটি অংশ থাকে। প্রথম আট চরণ কে অষ্টক বলে, শেষ ছয় চরণ কে ষটক বলে।
  • স্বল্পতম সময়/পরিশ্রমে উচ্চারিত ধ্বনিকে অক্ষর বলে। অক্ষর দু’প্রকার-মুক্তাক্ষর ও বন্ধাক্ষর।  
  • বক্তব্যের অর্থকে শুবোধ্য ও  সুচারুরুপে প্রকাশ করার জন্য মাঝে মাঝে উচ্চারণ বিরোধকে ছেদবলে। দু’রকম -উপচ্ছেদ ও পূর্ণচ্ছেদ।
  • এক ঝোকে কতকগুলো ধ্বনি উচ্চারণ করার পর স্বল্পকালের জন্য জিব্বার বিরাম গ্রহণ কে যতি বলে।
  • এক নিঃশ্বাসে চরণের যতটা অংশ উচ্চারণ করা যায়,ঐ অংশটুকু একটি পর্ব।

বাংলা ভাষা ও সাহিত্য

অলংকার

  • যা দ্বারা কাব্যকে সজ্জিত করা হয় তাই অলংকার।
  • অলংকার দুই প্রকার ।যথাঃ শব্দালঙ্কার ও অর্থালঙ্কার।
  • যে অলংকার ধ্বনি সৌন্দর্য বৃদ্বি করে তাকে শব্দালঙ্কার বলে। শব্দালঙ্কার নানা ধরনের হয়। যেমনঃ অনুপ্রাস, বক্রোক্তি,শ্লেষ, যমক, পুনরুক্ত বদঅভ্যাস।
  • যে অলংকার একান্তভাবে বাক্যে ব্যবহৃত শব্দ বা শব্দাবলীর অর্থের আশ্রয় গ্রহণ করে সৃষ্ট হয় তাকে অর্থালঙ্কার বলে।
  • অর্থালঙ্কার কে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়ঃ

১.   সাদৃশ্যমূলক অলংকার: উপমা, উৎপ্রেক্ষা, রূপক, সন্দেহ, ব্যতিরেক, সমাসোক্তি অতিশয়োক্তি।

২.  বিরোধমূলক অলংকার: বিরোধাভাস, বিভাবনা ,বিশেষোক্তি বিষম, ব্যাঘাত ইত্যাদি।

৩.শৃঙ্খলামূলক অলংকারঃ কারনমালা, মালাদীপক, একাবলি ওসার। 

৪.  ন্যায়মূলক অলংকার: অর্থাপত্তি, অনুমান, উত্তর, কাব্যলিঙ্গ,তদগুণ, পর্যায়, পরিবৃত্তি, পরিসংখ্যা, সমুচ্চয়, সমাধি ও সামান্য।

৫. গৃঢ়ার্থ প্রতীতিমূলক অলংকারঃ অর্থান্তরন্যাস, অপ্রস্তুত, প্রশংসা, আক্ষেপ, উদাত্ত, ব্যজস্তুতি, ব্যাজোক্তি, পর্যায়োক্ত, পরিকর, ভাবিক, স্বভাবোক্তি ও সূক্ষ্ম।

বাচ্য

  • বাক্যের বিভিন্ন ধরনের প্রকাশভঙ্গি কে বলা হয় ‘বাচ্য’। বাচ্য তিন প্রকার- কর্তৃবাচ্য, কর্মবাচ্য ও ভাববাচ্য।
  • যে বাক্যে কর্তার অর্থ প্রাধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাই কর্তৃবাচ্য। যেমনঃ পাখিরা গান গায়।
  • যে বাক্যে কর্মের সাথে ক্রিয়ার সম্বন্ধ প্রধানভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে কর্মবাচ্য বলে। যেমনঃ আলেকজান্ডার কর্তৃক পারস্য দেশ বিজিত হয়।
  • যে বাচ্চা কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ভ্যক্ত হয় তাকে ভাব বাচ্য বলে।

পুরুষ

  • শব্দের যে রূপ বা বৈশিষ্ট্য দ্বারা বক্তা, শ্রোতা বা উদ্দিষ্ট ব্যক্তিকে নির্দেশ করা হয় তাকে পুরুষ বলে। যেমনঃ আমি তোমাকে তার কথা বলব। এখানে ‘আমি’ হলো বক্তা, ‘তুমি’ হলো শ্রোতা, ‘তার’ হল ও উদ্দিষ্ট ব্যক্তি যার সম্পর্কে বলা হচ্ছে।
  • পুরুষ তিন প্রকার -উত্তম পুরুষ, মধ্যম পুরুষ ও নাম পুরুষ।
  • বক্তা নিজেই উত্তম পুরুষ। যেমনঃ আমি, আমরা, আমাকে ইত্যাদি।
  • উপ্সথিত বক্তা তার সামনে অনুপস্থিত ব্যক্তি, বস্তু বা প্রাণী সম্পর্কে কিছু বলতে যে সর্বনাম পদ ব্যবহার করে তাই নাম পুরুষ। যেমনঃ সে, তারা, তিনি,তাঁরা এটা, এগুলো, ওরা, মতিন ইত্যাদি।

পদাশ্রিত নির্দেশক

  • কয়েকটি অব্যয় বা প্রত্যয় কোনো না কোনো পদের আশ্রয়ে বা পরে সংযুক্ত হয়ে নির্দিষ্টতা জ্ঞাপন করে, এগুলোকে পদাশ্রিতঅব্যয় বা পদাশ্রিত নির্দেশক বলে। যেমনঃ টা, টি, খানা, খানি, গাছা, গাছি ইত্যাদি।
  • এগুলো ইংরেজি ভাষার নির্দিষ্টতা জ্ঞাপক আর্টিকেল এর সমতুল্য।
  • একবচনে টা, টি, খানা, খানি, গাছা, গাছি ইত্যাদি নির্দেশক ব্যবহৃত হয়। যেমনঃ টাকাটা, বাড়িটি ,কাপড়খানা, বইখানি, লাঠিগাছা ,চুড়িগাছি, ইত্যাদি।
  • বহুবচনে গুলি, গুলা, গুলো, গুলিন প্রকৃতি নির্দেশক প্রত্যয় সংযুক্ত হয়। যেমনঃ মানুষগুলি, লোকগুলো, আমগুলো, পটলগুলিন ইত্যাদি।
  • অনির্দিষ্ট পরিমাণ বা সংখ্যার স্বল্পতা বোঝাতে টে, টুক, টুকু, টুকুন টো, গোটা ইত্যাদি প্রয়োগ হয়। যেমনঃ চারটে ভাত, দুধটুকু, দুধটুকুন, দুটো ভাত, গোটা চারেক আম ইত্যাদি।

সংখ্যাবাচক শব্দ

সংখ্যা মানে গণনা বা গণনা দ্বারা লব্ধ ধারণা।সংখ্যা গণনার মূল একক ‘এক’। সংখ্যাবাচক শব্দ ৪ প্রকার- অঙ্কবাচক, পরিমাণ বা গণনাবাচক, ক্রম বাচক, পূরণবাচক ও তারিখবাচক।

অংক বা সংখ্যা গনণা বাচক পূরণবাচক তারিখবাচক
এক প্রথম পহেলা
দুই দ্বিতীয় দোসরা
তিন তৃতীয় তেসরা
চার চর্তুথ চৌঠা
পাঁচ পঞ্চম পাঁচই
ছয় ষষ্ঠ ছউই
সাত সপ্তম সাতই
আঁট অষ্টম আটই
নয় নবম নউই
১০ দশ দশম দশই
১১ এগার একাদশ এগারই
১২ বার দ্বাদশ বারই  
১৩ তের ত্রয়োদশ তেরই  
১৪ চৌদ্দ চতুর্দশ চৌদ্দি  
১৫ পনের পঞ্চাদশ পনেরই  
১৬ ষোল ষষ্ঠদশ ষোলই  
১৭ সতের সপ্তদশ সতেরই  
১৮ আঠারো অষ্টাদশ আঠারোই  
১৯ উনিশ ঊনবিংশ উনিশে  
২০ বিশ/কুড়ি বিংশ বিশে  
২১ একুশ একবিংশ একুশে  
  • তারিখ বাচক শব্দের প্রথম ৪টি অর্থাৎ ১-৪পর্যন্ত হিন্দি নিয়মে সাধিত হয়। বাকি শব্দ বাংলার নিজস্ব ভঙ্গিতে গঠিত।

বাগধারা

অর্ধচন্দ্র=গলা ধাক্কা তাসের ঘর= ক্ষণস্থায়ী
অমাবস্যার চাঁদ=দুর্লভ বস্তু  তুলসী বনের বাঘ= সুবেশো দুর্বৃত্ত
আট কপালে = মন্দ ভাগ্য তামার বিষ = অর্থের কুপ্রভাব
আর্কেল সেলামি= নির্বুদ্ধিতার দন্ড ব্যাঙের সর্দি = অসম্ভব ঘটনা
আকাশ কুসুম = অসম্ভব কল্পনা ভূষন্ডির কাক = দীর্ঘায়ু ব্যাক্তি
আমড়া কাঠের ঢেঁকি = অপর্দাথ উওম মধ্যম = পিটুনি
ইদুর কপালে = মন্দভাগ্য রামগরুরের ছানা = গোমড়া মুখো লোক
উড়নচণ্ডী = অমিতব্যয়ী মাথায় হাত বুলানো= ফাঁকি দেওয়া
উলু খাগড়া=  নিরীহ প্রজা হাত ভারি = কৃপণ
একাদশে বৃহস্পতি = সৌভাগ্যের বিষয় বিড়ালতলম্বী = কপট সাধু
কত ধানে কত চাল = টের পাওয়ানো বকধার্মিক  = ভণ্ড ধার্মিক
কূপমন্ডুক = সীমিত জ্ঞানের মানুষ বামেতর = ডান
কেউকোটা = সামান্য ধারী মাছ না ছুই পানি = কৌশলে কার্যোদ্ধার
কাকনিদ্রা = অগভীর সতর্ক নিদ্রা ভিজে বেড়াল = কপটচারী
কাঁঠালের আমসত্ত্ব = অসম্ভব ব্যাপার দুধের মাছি = সুসময়ের বন্ধু
ব্যাঙের আধুলি = সামান্য সম্পদ লেফাফা দুরন্ত = পরিপাটি
গুড়ে বালি = আশায় নৈরাশ্য সাক্ষী গোপাল = নিষ্ক্রিয় দর্শন
গোঁফ খেজুরে = নিতান্ত অলস পটল তোলা = মারা যাওয়া
চাঁদের হাট =  প্রিয়জনের সমাগম শকুনি মামা  = কুচক্রী মামা
ননীর পুতুল = শ্রমবিমুখ পায়াভারী  = অহংকারী
ছা-পোষা = পোষ্য ভারাক্রান্ত নিরানব্বইয়ের ধাক্কা = সঞ্চয়ের প্রবৃত্তি
ঝাকের কই = একই দলের লোক রাবণের চিতা = চির অশান্তি
ঠোঁট কাটা = স্পষ্টভাষী রুই কাতলা = পদস্থ ব্যক্তি 
ডুমুরের ফুল = বিরল বস্তু জিলাপির প্যাচ = কুটিলতা
ঢাকের কাঠি = তোষামুদে ঢাকের বায়া = যার কোন মূল্য নেই
ঢাকঢাক গুড়গুড় = গোপন রাখার চেষ্টা রাজযোটক = চমৎকার মিল
বাঘের দুধ / চোখ = দুঃসাধ্য বস্তু ভূতের বেগার = অযথা শ্রম
অকাল কুষ্মাণ্ড = অপদার্থ অকাল বোধন = অসময়ে আবির্ভাব
অগ্নিশর্মা = নিরতিশয় ক্রুদ্ব আক্কেল দাঁত ওঠা = পাকা বুদ্ধি
আদায় কাঁচ কলায় = ভীষণ শত্রুতা ইতর বিশেষ = পার্থক্য
উড়ো কথা = গুজব এক চোখ দেখানো = ঝগড়ার সম্ভাবনা
এলোপাতাড়ি = বিশৃঙ্খলা শাঁখের করাত = উভয় সংকট
কাঠের পুতুল =  অসার কপাল পোড়া = হতভাগ্য
কালে ভদ্রে = কদাচিৎ কংস মামা = নির্মম আত্মীয়
খন্ড প্রলয় = তুমুল কান্ড গোবর গণেশ = মূর্খ
গোড়ায় গলদ = শুরুতে ভুল গায়ে কাঁটা দেয়া = ভয়ে শিউরে ওঠা
ঘটিরাম = ঘটিরাম ঘোড়া রোগ = সাধ্যের অতিরিক্ত সাদ
ঘোড়ার ঘাস কাটা = বাজে কাজ করা চোখ কপালে তোলা = বিস্মিত হওয়া
চোখের নেশা = রূপের মোহ চুলকালি দেয়া = কলঙ্ক দেয়া
চোখ পাকানো = ক্রুদ্ধ হওয়া ছাইচাপা আগুন = অপ্রকাশিত প্রতিভা
ছারখার হওয়া = ধ্বংস হওয়া জগদ্দল পাথর = গুরুভার
গাছপাথর = হিসাব-নিকাশ টইটম্বুর = ভরপুর
টাকার গরম = ধনের অহংকার ডাকাবুকো = নির্ভীক
ঢেঁকির কচকচি = কলহ তাকলাগা = আশ্চর্য হওয়া
দণ্ড-ব-দণ্ড = হাতে হাতে থানা পুলিশ করা = নালিশ করা
ধামাধরা = চাটুকারিতা নেই আঁকড়া = একগুঁয়ে
নকড়া ছকড়া = হেলাফেলা করা নবমীর দশা = মূর্ছা
নয় ছয় = অপচয় পেটে ভাতে = শুধু আহার্য
পালের গোদা = দলপ্রতি বুকের পাটা = সাহস
বর্ণচোরা আম = কপট ব্যাক্তি বিন্দু বিসর্জন = সামান্যতম
বাড়াভাতে ছাই = আশাভঙ্গে  ভাগার ফলা = অনুর্বর
ভাড়ে মা ভবানী = রিক্ত হস্ত মাছের মা = নির্মম
মানিক জোড় = অন্তরঙ্গ বন্ধু মন না মতি = অস্থির মানব মন
যক্ষের ধন = কৃপণের কড়ি ফবনিকা পতন = পরিসমাপ্তি
যম যন্ত্রণা = মৃত্যুর যন্ত্রণা রাশ ভারি = গম্ভীর প্রকৃতির
রক্তের টান = স্বজনপ্রীতি লম্বা দেয়া = চম্পট দেয়া
লেজে পা পড়া = স্বার্থে আঘাত লাগা গাছপাথর = হিসাব নিকাশ
সাত পাঁচ ভাবা = নানা রকম চিন্তা সোনার পাথর বাটি = অসম্ভব বস্তু
সপ্তমে চড়া = প্রচণ্ড উত্তেজনা হ-য-ব-র-ল = বিশৃঙ্খলা
হরিনে বিষাদ = আনন্দে বিষাদ হাড়হদ্দ = নাড়ি নক্ষত্র
হন্তমুর্খ = বোকা।  শনির দশা = দুঃসময়

সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দ

অংশ- ভাগ অংস- কাঁধ অবিরাম- অবিশ্রান্ত অভিরাম- সুন্দর অনু- বস্তুর ক্ষুদ্রতম অংশ অনু- পশ্চাৎ 
অলিক- কপাল অলীক-  মিথ্যা অশ্ব-  ঘোড়া অশ্ম- পাথর অসুর-  দৈত্য অশূর –  যে বীর নয়
অন্ন –  খাদ্য অন্য-    অপর অপচয়- ক্ষতি অবচয়-  চয়ন অনিল-  বায়ু অনীল- যা নীল নয়  
অবদ্য – নিন্দনীয় অবধ্য – বধের অযোগ্য ঈশ – ঈশ্বর ঈষ – লাঙ্গদণ্ড আপণ – দোকাণ আপন – নিজ
আশি – অশীতি (৮০) আশী – সাপের বিষদাঁত আসি – আগমন করি আবাস – বাসস্থান আভাষ – ভূমিকা আভাস – ইঙ্গিত আপ্ত – প্রাপ্ত আর্ত – পীড়িত আত্ম – নিজ
অন্যপুষ্ট – কোকিল অন্নপুষ্ট – ভোজনপুষ্ট উদ্বৃত্ত – বাকি উদ্ধৃত – উত্তোলিত ইলা – বধু, পত্নী ঈলা – পৃথিবী
আষাঢ় – বাংলা মাস বিশেষ আসার – বৃষ্টি, জলকণা আবরণ – আচ্ছাদন আভরণ – অলঙ্কার উপাদান – উপকরণ উপাধান – বালিশ
কৃত্তিবাস – মহাদব কীর্তিবাস – যশস্বী কমল – পদ্ম কোমল – নরম কুজন – খারাপ লোক কূজন – পারিখ রব
কপাল – ললাট কপোল – গণ্ডদেশ কুশাসন – কুশ নির্মিত আসন কু-শাসন – খারাপ শাসন কুল – বংশ, ফল বিশেষ কূল – তীর, কিনারা
খুর – গোরুর পায়ের অংশ ক্ষুর – চাকু জাতীয় খড় – তৃণ খর – তীব্র খরা – রৌদ্র ক্ষরা – ক্ষরণ করা
গাথা, – কবিতা গাঁথা – গ্রথিত গুড় – মিষ্টি বস্তুবিশেষ গুঢ় – গভীর, গুপ্ত চুত – আমফল চ্যুত – জ্বলিত
গোলক – গোলাকার বস্তু গোলোক – স্বর্গ গোঁড়া – অন্ধভক্ত গোড়া – মুল বা নিচের অংশ চির – দীর্ঘ চীর – ছিন্নবস্ত্র
গিরিশ – মহাদের গিরীশ – হিমালয় গোকুল – বৃন্দাবন গো-কুল – গরু জাতি জাল – ফাঁদ জ্বাল – অগ্নিশিখা
ঠক – ধ্বনি ঠগ – প্রবঞ্চক তনু – দেহ তণু – কৃষ ত্বক – চর্ম, ছাল, খোসা তক – পর্যন্ত
গোচর – প্রত্যক্ষ গো-চর – গরু চরার স্থান তরণি – নৌকা তরুণী – যুবতী তপসী – ছোট মাছ বিশেষ তপস্বী – যে তপস্যা করে
জাতি – সম্প্রদায় জাঁতি – সুপারি কাটার যন্ত্র জাতী – পুষ্পবিশেষ দাড়ি – শুশ্রু দাঁড়ি – বিরাম চিহ্ন দাঁড়ী – যে নৌকার দাঁড় টানে চিত – চয়ন করা হয়েছে এমন চিত্ত – মন চিতা – অগ্নি
জেষ্ঠ – অগ্রজ জ্যৈষ্ঠ – মাস বিশেষ দিন – দিবস দীন – দরিদ্র নভ – আকাশ নব – নূতন
নীর – জল নী – পাখির বাসা দূত – সংবাদ বাহক দ্যূত – পাশাদি দ্বারা জুয়াখেলা ধরা – পৃথিবী ধরা – ধারণ করা
দর্প – অহঙ্কার দর্ভ – তৃণ নাড়ি – ধমনী নারী – স্ত্রীলোক নিবার – নিষেধ নীবার – উড়ি ধান
দীপ – প্রদীপ দ্বীপ – জলবেষ্টিত স্থল দ্বিপ – হস্তী নিরত – নিযুক্ত নীরত – বিরত বিষ – রল বিশ – কুড়ি বিস – মৃণাল
বাণ – তির বান – বন্যা মন – চিত্ত মণ – ৪০ সের বিনা – ব্যতীত বীণা – বাদ্যযন্ত্র
পরভূত – কোকিল পরভৃৎ – কাক পান – জল পাণি – হাত পরিচ্ছেদ – পোশাক পরিচ্ছেদ – অধ্যায়
মড়ক – মহামারি মোড়ক – আচ্ছাদনী বিজন – নির্জন বীজন – বতাস দেওয়া মতি – বুদ্ধি মোতি – মুক্তো
বাণী – বাক্য বানি – পারিশ্রমিক লক্ষ – একশ হাজার লক্ষ্য – উদ্দেশ্য যূত – যুক্ত যূথ – পশুপক্ষীর দল
ভরণ – প্রতিপালন ভরণ – নিকৃষ্ট কাঁসাবিশেষ ভোজন – আহার ভজন – আরাধনা যতি – উচ্চারণের বিরাম যতী – মুনি, জিতেন্দ্রিয়
ভান – দীপ্তি, শোভা ভাণ – ছল স্বর – আওয়াজ শর – তীর শিকড় – বৃক্ষের মূল শীকর – জলকণা
ভুঞ্জন – ভোগ করা ভঞ্জন – নিবারণ সবিত্রী – জননী সবিতৃ – সূর্য শীল – চরিত্র শিল – নুড়ি, পাথর
শাদি – বিবাহ সাদী – অশ্বারোহী সূতা – কন্যা সূতা – সূত্র শন – তৃণবিশেষ সন – বৎসর
হাড় – অস্থি হার – অলঙ্কার শিকার – মৃগয়া স্বীকার – অঙ্গীকার সকল – সমস্ত শকল – খণ্ড
হরতাল – ধর্মঘট হরিতাল – পক্ষী বিশেষ ওষধি – একবার ফল দিয়ে যে বৃক্ষ মারা যায় ঔষধি – ভেষজ উদ্ভিদ চড়া – আরোহণ করা চরা – বিচরণ করা

এক কথায় প্রকাশ

নষ্ট হওয়ার স্বভাব যার/যা চিরস্থায়ী নয়- নশ্বর। ফল পাকলে যে গাছ মরে যায় – ওষধি।
অক্ষির সমীপে – সমক্ষ। যে গাছে ফল ধরে, কিন্তু ফুল ধরে না – বনস্পতি।
অক্ষির অভিমুখে – প্রত্যক্ষ। যে স্ত্রীলোক প্রিয় কথা বলে – প্রিয়ংবদা।
অক্ষির অগোচরে – পরোক্ষ। হনন করার ইচ্ছা – জিঘাংসা।
কর্মে যাহার ক্লান্তি নেই – অক্লান্ত কর্মী। যা বলা হবে – বক্তব্য।
যা সহজে অতিক্রম করা যায় না – দুরাতিক্রম্য। স্থায়ী ঠিকানা নেই যার – উদ্ধান্ত।
যে ভূমিতে ফসল জন্মায় না – উস্বর। খেয়া পার করে যে – পাটনী।
যা পূর্বে ছিল এখন নেই – ভূতপূর্ব। উপস্থিত বুদ্ধি আছে যার – প্রত্যুৎপন্নমতি।
যা বলা হয়নি – অনুক্ত। একই সময়ে বর্তমান – সমসাময়িক
যা ক্ষমার যোগ্য – ক্ষমার্হ। পা ধুইবার জল – পাদ্য।
সর্বজন সম্বন্ধীয় – সার্বজনীন। যা চুষে খাওয়া হয় – চুষ্য।
সাপের খোলস – নির্মোক। কর্ম সম্পাদনে অতিশয় দক্ষ – কর্মোদ্যমী।
নিতান্ত দগ্ধ যে সময় – নিদাঘ যা চেটে খেতে হয় – লেহ্য।
যা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে – নষ্টমান। যা অনায়াসে লাভ করা যায় – অনায়াসলভ্য।
যা ধ্বংসশীল – নশ্বর যে তিথি আগমণের কোন সময় নেই – অতিথি।
ক্ষণকাল ব্যাপীয়া স্থায়ী – ক্ষণস্থায়ী। যা স্থায়ী নয় – অস্থায়ী
যে ভবিষ্যত না ভেবেই কাজ করে – অবিমৃশ্যকারী। যে ভবিষ্যতের চিন্তা করে না বা দেখে না – অপরিণামদর্শী।
মর্মভেদ করিয়া যায় যাহা – মর্মভেদী। ইতিহাস রচণা করেন যিনি – ঐতিহাসিক।
ভবিষ্যতে ঘটবেই এমন – ভবিতব্য। হরিণের চর্ম – অজিন।
দগ্ধ হইতেছে এমন – দাহ্যমান। শত্রুকে বধ করে যে – শত্রুঘ্ন।
যা পাঠ করিবার যো্গ্য – পাঠ্য। অন্য ভাষায় রূপান্তর – অনুবাদ।
বরণ করিবার যোগ্য – বরণীয়। কর দেয় যে – করদ।
সরোবরে জন্মায় যাহা – সরোজ। অনেকের মধ্যে একজন – শ্রেষ্ঠ।
যে নারীর স্বামী ও পুত্র মৃত – অবীরা । অর্থ নাই যাহার – নিরর্থক।
যে গাছ কোন কাজে লাগে না – আগাছা। মধা পান করে যে – মাধুকর।
লাফিয়ে চলে যে – প্লবগ। সর্বত্র গমণ করে যে – সবর্গ।
এক থেকে শুরু করে ক্রমাগত – একাদিক্রমে। ব্যাকরণে পণ্ডিত যিনি – বৈয়াকরণিক।
সবার জন্য মঙ্গলজনক – সর্বজনীন ইন্দ্রকে জয় করে যে – ইন্দ্রজিত
ইন্দ্রিয়কে জয় করে যে – জিতেন্দ্রিয় অরিকে দমন করে যে – অরিন্দম
যে বিষয়ে কোন বিতর্ক নেই – অবিসংবাদিত মাটি ভেদ করে উটে যা – উদ্ভিদ

প্রবাদ-প্রবচন

  • অদি দর্পে হত লঙ্কা – অহঙ্কারে পতন অবশ্যম্ভাবী।
  • অল্প বিদ্যা ভয়ংকরী – কম জানার ফলাফল বিপজ্জনক।
  • অতি লোভে তাঁতি নষ্ট – বেশি লোভ করলে সবই হারাতে হয়।
  • অীধক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট – বেশি মাতব্বর থাকলে কাজের উদ্দেশ্য বিফলে যায়।
  • অর্ত অনর্থের মূল – টাকাই সকল অশুভের কেন্দ্রভূমি।
  • আদার বেপারিরর জাহাজের খবর – সাধারণ ব্যক্তির অহেতুক বড় কোনো বিষয়ে চিন্তা করা।
  • আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ – হঠাৎ অপ্রত্যাশিতভাবে ধনী হওয়া।
  • ইটটি মারলে পাটকেলটি খেতে হয় – অন্যের ক্ষতি করলে তার প্রতিফল পেতে হয়।
  • ইচ্ছা থাকলে উপায় হয় – ইচ্ছাই অগ্রগতির প্রেরণা।
  • উলুবনে মুক্তা ছড়ানো – অপাত্রে মূল্যবান কিছু প্রদান।
  • উদোর পিণ্ডে বুধোর ঘাড়ে – একের দায় অন্যের ওপর চাপানো।
  • উঠন্তি মুলো পত্তনেই চেনা যায় – শুরুতের পরিণামের ইঙ্গিত নিহিত থঅকে।
  • এক ক্ষুরে মাথা কামানো – একই মতের/আদর্শের অনুসারী।
  • এক মাঘে শীত যায় না – বিপদ বারবার আসে।
  • এক ঢিলে দুই পাখি মারা – কৌশলে একসঙ্গে দুই কাজ করা।
  • এক হাতে তালি বাজে না – ঝগড়ায় দুই পক্ষেরই সক্রিয়তা থাকে।
  • ওস্তাদের মার শেষ রাতে – পাণ্ডিত্য আর অভিজ্ঞতাই শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে।
  • কানা গরু মানুনকে দান – অকেজো জিনিস দান করে পুণ্য লাভের প্রত্যাশা।
  • কারো পৌষ মাস, কারো সর্বনাশ – একজনের লঅভের কারণে অন্যের ক্ষতি।
  • কয়লা ধুলে ময়লা যায় না – স্বভাবের প্রকৃতি বদলায় না।
  • কত ধানে কত চাল – প্রকৃত অবস্থা পরখ করে দেখা।
  • কই-এর তেলে কই ভাজা – কারো জিনিস দিয়ে তারই সন্তুষ্টি অর্জন।
  • খাজনার চেয়ে বাজনা বেশি – আড়ম্বের বাহুল্য।
  • খুঁটির জোরে ভেড়া নাচে – প্রভাবশালীর দাপটে অন্যের বাহাদুরি।
  • খাল কেটে কুমির আনা – বিপদের পথ সুগম করা।
  • গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল – পাওয়ার আগেই ভোগের আয়োজন।
  • গাছে তুলে মই কাড়া – আশ্বাস দিয়ে প্রতারণা করা।
  • ঘর পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পায় – বিপদে বিপর্যস্তরা অল্পতে ভয় পায়।
  • ঘোড়া ডিঙ্গিয়ে ঘাস খাওয়া – কর্তার উপর বাহাদুরির চেষ্ট।
  • চকচক করলেই সোনা হয় না – উজ্জ্বলতাই ভালোত্বের লক্ষণ নয়।
  • চোখে আঙুল দিয়ে দেখানো – নির্দিষ্ট করে দেখানো
  • চোরে চোরে মাসতুতো ভাই – একই স্বভাবের মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে।
  • চোখে সর্যে ফুল দেখা – কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়া।
  • চোরের মার বড় গলা – অপরাধীর বাহাদুরি।
  • ছেলের হাতের মোয়া –  যা সহজে করায়ত্ত করা সম্ভব।
  • ছয়কে নয়, নয়কে ছয় করা – উল্টাপাল্টা করা।
  • জলে কুমির ডাঙ্গায় বাঘ – দুই দিকেই বিপদ।
  • জ্বলন্ত আগুনে ঘি দেওয়া – উসকে দেওয়া।
  • জুতো সেলাই থেকে চণ্ডী পাঠ – ছোট বড় যাবতীয় কাজ করা।
  • ঝিকে মেরে বৌকে শেখানো – কৌশলে শিক্ষা দেওয়া।
  • ঝোপ বুঝে কোপ মারা – সুযোগ সন্ধানী।
  • ঢাল নেই তলোয়ার নেই, নিধিরাম সর্দার – অযথা বাহাদুরি।
  • তিলকে তাল করা – ছেঅট বিষয়কে বড় করে রটানো।
  • তেলা মাথায় তেল দেয়া – যার আছে তাকেই দেবার প্রবৃত্তি।
  • তিল কুড়িয়ে তাল – ছোট ছোট সঞ্চয় থেকে বড় কিছু তৈরি করা।
  • দুই নৌকায় পা দেওয়া – উভয় কূল রক্ষার চেষ্টা।
  • ধরি মাছ না ছুঁই পানি – কৌশলে কার্যসিদ্ধি।
  • ধর্মের কল বাতাসে নড়ে – গোপন অকর্ম প্রকাশ পায়।
  • ধান ভানতে শীবের গীত – অপ্রাসঙ্গিক প্রসঙ্গের অবতারণা।
  • নাকে সর্ষের তেল দিয়ে ঘুমানো – বাস্তবতা থেকে দূরে থাকা।
  • নিচর পায়ে দাঁড়ানো – স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া।
  • নিচের পায়ে কুড়াল মারা – নিজেই নিজের ক্ষতি করা।
  • নুন আনতে পান্তা ফুরায় – প্রকট দারিদ্র্য।
  • পুরনো কাসুন্দি ঘাঁটা – বাতিল প্রসঙ্গ টেনে আনা।
  • ফুলের ঘায়ে মুর্চা যাওয়া – বেশি ন্যাকামি করা।
  • বনগাঁয়ে শেয়াল রাজা – যোগ্যব্যক্তির অভাবে অযোগ্যই নেতা হয়।
  • বানরের গলায় ‍মুক্তোর মালা – অপাত্রে মূল্যবান বস্তু।
  • বিনা মেঘে বজ্রপাত – হঠাৎ বিপদের আবির্ভাব।
  • ভিটেয় ঘুঘু চড়ানো – মারাত্মক সর্বনাশ করা।
  • ভূতের বেগার খাটা – অপ্রয়োজনে অন্যের কাজ করা।
  • ভূতের মুখে রাম নাম – নিন্দাকারিরর মুখে স্তুতি।
  • মরা হাতি লাখ টাকা – প্রকৃত মূল্যবানের মর্যাদা কমে না।
  • মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা – কষ্টের ওপর কষ্ট।
  • মশা মারতে কামান লাগানো – সামান্য কাজে বিরাট শক্তির প্রয়োগ।
  • মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন – উদ্দেশ্য হাসিলে দৃঢ়সংকল্প।
  • মহাভারত অশুদ্ধ হওয়া – পাপবিদ্ধ হবার ভাবনা।
  • মাছের মায়ে পুত্রশোক – অবিশ্বাস্য হাহাকার।
  • যতক্ষণ শ্বাস, ততক্ষণ আশ – পরিণতি পর্যন্ত প্রত্যাপশা জিইয়ে রাখা।
  • যত দোষ নন্দ ঘোষ – অসহায়দের ওপর অযথাই দায় চাপানো।
  • যেমন কর্ম, তেমন ফল – শ্রম ও নিষ্ঠা অনুযায়ী ফল লাভ।
  • যেখানেই রাত, সেখানেই কাত – শৃঙ্খলাহীন জীবন।
  • রতনে রতন চেনে – একই জাতীয় ব্যক্তিদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
  • রথ ধেকা কলা বেচা – এক সাথে দুই কাজ করা।
  • লাগে টাকা দেবে গৌরী সেন – অনিশ্চয়তায় নির্ভরতা।
  • লালবাতি জ্বলা – ধ্বংস হয়ে যাওয়া।
  • ষোলকলা পূর্ণ হওয়া – কোনো বিষয়ে পরিপুর্ণতা অর্জন।
  • সময়ে একফোঁড় অসময়ের দশ ফোঁড় – যথার্থ সময়ে পদক্ষেপ নিলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

বাংলা সাহিত্য

বাঙ্গালা ও বাঙ্গালী/বাঙালি

  • খ্রিষ্টপূর্ব তিন হাজার বছর আগের ঋগ্বেদের “ঐতরেয় আরণ্যক” গ্রন্থে প্রথম ‘বঙ্গ’ নামক দেশের উল্লেখ পাওয়া যঅয়।
  • মোগল সম্রাট আকবরের সভাসদ বিখ্যাত ঐতিহাসিক আবুল ফজল তাঁর আইন-ই-আকবরী’ গ্রন্থে সর্বপ্রথম দেশবাচক “বাঙ্গালা” (‘বঙ্গ’ শব্দের সাথে ‘আল’ শব্দের মিলিত রূপ) শব্দটি ব্যবহার করেছেন।
  • নৃতাত্ত্বিক বিচারে বাঙালি শংকর জাতি। তাই একক জাতিগোষ্ঠী নির্ণয় খুবই দুরুহ। শংকর বাঙালি জাতিতে দ্রাবিড় উপাদান প্রধান, তবে জনতত্ত্বের বিচারে দ্রাবিড় ও অস্ট্রিক-ভাষীরা িএকই জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভূক্ত। আর প্রাক-ঐতিহাসিক যুগে খর্বকায় নিগ্রোটাদের পরেই অঅসে অস্ট্রিকরা। সে বিচারে অস্ট্রিকরাই বাঙালির প্রধান অংশ (অজয় রায়: ‘বাঙলা ও বাঙালী’)।

বাংলা ভাষা ও লিপি

  • বাংলাভাষার আদি উৎস ‘ইন্দো ইউরোপীয়’ ভাষা। এর দুটি শাখা-১. কেন্তুম ও ২. শতম।
  • বাংলা ভাষার উৎপত্তি ‘শতম’ অংশ থেকে।

ধারাবাহিক রূপ:

শতম (৩৫০০ খ্রি. পূর্ব) > প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা > প্রাচীন ভারতীয় (কথ্যরূপ/সাহিত্যরূপ)>প্রাচীন প্রাচ্য প্রাকৃত > মাগধী/গৌড়ীয় প্রাকৃত> মাগধী/ গৌড়ীয় অপভ্রংশ > বাংলা।
  • ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে বাংলা ভাষার উৎপত্তি গৌড়ীয় প্রাকতৃ থেকে খ্রিষ্টীয় সপ্তম শতাব্দীতে।
  • ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে বাংলা ভাষার উৎপত্তি মাগধী প্রাকৃত থেকে খ্রিষ্টীয় দশম শতাব্দীতে।
  • প্রাচীন ভারতীয় লিপি দুই ভাগে বিভক্ত- ১. ব্রাহ্মী লিপি ও ২. খরোষ্ঠী লিপি।
  • বাংলা লিপির উদ্ভব হয়েছে ভ্রাহ্মী লিপি থেকে।
  • আধুনিক বাংলালিপির জনক – পঞ্চানন কর্মকার।

বাংলা সাহিত্যের যুগবিভাগ

প্রাচীন যুগ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ মতে ৬৫০-১২০০ খি. ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে ৯৫০-১২০০ খ্রি.   মধ্যযুগ ১২০১-১৮০০ খ্রি. পর্যন্ত, তবে (১২০১-১৩৫০) সময়টিকে ‘অন্ধকার যুগ’ বলা হয়
  আধুনিক যুগ ১ম পর্ব : ১৮০০-১৮৬০ খ্রি. দ্বিতীয় পর্ব : ১৮৬০ – বর্তমান  

প্রাচীন যুগ ও মধ্যযুগ

প্রাচীন যুগ

  • বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন ‘চর্যাপদ’; এটি প্রাচীন যুগের একমাত্র সৃষ্টি।
  • চর্যাপদের রচনাকাল – মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে- (৬৫০-১২০০) খ্রি: মধ্যে।

সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে (৯৫০-১২০০) খ্রি: মধ্যে।

  • ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত Sanskrit Buddhist Literature in Nepal গ্রন্থে রাজা রাজেন্দ্রলাল মিত্র সর্বপ্রথম নেপালের বৌদ্ধতান্ত্রিক সাহিত্যের কথা প্রকাশ করেন।
  • ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে (বাংলা ১৩১৪) মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের “রাজদরবার গ্রন্থাগার” থেকে ‘চর্যাপদ’ আবিষ্কার করেন এবং ১৯১৬ (বাংলা ১৩২৩) খ্রিষ্টাব্দে চর্যাচর্যবিনিশ্চয়, সরহপাদ ও কৃষ্ণপাদের দোহা এবং ডাকার্ণব এই চারটি পুঁথি একত্রিত করে ‘বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ’ থেকে “হাজার বছরের পুরান বাংলা ভাষার বৌদ্ধগান ও দোহা’ নামে প্রকাশ করেন।
  • ‘চর্য্যাচর্যবিনিশ্চয়’ নামটি দিয়ে ছিলেন হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।
  • ‘চর্যা’ শব্দের অর্থ হল ‘আচরণ’। চর্যাপদের মূল বিষয় বস্তু বৌদ্ধ ধর্মের গূঢ় ও তত্ত্বকথা।
  • চর্যাপদের আবিষ্কুত পদের সংখ্যা সাড়ে ছেচল্লিশটি। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, পদের সংখ্যা ৫০টি এবং সুকুমার সেনের মতে, পদের সংখ্যা ৫১টি।
  • ২৩ নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া যায় এবং ২৪, ২৫ এবং ৪৮ নং পদগুলো পাওয়া যায়নি।
  • ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত ‘Buckllist Mistic Song’ গ্রন্থে ২৩ জন পদকর্তার কথা বলা হয়েছে।
  • সুকুমার সেন ‘বাংলা সাহিত্যেল ইতিহাস’ (১ম খণ্ড) গ্রন্থে ২৪৫ জন পদকর্তার কথা বলেছেন।
  • চর্যাপদের প্রথম পদটির রচয়িতা লুইপা।
  • চর্যাপদের সবচেয়ে বেশি পদ রচনা করেছেন কাহ্নপা (১৩টি) যার অন্য নাম ‘কৃষ্ণাচার্য’।
  • ভুসুকুপা লিখেছেন ৮টি পদ।
  • ‘অপণা মাংসে হরিণা বৈরী’ পঙক্তিটির রচয়িতা ভুসুকুপা।
  • ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে ‘শবরপা ও ভুসুকুপা’ বাঙালি ছিলেন।
  • অনেকের মতে, কুক্কুরীপা’ নারী পদকর্তা ছিলেন।
  • হরপ্রসাদ শাস্ত্রী চর্যাপদের ভাষার নাম দিয়েছেন ‘সন্ধ্যাভাষা’ বা ‘আলো আঁধারী ভাষা’।
  • ড. মহুম্মদ শহীদুল্লাহর মতে চর্যাপদের ভাষা- বঙ্গকামরুপী।
  • চর্যাপদের ভাষা বাংলা- প্রমাণ করেন সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়।
  • চর্যাপদের টীকাকার- মুনিদত্ত।
  • ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় Origin and Development of the Bengali Language (ODBL) নামক বিখ্যা গ্রন্থে ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দে চর্যাপদের ভাষাতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য প্রথম আলোচনা করেন। ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ চর্যাপদের ধর্মমত সম্পর্কে আলোচনা করেন এবং ১৯৩৮ খ্রিষ্টাব্দে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদ প্রকাশ করেন।
  • আধুনিক ছন্দ বিচারে চর্যাপদ মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
  • চর্যাপদের অন্য নাম – চর্যাগীতিকোষ, দোহাকোষ।
বঙ্গভাষা ও সাহিত্য (বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাস গ্রন্থ) ড. দীনেশচন্দ্র সেন
বাংলা সাহিত্যেল কথা ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
বাংলণা ভাষার ইতিবৃত্ত (প্রবন্ধ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
বাঙলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত মুহম্মদ আব্দুল হাই ও সৈয়দ আলী আহসান
বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা গোপাল হালদার
  • ১২০১ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কালকে মধ্যযুগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
  • মধ্যযুগের অন্তর্গত ১২০১ থেকে ১৩৫০ খ্রিস্টাব্দে পর্যন্ত কোন উল্লেখযোগ্য সাহিত্য পাওয়া যায়নি বলে এ সময়টাকে বলা হয় ‘অন্ধকার যুগ’।
  • তবে অন্ধকার যুগের লক্ষনীয় সাহিত্য হল ত্রয়োদশ শতকে রামাই পণ্ডিত রচিত ধর্মপূজার শাস্তগ্রন্থ ‘শূণ্যপূরাণ’। এটি ছিল সংস্কৃত গদ্যপদ্য মিম্রিত চম্পুকাব্য।
  • ‘নিরঞ্জনের উষ্মা’ শূণ্যপূরাণ গ্রন্থের অন্তর্গত একটি কবিত।
  • এই সময়ে রাজা লক্ষণ সেনের সভাকবি হলায়ুধ মিশ্র রচনা করেন ‘সেক শুভোদয়’ এটিও ছিল সংস্কৃত গদ্যপদ্য মিশ্রিত চম্পুকাব্য।

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন

  • মধ্যযগের রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্য গ্রন্থ ‘ম্রীকৃষ্ণকীর্তন’।
  • শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের রচয়িতা মধ্যযুগের আদি কবি বড়ু চণ্ডীদাস। প্রধান চরিত্র- রাধা, কৃষ্ণ, বড়াই; বড়াই ছিলো রাধা কৃষ্ণের প্রেমের দূতী।
  • ১৩ খণ্ড বিশিষ্ট্য এই কাব্য চতুর্দশ শতাব্দীতে রচিত হয়। ড. মহুম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, এটি ১৪’শ খ্রিস্টাব্দের; সুনীতি কুমার এর মতে, ১৪’শ বা ১৪৫০ খ্রিস্টাব্দের রচনা।
  • ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে (১৩১৬ বঙ্গাব্দ) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বস্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাঁকিল্যা গ্রামের এক গৃহস্থ বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন আবিষ্কার করেন এবং ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) নিজ সম্পাদনায় ‘বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ’ থেকে প্রকাশ করেন।

মঙ্গলকাব্য

  • দেবদেবীর মহাত্ন্য নির্ভর ও দেবতাদের কাছে মঙ্গল কামনা করে রচিত কাব্য-ই মঙ্গলকাব্য। অন্যমতে, কাব্যগুলো এক মঙ্গলবারে শুরু করে আরেক মঙ্গলবার পর্যন্ত গাওয়া হতো বলে এগুলো মঙ্গলকাব্য নামে পরিচিত। মঙ্গল কাব্যেল ৩টি শাখা- ১. মনসামঙ্গল, ২. চণ্ডীমঙ্গল, ৩. অন্নদামঙ্গল। উল্লেখ্য- বিহারীলাল চক্রবর্তীর সরদামঙ্গল কাব্য মঙ্গলকাব্য নয়, এটি আধুনিক কাব্য।
  • মঙ্গলকাব্য রচনার কারণ- স্বপ্নেপ্রাপ্ত দেবীর আদেশ।
  • মনসামঙ্গলের আদি কবি কানা হরিদত্ত। এছাড়াও অন্যান্য রচয়িতা হলেন নারায়নদেব, বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস পিপিলাই, দ্বিজবংশীদাস।
  • বিপ্রদাস পিপিলাই রচিত মঙ্গলকাব্যেল নাম মনসাবিজয়।
  • মনসামঙ্গল কাব্যকে ‘পদ্মপুরাণ’ নামে অভিহিত করা হয়।
  • চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তী (ষোড়শ শতক)।
  • অন্নদামঙ্গল কাব্য ধারার প্রধান কবি কৃষ্ণনগর রাজসভার কবি- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
  • ধর্মমঙ্গল কাব্যের প্রধান কবি ময়ূরভট্ট।
  • বিজ বংশীদাসের জন্ম- কিশোরগঞ্জে, তিনি চন্দ্রবতীর পিতা; চন্দ্রবতী ছিলেন বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা কবি ও রামায়ণের প্রথম মহিলা অনুবাদক।
  • মুকুন্দরাম চক্রবর্তীকে ‘কবিকষ্কণ’ উপাধি দেন জমিদার রঘুনাথ রা
    য়।
  • ভারতচন্দ্র রায়কে ‘গুণাকর’ উপাধি দেন নবদ্বীপ বা নদীয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্র।
  • মঙ্
    ল ধারার সর্বশেষ (১৮ শতক) কবি বা নাগরিক কবি ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর।
  • ‘আমান সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে’- ভারতচন্দ্র রচিত অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র ঈশ্বরী পাটনীর উক্তি।
  • ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে অর্থাৎ পলাশী যুদ্ধের তিন বছর পর ভারতচন্দ্র মারা যান।
চণ্ডীমঙ্গল মানিক দত্ত/মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
মনসামঙ্গল কানাহরি দত্ত
অন্নদামঙ্গল ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর
ধর্মমঙ্গল ময়ূরভট্ট
মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?বড়র পিরীতি বালির বাঁধ ক্ষণে হাতে দড়ি ক্ষণেকে চাঁদ।কড়িতে বাঘের দুধ মিলেজন্মভূমি জননী স্বর্গের গরিয়সী।

বৈষ্ণব পদাবলি

  • শ্রীচৈতন্যদেবের বৈষ্ণব ধর্মদর্শন এবং রাধা-কৃষ্ণের প্রেম-লীলা অবলম্বনে বৈষ্ণব-সাহিত্য সৃষ্টি হয়।
  • বিদ্যাপতি, চণ্ডীদাস, জ্ঞানদাস, গোবিন্দ দাস বৈষ্ণব পদাবলীর চার মহাকবি।
  • বিদ্যাপতি ও গোবিন্দ দাস লিখেছেন ব্রজবুলি ভাষায় এবং চণ্ডীদাস লিখেছেন খাঁটি বাংলা ভাষায়।
  • বৈষ্ণব পদকর্তঅদের মহাজন বলা হয়।
  • ব্রজবুলি একটি কৃত্রিম কবিভাষা। বাংলা ও মৈথিলী ভাষা মিলে এ ভাষার সৃষ্টি।
  • মিথিলার কবি বিদ্যাপতি বাঙালি না হয়েও বৈষ্ণব সাহিত্যে গুরুস্থানীয় হয়ে আছেন।
  • বিদ্যাপতির উপাধি ছিল- কবিকণ্ঠহার।
  • বৈষ্ণব কবিতার সর্বপ্রথম পদ সংকলন করেন বাবা আউল মনোহর দাস।তার সংকলনের নাম ‘পদ সমুদ্র’।
  • বাংলা একটি পংক্তি না লিখলেও বাংলা সাহিত্যে চৈতন্যদেবের নামে একটি যুগের সৃষ্টি হয়েছে, চৈতন্যদেব ছিলেন বৈষ্ণব ধর্মের প্রচারক।
  • বাংলায় চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী গ্রন্থ রচনা করেন বৃন্দাবন দাস ‘চৈতন্য-ভাগবত’ নামে।
  • গুরুত্বপূর্ণ বৈষ্ণব পদ:
শুনহ মানুষ ভাই––– সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই (চণ্ডীদাস)। আমারি বধূয়া আন বাড়ি যায় –– আমারি আঙিনা দিয়া (দ্বিজ চণ্ডীদাস)। সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু অনলে পুড়িয়া গেল (জ্ঞানদাস)। রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর (জ্ঞানদাস)।

বাংলা ভাষা ও সাহিত্য

মুসলিম সাহিত্য

  • বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে মুসলিম কবিদের উল্লেখযোগ্য অবদান- রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান।
  • বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর (১৫শতক)।
  • ‘ইউসুফ-জোলেখা’ কাব্যগ্রন্থটি লিখেছেন শাহ মুহম্মদ সগীর, গিয়াসউদ্দিন আযমন শাহ্ এর আমলে।
  • শাহ্ মুহম্মদ সগীর বাংলা সাহিত্যেল প্রথম রোমান্টিক কবি এবং ইউসুফ-জোলেখা বাংলা সাহিত্যেল প্রথম রোমান্টিক কাব্য।
  • ‘ইউসুফ-জোলেখা’ আরও লিখেন আব্দুল হাকিম, ফকির গরীবুল্লাহ, ফকির মুহম্মদ প্রমুখ।
  • ‘লায়লী-মজনু’ প্রথম রচনা করেন- দৌলত উজির বাহরাম খান, তার অন্য কাব্য––– জঙ্গনামা।
  • বাংলা ভাষার ‘লায়লী-মজনু’ কাব্য পারসি কবি জামি-র ‘লায়লা ওয়া মজনুন’ এর ভাবানুবাদ।
  • হিন্দি কবি মনঝনের ‘মধুমালতী’ বাংলায় রচনা করেন মুহম্মদ কবীর।
  • সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী’র রচয়িতা সতের শতকের কবি দৌলত কাজী, কিন্তু শেষ করেন আরাকান রাজসভার কবি আলাওল।
  • হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়াসির পদুমাবৎ কাব্য থেকে সপ্তদশ শতকে কবি আলাওল পদ্মবতী (১৬৮৮) কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন। এছাড়াও তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ সয়ফুলমূলক বদিউজ্জামান, সিকান্দারনামা।
  • কোরেশী মাগন ঠাকুরের উৎসাহে আলাওল কাব্য রচনা করেন।
  • মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলমান কবি আলাওলের নীতিকাব্য- তোহফা।
  • কোরেশী মাগন ঠাকুর এর কাব্যগ্রন্থ- চন্দ্রবতী।
  • মর্সিয়া আরবি শব্দ, যার অর্থ শোক করা, বিলাপ করা।
  • মর্সিয়া সাহিত্যের আদি কবি শেষ ফয়জুল্লাহর গ্রন্থের নাম জয়নাবের চৌতিশা।
  • মর্সিয়া সাহিত্যের উপজীব্য কারবালার বিষাদময় ঘটনা এবং ইমাম হোসেনের করুণ পরিণতি।
  • আব্দুল হাকিম রচিত কাব্য- ইউসুফ-জোলেখা, নূরনামা।
  • দৌলত উজির বাহরাম খানের ‘জঙ্গনামা’ একটি মর্সিয়া সাহিত্য।
  • ‘যে সবে বঙ্গেতে জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী

যে সব কাহার জন্ম নির্ণয় না জানি।’ – বঙ্গবাণী (আবদুল হাকিম)।

অনুবাদ সাহিত্য

  • সংস্কৃত ভাষায় লিখিত পৌরণিক কাব্য মহাভারতের মূল রচয়িতা কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাস দেব।
  • মহাভারত প্রথম বাংলা অনুবাদ করেন কবীন্দ্র পরমেশ্বর।
  • সুলতান হোসেন শাহের সেনাপতি পরাগলা শাহ’র পৃষ্ঠপোষকতায় কবীন্দ্র পরমেশ্বর মহাভারত রচনা করেন যা ‘পরাগলী মহাভারত’ নামে পরিচিত।
  • পরাগল খানের ছেলে ছুটি খানের পৃষ্ঠপোষকতায় শ্রীকরনন্দী ‘ছুটি খানি মহাভারত’ রচনা করেন।
  • মহাভারতের জনপ্রিয় ও প্রাঞ্জল অনুবাদক কামীরাম দাস (১৭ শতক)।
  • সংস্কৃত ভাষায় লিখিত পৌরাণিক মহাকাব্য রামায়ণের মূল রচয়িতা বাল্মীকি।
  • রামায়ণের প্রথম বাংলা অনুবাদক ও শ্রেষ্ঠ অনুবাদক- কৃত্তিবাস ওঝা।
  • রামায়ণের প্রথম মহিলা অনুবাদক- চন্দ্রবতী, তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা কবি।
  • শাহনামা মৌলিক গ্রন্থের রচয়িতা- ইরানের কবি ফেরদৌসি, বাংলা অনুবাদক- মোজাম্মেল হক।

উল্লেখযোগ্য অনুবাদ সাহিত্য

মূল গ্রন্থ মূল গ্রন্থের ভাষা অনুবাদ গ্রন্থ অনুবাদক
বাল্মীকি রচিত ‘রামায়ণ’ সংস্কৃত রামায়ণ কৃত্তিবাস, চন্দ্রবতী।
কৃষ্ণ দ্বেপায়ন ব্যাসদেব রচিত ‘মহাভারত’ সংস্কৃত মহাভারত প্রথম অনুবাদক- কবীন্দ্র পরমেশ্বর, শ্রেষ্ঠ অনুবাদক- কাশীরাম দাস
কৃষ্ণ দ্বেপায়ন ব্যাসদেব রচিত ‘ভাগবত পুরান’ সংস্কৃত শ্রীকৃষ্ণ বিজয় মালাধর বসু
মালিক মুহম্মদ জায়সী রচিত ‘পদুমাবত’ হিন্দি পদ্মাবতী আলাওল
মনঝন রচিত ‘মধুমালত’ হিন্দি মধুমালতী মুহম্মদ কবীর সৈয়দ হামজা শাকের মুহম্মদ
সাধন রচিত ‘মৈনাসত’ মোল্লা দাউদ রচিত চন্দায়ন হিন্দি সতীময়না- লোর- চন্দ্রানী দৌলত কাজী আলাওল
আলেফ লায়লা ওয়া লায়লা ফারসি সয়ফুলমূলক- বদিউজ্জামান আলাওল দোনা গাজী চৌধুরী
নিজামী রচিত ‘হফত পয়কর’ ফারসি হপ্ত পয়কর আলাওল
ইউসুফ গদা রচিত ‘তোহফা তুন নেসায়েহ’ ফারসি তোহফা আলাওল
ফেরদৌস রচিত ‘ইউসুফ ওয়া জুলয়খা’ ফারসি ইউসুফ-জোলেখা (আদি উৎস আরবি) শাহ মুহম্মদ সগীর আব্দুল হাকিম ফকির গরীবুল্লাহ
জামী রচিত ‘লায়লা ওয়া মজনুন’ ফারসি লায়লী-মজনু দৌলত উজির বাহরাম খান

গীতিকা

  • আখ্যানমূলক লোকগীতি বাংলা সাহিত্যে ‘গীতিকা’ নামে পরিচিত।
  • ‘গীতিকা’ –কে ইংরেজিতে বলা হয় Ballad, যা ফরাসি Ballet বা নৃত্য শব্দ থেকে এসেছে।
  • মৈমনসিংহ গীতিকা ২৩টি ভাষায় অনূদিত হয়।
  • ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে ‘মৈমনসিংহ গীতিকা’ নামে সংকলনটি প্রকাশিত হয়। ‘মহুয়া’ পালাটির রচয়িাত দ্বিজ কানাই এবং ‘দেওয়ানা মদিনা’ পালাটির রচয়িতা মনসুর বয়াতি।
  • ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে প্রথমবার স্যঅর জর্জ গ্রীয়ারসন রংপুর থেকে সংগৃহীত একটি গীতিকা ‘মাণিকচন্দ্র রাজার গান’ নাম দিয়ে এশিয়াটিক সোসাইটির জার্নালে প্রকাশ করেন।
  • ময়মনসিংহ গীতিকার অন্তর্গত গীতিকাগুলো হচ্ছে- মহুয়া, মলুয়া, চন্দ্রবতী, কমলা, দেওয়ান ভাবনা, দেওয়ানা মদিনা, দস্যু কেনারামের পালা, কফন চোর, চৌধুরীর লড়াই, ভেলুয়া ইত্যাদি।
  • ড. দীনেশচন্দ্র সেনের উদ্যোগে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ‘ময়মনসিংহ গীতিকা’ ও পূর্ববঙ্গ গীতিকা নামে চার খণ্ডে প্রকাশিত হয়।
  • গীতিকাগুলোর সংগ্রাহকের কাজ করেন- চন্দ্রকুমার দে, জসীমউদ্দীন, আশুতোষ চৌধুরী, বিহারীলাল সরকার, নগেন্দ্রচন্দ্র দে, মনোরঞ্জন চৌধুরী।

যুগ সন্ধিক্ষণ

  • ১৭৬০-১৮৬০ খ্রিস্টাব্দকে বাংলা সাহিত্যের যুগ সন্ধিক্ষণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
  • যুগ সন্ধিক্ষণকে কেউ কেউ অবস্খয় যুগ বলে উল্লেখ করেছেন।
  • এ সময়ে কবিগান, পুঁথিসাহিত্য, টপ্পাগান, পাঁচালীর প্রচলন হয়।
  • ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে যুগসন্ধিক্ষণের কবি বলা হয়।

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত

  • যুগসন্ধির কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ১৮১২ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনার কাঁচড়াপাড়ার শিয়ালডাঙ্গায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
  • তার বিখ্যাত কবিতা- তপসে মাছ, বাঙালি মেয়ে, আনারস, নীলকর।
  • তার কাব্যগ্রন্থ- ‘প্রবোধ প্রভাকর’, ‘হিত প্রভাকর’ এবং নাটক- ‘বোধেন্দু বিকাশ’।
  • সম্পাদিত পত্রিকা- সংবাদ প্রভাকর, সংবাদ রত্নাবলী, সংবাদ সাধুরঞ্জন, পাষণ্ড পীড়ন।
  • তার ‘বাঙালীর মেয়ে’ কবিতায় স্ত্রী শিক্ষার প্রতি সমর্থন ছিল না।
  • আধুনিক যুগের প্রথম কবি ঈশ্বর গুপ্তকে বলা হয়- ‘কবিওয়ালাদের শেষ প্রতিনিধি’।

পুঁথি সাহিত্য

  • অষ্টাদশ শতকের দ্বিতীয়ার্থে আরবি-ফারসি শব্দ মিশ্রিত কাব্যকে ‘দোভাষী পুঁথি’ বলে।
  • ফকির গরীবুল্লাহ পুঁথি সাহিত্যের প্রথম সার্থক ও জনপ্রিয় কবি। তার কাব্য- আমীর হামজা, ইউসুফ-জোলেখা, সোনাভান।
  • পুঁথি সাহিত্যের ভাষার বৈশিষ্ট্য- ইসলামী চেজনা সম্পৃক্ত।
  • দোভাষী বাংলায় রচিত পুঁথি সাহিত্য কে বলা হয়- বটতলার পুঁথি।

কবিওয়ালা ও শায়ের

  • কবিওয়লা ও শায়েরের উদ্ভব- আঠারো শতকের মাঝামাঝি থেকে উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে।
  • আরবি-ফারসি-হিন্দি-উর্দু ভাষার মিশ্রণে মুসলমান কাব্য রচয়িতাদের বলা হতো- শায়ের।
  • কবিতাকে জীবিকা নির্বাহের উপায় হিসেবে গ্রহণকারীদের বলা হতো- কবিওয়ালা।

কবিগাণ

  • দুই পক্ষের তর্ক-বিতর্কের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত গানকে- কবিগান বলা হয়।
  • কবিগাণের আদিগুরু- গোঁজলা গুই, শ্রেষ্ঠ রচয়িতা- হরু ঠাকুর।
  • কবিগান রচনা ও পরিবেশনায় বিশেষভাবে সুখ্যাতি লাভ করেছিলেন এন্টনি ফিরিঙ্গি, রাম বসু ও ভোলা ময়রা।
  • কবিয়াল এন্টানি ফিরিঙ্গিকে নিয়ে ভারতে বাংলা ভাষায় নির্মিত চলচ্চিত্র- চাতিস্মর।

টপ্পাগান

  • টপ্পাগান এর উদ্ভব- কবিগানের সমসাময়িককালে, হিন্দি টপ্পাগান এর আদর্শে।
  • বাংলা টপ্পাগানের জনক- নিধু বাবু বা রামনিধি গুপ্ত (১৮৪১-১৮৩৯)।
  • আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার সূত্রপাত- টপ্পাগান থেকে।
  • টপ্পাগান রচয়িতা- কালী মির্জা ও শ্রীধর কথক।
  • নিধুবাবুর একটি গান:

নানান দেশের নানান ভাষা।

বিনে স্বদেশীয় ভাষে পুরে কি আশা।

কত নদী সরোবর কিবা ফল চাতকীর

ধারাজল বিনে কভু ঘুচে কি তৃষা।

পাঁচালীগান

  • পাঁচালী গানের শক্তিশালী কবি- দাশরথি রায়/‘দাশু রায়’ (১৮০৬-৫৭)।
  • তাঁর পাঁচালী পালা প্রকাশিত হয়েছিল- দশ খণ্ডে।

নাথ সাহিত্য

  • নাথধর্মের কাহিনী অবলম্বনে মধ্যযুগে রচিত আখ্যায়িকাই- নাথ সাহিত্য।
  • প্রাচীনকাল থেকে শিব উপাসকে যোগী সম্প্রদায়ের আচরিত ধর্মের নাম- নাথ ধর্ম।
  • নাথ ধর্মমতের উৎপত্তি- বৌদ্ধধর্মের সঙ্গ শৈবধর্ম মিশে।
  • নাথ সাহিত্যে আদি নাথ, শিব, পার্বতী, মীননাথ, গোরক্ষনাথ, হাড়িপা, কানুপা, ময়নামতী, গোপীচন্দ্রের কাহিনী স্থান পেয়েছে।
  • সিদ্ধাদের ইতিহাস এবং গোরক্ষনাথ কর্তৃক মীননাথকে নারীমোহ থেকে উদ্ধার ‘গোরক্ষ বিজয়’ এবং রানী ময়নামতী ও তার পুত্র গোপীচন্দ্র বা গোবিন্দচন্দ্রের কাহিনী- ‘ময়নামতী বা গোপীচন্দ্রের গান’ নামে পরিচিত।
  • আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ শেখ ফয়জুল্লাকৃত ‘গোরক্ষবিজয়’ কাব্যের পুঁথি আবিষ্কার করে প্রকাশ করেছেন।
  • ‘গোরক্ষবিজয়’ নামে অন্য একটি পুঁথি পঞ্চানন মণ্ডল কর্তৃক সম্পাদিত হয়ে প্রকাশিত হয়েছে।

লোকসাহিত্য

  • ইংরেজিতে Folklore শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ ‘লোকসাহিত্য’।
  • জনসাধারণের মুখে মুখে প্রচলিত গান, কাহিনী, গল্প, ছড়া, প্রবাদই- ‘লোকসাহিত্য’।
  • লোকসাহিত্যের উপদান- জনশ্রুতিমূলক বিষয়।
  • লোকসাহিত্যের প্রাচীনতম সৃষ্টি- ছড়া।
  • পশ্চিমবঙ্গের লোকগীতি- পটুয়া, ভাদু, ঝুমুর; উত্তরবঙ্গের- গম্ভীরা, জাগ, ডাওয়াইয়া; পূববঙ্গের- জারি, ঘাটু।
  • হারামণি হলো- প্রাচীন লোকগীতি, এর সংকলক- মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন।
  • ড. আশুতোষ ভট্টাচার্য লোককথাকে- রূপকথা, উপকথা, ব্রতকথা এই তিন ভাগে ভাগ করেছেন।
  • ‘ঠাকুরমার ঝুলি’, ‘ঠাকুরদার ঝুলি’, ‘ঠানদাদার থলে’ প্রভৃতি জনপ্রিয় রূপকথার সংকলক- দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার।
  • পশুপক্ষীর চরিত্র অবলম্বনে রচিত কাহিনীকে বলে- উপকথা, যেমন: ‘ঈশপের উপকথা’।
  • মেয়েলি ব্রতের সঙ্গে সম্পর্কিত কাহিনী অবলম্বনে রচিত লোককথাই- ‘ব্রত কথা।

আধুনিক যু (১৮০০-বর্তমান পর্যন্ত)

গদ্যের কথা

  • ১৫৫৫ খ্রিস্টাব্দে আসামের রাজা অহোমবাজ স্বর্গনারায়ণের কাছে কোচবিহারের মহারাজা নবনারায়ণ লিখিত পত্রই বাংলা গদ্যের প্রাচীনতম নিদর্শন যা ‘আসামবন্তি’ পত্রিকায় ১৯০১ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশ করা হয়।
  • ১৭৪৩ খ্রিস্টাব্দে পর্তুগালের রাজধানী লিসবন থেকে প্রকাশিত দোম আন্তনিও রচিত ‘ব্রাক্ষণ রোমান ক্যাথলিক সংবাদ’ বাংলা গদ্যের প্রাথমিক প্রচেষ্টা।
  • বাংলা ভাষার প্রথম গদ্য লেখক পর্তুগিজ পাদ্রি মানোএল দা আসসুম্পসাঁউ। রোমান হরফে রচিত তাঁর বইয়ের নাম ‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ’ (শব্দকোষ) এবং ‘ভোকাবুলারিও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ’। প্রকাশিত হয় ১৭৪৩ খ্রিস্টাব্দে লিসবন থেকে।

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ

  • ইংরেজ কর্মচারীদের এদেশী ভাষা ও সংস্কৃতি শিক্ষা দেওয়ার জন্য গভর্নর জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলি কর্তৃক ৪ মে, ১৮০০ ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়, যা ১৮৫৪ খ্রি. পর্যন্ত চালু ছিল।
  • উইলিয়াম কেরিকে প্রধান করে ১৮০১ খ্রি. এ কলেজে বাংলা বিভাগ খোলা হয়।
  • ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে প্রকাশিত প্রথম গ্রন্থ ‘রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র’ – ১৮০১ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়। রচয়িতা- রামরাম বসু। তার অন্য গ্রন্থটি ‘লিপিমালা’। তাকে ‘কেরি সাহেবের মুন্সি’ বলা হতো।
  • ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থ রচনা করেন মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার (৫টি)। বইগুলো হল- বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২); হিতোপদেশ (১৮০২); রাজাবলি (১৮০২); বেদান্তচন্দ্রিকা (১৮১৭); প্ররোধচন্দ্রিকা (১৮৩৩)।
  • উইলিয়াম কেরি-এর লিখিত গ্রন্থ- কথোপকথন (১৮০১); ইতিহাসমালা (১৮১২)।
  • ‘তোতা ইতিহাস’ এর রচয়িতা- চণ্ডীচরণ মুনশী, পুরুষ পরীক্ষা- হরপ্রসাদ রায়।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

  • ২৬ সেপ্টেম্বর, ১৮২০ খ্রিস্টাব্দে মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৯ জুলাই, ১৯৮১ মৃত্যুবরণ করেন।
  • তাঁর পৈতৃক পদবি ‘বন্দ্যোপাধ্যায়’। ১৮৪০ সালে তিনি সংস্কৃত কালেজ থেকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি পান। তিনি ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা নামে স্বাক্ষর করতেন।
  • লর্ড ডালহৌসির শাসনামলে, ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দের ২৬ জুলাই তাঁর প্রচেষ্টায় বিধবা বিবাহর আইন পাশ হয়। এ বিষয়ক তাঁর রচনা- ‘বিধবা প্রচলিত হওয়া উচিত কিনা এতদ্বিষয়ক প্রস্তাব’ (১৮৫৫)।
  • গদ্য সৃষ্টির প্রাথমিক পর্যায়ে শৃঙ্খলা, পরিমিতিবোধ ও যতি চিহ্নের মাধ্যমে বাংলা গদ্যের অবয়ব নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বাংলা গদ্যের জনক’ বলা হয়।
  • জনশিক্ষা ও শিশ শিক্ষামূলক রচনা- বোধোদয়, বর্ণপরিচয়, আখ্যঅন মঞ্জুরী ও কথামালা।
  • চেম্বার্স রচিত Rudiments of Knowledge অবলম্বনে ‘বোধোদয়’ (১৮৫১) এবং ঈশপের Fables অবলম্বনে ‘কথামালা’ (১৮৫৬) রচনা করেন।
  • শেক্সপিয়ারের Cmedy of Errors অবলম্বনে ১৮৬৯ খ্রিস্টাব্দে ‘ভ্রান্তিবিলাস’ রচনা করেন।
  • হিন্দি ভাষায় লালুজি রচিত ‘বৈতাল পৈচ্চিসী’ অবলম্বনে ‘বেতাল পঞ্চবিংশতি’ রচনা করেন। এটি বাংলা ভাষার প্রথম কাহিনীধর্মী গ্রন্থ, যেখানে ১৮৪৭ খ্রিস্টাব্দে প্রথম বিরাম চিহ্নের সফল প্রয়োগ করেন।
  • ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মৌলিক রচনা এবং বাংলা গদ্য সাহিত্যে প্রথম শোকগাঁথা ‘প্রভাবতী সম্ভাষণ’।
  • কালিদাস রচিত সংস্কৃত ভাষায় ‘অভিজ্ঞান শকুন্তলম’ অবলম্বনে ‘শকুন্তলা’ রচনা করেন।
  • হাস্য রসাত্মক ও ব্যঙ্গ রচনা- ‘অতি অল্প হইল’, ‘আবার অতি অল্প হইল’ এবং ‘ব্রজবিলাস’ তিনটি বই ‘কসাচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য’ ছদ্মনামে লিখেন।
  • বিদ্যঅসাগর রচিত ব্যঅকরণ গ্রন্থটির নাম ‘ব্যাকরণ কৌমুদী’ (১৮৫৩)।
  • ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দে তাঁর রচিত ‘বর্ণপরিচয়’ ক্লাসিকের মর্যাদা লাভ করে।
  • ‘রত্ন পরীক্ষা’ গ্রন্থের রচয়িতা- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।

রাজা রামমোহন রায়

  • রাজা রামমোহন রায়ের জন্ম- ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে হুগলির রাধানগরে, ‍মৃত্যু- ১৮৩৩ খ্রিস্টাব্দের ২৭ সেপ্টেম্বর, ইংল্যান্ডের ব্রিস্টলে। [বাংলা একাডেমি চরিতাবিধান]
  • তিনি বাংলায় ত্রিশখানি গ্রন্থ রচনা করেছেন। উল্লেখযো্য গ্রন্থ- বেদান্ত গ্রন্থ (১৮৫৫), বেদান্ত সার (১৮১৫) প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ (১৮১৯), ভদ্রাচার্যের সহিত বিচার (১৮১৭), গোস্বামীর সহিত বিচার (১৮১৮১), পথা প্রদান (১৮২৩)।
  • প্রণম বাঙালি কর্তৃক বাংলা ভাষায় রচিত ব্যাকরণ- গৌড়ীয় ব্যকরণ (১৮৩৩), রচয়িতা- রাজা রামমোহন রায়।
  • সতীদাহ প্রথা বিলোপ প্রসঙ্গে তার রচনা- ‘প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ।
  • সম্পদিত পত্রিকা- ইংরেজি বাংলা দ্বিভাষিক- ব্রাহ্মণ সেবধি (১৮২১), বাংলা ভাষায় সম্বাদকৌমুদী (১৮২১), পারসি ভাষায়- মিরাৎ-উল-আখবার (১৮২২)।
  • রামমোহন রায় মূলত সমাজ সংস্কারক, তিনি ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দে ‘ব্রাহ্ম সমাজ’ প্রতিষ্ঠা করেন।
  • ১৮৩০ খ্রিস্টাব্দে দিল্লীর বাদশা দ্বিতীয় আকবর রামমোহন রায়কে ‘রাজা’ উপাধি দেন।
  • তিনি ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে প্রথম বাঙালি হিসেবে লন্ডনে গমন করেন।
  • তার ভূমিকার ফলে- ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে লর্ড বেন্টিংক সতীদাহ প্রথা রহিত করেন।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

  • ২৬ জুন, ১৮৩৮ খ্রিস্টাব্দে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় পশ্চিম বঙ্গের চব্বিশ পরগনার কাঁঠাল পাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৮ এপ্রিল, ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
  • বঙ্কিমচন্দ্রের উপাধি ‘সাহিত্য সম্রাট’। এছাড়াও তাকে ‘বাংলা উপন্যাসের জনক’ বলা হয়। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যায়ের সর্বপ্রথম Graduate এবং পেশায় ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন।
  • বঙ্কিমচন্দ্র রচিত প্রথম উপন্যাস ‘Rajmohon’s wife (ইংরেজিতে রচিত)। কিন্তু তার রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাস ‘দুর্গেশনন্দিনী’ (১৮৫৬)। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্তক উপন্যাস। উল্লেখ্য বঙ্কিমের দুর্গেশনন্দিনী’ উপন্যাসের প্রতিক্রিয়ায় ইসমাইল হোসেন সিরাজী ‘রায়নন্দিনী’ উপন্যাস রচনা করেন।
  • বঙ্কিমচন্দ্র রচিত কাব্যগন্থ- ললিতা, মানস।
  • বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক উপন্যাস ‘কপালকুণ্ডলা’ (১৮৬৬) এর রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র। এই উপন্যাসের সংলাপ ‘পথিক তুমি পথা হারাইয়াছ’ বাঙলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক সংলাপ।
  • বঙ্কিমচন্দ্র রচিত সামাজিক উপন্যাস বিষবৃক্ষ, কৃষ্ণকান্তের উইল।
  • আনন্দ মঠ, দেবী চৌধুরানী এবং সীতারাম এই তিনটি উপন্যাসকে বঙ্কিমচন্দ্রের ত্রয়ী উপন্যাস বলে।
  • ছিয়াত্তরের মন্বন্তরে বাঙালি জীবনের বিপর্যয় এবং উত্তরবঙ্গের সন্ন্যাসী বিদ্রোহের পটভূমিতে ‘আনন্দ মঠ’ রচিত।
  • বঙ্কিমচন্দ্র রচিত অন্যান্য উপন্যাস- মৃণালিনী, ইন্দিরা, যুগলাঙ্গুরীয়, রাধারাণী, চন্দ্রশেখর, রজনী।
  • বঙ্কিম চন্দ্রর প্রবন্ধগুলো- বিজ্ঞান রহস্য, বিবিধ সমালোচনা, সাম্য, প্রবন্ধ পুস্তক, ধর্মতত্ত্ব, লোকরহস্য।
  • ব্যঙ্গাত্মক ও রসাত্মক প্রবন্ধ- লোকরহস্য, কমলাকান্তের দপ্তর, মুচিরাম গুড়ের জীবন চারিত।
  • ইংরেজি সাহিত্যিক সমালোচক ডি. কুইনসির ‘Confession of an English Opium Eater’ অনুকরণে বঙ্কিম ‘কমলাকান্তের দপ্তর, রচনা করেন।
  • ‘তুমি অধম, তাই বলিয়া আমি উত্তম হইবো না কেন’, ‘পথিক, তুমি পথা হারাইয়াছ?’- উক্তিদ্বয়ের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র।
  • তার সম্পাদিত পত্রিকা- বঙ্গদর্শন।
সাম্য (প্রবন্ধ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সাম্যবাদী (কবিতা) কাজী নজরুল ইসলাম

মাইকেল মধুসূদন দত্ত

  • ২৫ জানুয়ারি, ১৮২৪ খ্রিস্টাব্দে যশোর জেলার কেশবপুর থানাধীন সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৯ জুন, ১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন। সাগরদাঁড়ি গ্রাম কপোতাক্ষ নদের তীরে অবস্থিত। তাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী কবি ও প্রথম আধুনিক কবি বলা হয়।
  • দত্তকুলোদ্ভব কবি মধুসূদনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ- ‘The Captive Lady’; তিনি ‘Visions of the Past’ নামে ইংরেজিতে আরেকটি কাব্য রচনা করেন। তিনি ‘Timothy Pen Poem’ ছদ্মনামে ইংরেজি কবিতা লিখতেন।
  • মাইকেল মধুসূদন রচিত ‘তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য’ বাংলা সাহিত্যের অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
  • রামায়ণের কাহিনী অবলম্বনে মধুসূদন রচিত ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক মহাকাব্য। করুণরসের অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত ‘মেঘনাদবধ’ কাব্যেল সর্গ সংখ্যা ৯টি যেখানে তিন দিন ও দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত।
  • বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রকাব্য ‘বীরাঙ্গনা কাব্য’। এটিও অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত, তবে তাঁর রচিত ‘ব্রজাঙ্গনা কাব্য’ মিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
  • মধুসূদন রচিত ‘শর্মিষ্ঠা’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক নাটক। গ্রিক পুরাণের Apple of Discord অবলম্বনে তিনি রচনা করেন। ‘পদ্মাবতী’ নাটক।
পদ্মাবতী (নাটক) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
পদ্মাবতী (কাব্য) আলাওল
পদ্মাবতী (সমালোচনামূলক) সৈয়দ আলী আহসান
পদ্মরাগ (উপন্যাস) বেগম রোকেয়া
পদ্মগোখরা (গল্প) কাজী নজরুল ইসলাম
পদ্মা নদীর মাঝি (উপন্যাস) মানিক বন্দোপাধ্যায়
পদ্মা মেঘনা যমুনা (উপন্যাস) আবুল কালাম শামসুদ্দিন
  • বাংলা সাহিত্যেল প্রথম সনেট সংকলন ‘চতুর্দশপদী কবিতাবলী’। এতে ১২০টি কবিতা সংকলিত হয়। ‘বঙ্গভাষা’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম সনেট কবিতা। সনেটে অষ্টক ও ষটক নামে দুটি অংশ থাকে। বাংলা সনেটের জনক মাইকেল মধুসূদন দত্ত। সনেটে তার দেশপ্রেমের প্রবল প্রকাশ ঘটেছে।
  • মাইকেল রচিত ‘কৃষ্ণকুমারী’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ট্রাজেডি নাটক। ‘মায়াকানন’ তাঁর রচিত সর্বশেষ বিয়োগান্তক নাটক।
  • ‘একেই কি বলে সভ্যতা?’ এবং ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রো’ মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত দু’টি প্রহসন।
  • যে কবিতার চরণে অন্তামিল থাকে না তাকে- অমিত্রাক্ষর ছন্দ বলে।

মীর মশাররফ হোসেন

  • বাংলা সাহিত্যেল প্রথম বাঙ্গালি মুসলিম নাট্যকার এবং প্রথম মুসলিম উপন্যাস রচয়িতা মীর মশাররফ হোসেন ১৩ নভেম্বর, ১৮৪৭ খ্রিস্টাব্দে কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেনে এবং ১৯ ডিসেম্বর, ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে পরলোকগমণ করেন। তার ছদ্মনাম- গাজী মিয়া।
  • আধুনিক বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ মীর মশাররফ হোসেন রচিত ‘রত্নাবতী’ বাঙালি মুসলমান রচিত প্রথম উপন্যাস।
  • কারবালার বিষাদময় ঘটনাকে উপজীব্য করে তার রচিত ‘বিষাদ সিন্ধু’ বাংলা সাহিত্যের একমাত্রা গদ্য মহাকাব্য।
  • তাঁর ‘গাজী য়িঅর বস্তানী’- ব্যঙ্গ রসাত্মক উপন্যাস, ‘উদাসীন পথিকের মনের কথা’- আত্মজীবনীমূলক উপাখ্যান। বাঁধাখাতা’ এবং ‘নিয়তি কি অবনতি’ তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস।
  • মশাররফ রচিত ‘বসন্তকুমারী’ বাঙলা সাহিত্যে মুসলমান রচিত প্রথম নাটক। ‘জমিদার দর্পন’, ‘বেহুলা গীতাভিনয়’ এবং ‘টালা অভিনয়’ তার রচিত অন্যান্য নাটক।
  • এর উপায় কি, ভাই ভাই এইতো চাই, ফাঁস কাগজ, একি, বাঁধা- মশাররফ হোসেন রচিত প্রহসন।
  • ‘গো-জীবন’ তাঁর রচিত একটি প্রচন্ধ।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

  • ৭ মে, ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দে (২৫ বৈশাখ, ১২৬৮ বঙ্গাব্দে) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কলকাতা জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭ আগস্ট, ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দে (২২ শ্রাবণ, ১৩৪৮ বঙ্গাব্দে) মৃত্যুবরণ করেন। ঠাকুর পরিবারের আসল পদবী ছিলো- কুশারী।

রবীন্দ্রনাথ ও কাব্য-কবিতা

  • রবীন্দ্রনাথের প্রথম প্রকাশিত কবিতা ‘হিন্দু মেলার উপহার’ (১৮৭৪) এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘কবিকাহিনী’ (১৮৭৮)। ‘বনফুল’ তাঁর দ্বিতীয় প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
  • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যান্য বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ হল- কড়ি ও কোমল, মানসী, ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী, সোনার তরী, চিত্রা, ক্ষণিকা, কল্পনা, নৈবদ্য, খেয়া, গীতাঞ্জলি, বলাকা, মহুয়া, পুনশ্চ, পূরবী, শেষ লেখা।
  • ১৯১২ খ্রিস্টাব্দে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর Song Offerings নামে গীতাঞ্জলি অনুবাদ করেন, যার ভূমিকা লেখেন ইংরেজ কবি W. B. Yeats । ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দে রবীন্দ্রনাথ গীতাঞ্জলির ইংরেজি অনুবাদ Song Offerings এর জন্য নোবেল পুরস্কার পান। গীতাঞ্জলিতে মোট ১৫৭টি কবিতা ও গান রযেছে। গীতাঞ্জলির জন্য তিনি সর্বাধিক পরিচিত।
  • আর্জেন্টিনার মহিলা কবি ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোকে রবীন্দ্রনাথ ‘পূরবী’ কাব্যগ্রন্থটি উৎসর্গ করেন। কবিগুরু তাকে ‘বিজয়া’ নাম দেন।
  • রবীন্দ্রনাথের শ্রেষ্ঠ কাব্যসংকলনের নাম- সঞ্চয়িতা।
সঞ্চরণ (গবেষণামূলক গ্রন্থ) কাজী মোতাহার হোসেন
সঞ্চয়িতা (কাব্য সংকলন) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঞ্চিতা (কাব্য সংকলন) কাজী নজরুল ইসলাম

রবীন্দ্রনাথ ও উপন্যাস

  • মোট ১২টি উপন্যাসের মধ্যে রবীন্দ্রনাথের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস ‘বৌ ঠাকুরানীর হাট’ (১৮৮৩)। ‘রাজর্ষি’ এবং ‘বৌ ঠাকুরাণীর হাট’ রবীন্দ্রনাথ রচিত ঐতিহাসিক উপন্যাস।
  • রবীন্দ্রনাথের সামাজিক উপন্যাস- চোখের বালি, নৌকাডুবি, দুইবোন, যোগাযোগ।
  • ‘গোরা’ রবীন্দ্রনাথের একটি রাজনৈতিক উপন্যাস।
  • ‘শেষের কবিতা’ রবীন্দ্রনাথ রচিত রোমান্টিক কাব্যধর্মী উপন্যাস।
  • ‘ঘরে বাইরে’ উপন্যাস স্বদেশী আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত।

রবীন্দ্রনাথ ও ছোট গল্প

  • বাংলা ছোট গল্পের জনক রবীন্দ্রনাথ। তাঁর প্রথম প্রকাশিত ছোট গল্প ‘ভিখারিনী’ এবং সর্বশেষ ছোটগল্প ‘ল্যাবরেটরী’।
  • প্রেমের গল্প- একরাত্রি, সমাপ্তি, শেষের রাত্রি, মাল্যদান, নষ্টনীড়, প্রায়শ্চিত্ত।
  • সামাজিক গল্প- হৈমন্তী, ছটি, মেঘ ও রৌদ্র, দেনাপাওনা, ব্যবধান, কাবুলিওয়ালা, পোস্টমাস্টার।
  • অতি প্রাকৃত গল্প- ক্ষুধিত পাষাণ, নিশীথে, কঙ্কাল, গুপ্তধন, জীবন ও মৃত।
  • প্রকৃতি ও মানব সম্পর্কিত গল্প- শুভা, অতিথি, আপদ।
  • রবীন্দ্রনাথের গল্প সংকলনের নাম- ‘গল্পগুচ্ছ’।
দেনা পাওনা (ছোটগল্প) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
দেনা পাওনা (উপন্যাস) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

রবীন্দ্রনাথ ও নাটক

  • রূপক ও সাংকেতিক নাটক- ডাকঘর, প্রায়শ্চিত্ত, রাজা, রক্তকরবী, অচলায়তন, কালের যাত্রা।
  • নৃত্য নাটক- চিত্রাঙ্গদা, চণ্ডালিকা, শ্যামা।
  • প্রহসন- বৈকুণ্ঠের খাতা, চিরকুমার সভা।
  • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত নাটক ‘বাল্মীকি প্রতিভা’।
  • রবীন্দ্রনাথ ‘বসন্ত’ নাটক নজরুলকে, ‘তাসের দেশ’ নাটক নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুকে এবং ‘কালের যাত্রা’ নাটক শরৎচন্দ্রকে উৎসর্গ করেন।
পঞ্চতন্ত্র (রম্যরচনা) সৈয়দ মুজতবা আলী
পঞ্চভূত (রম্যরচনা) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
পঞ্চনারী পদ্য (কাব্য) মীর মশাররফ হোসেন
পঞ্চশর (গল্পগ্রন্থ) প্রেমেন্দ মিত্র
পঞ্চগ্রাম (উপন্যাস) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
পঞ্চপুণ্ডলী (উপন্যাস) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
পঞ্চপাণ্ডব ত্রিশের দশকের পাঁচজন কবি

বাংলা ভাষা ও সাহিত্য

অন্যান্য

  • রবীন্দ্রনাথের উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ- সভ্যতার সংকট, কালান্তর, পঞ্চভূত।
  • সম্পাদিত পত্রিকা- সাধনা, ভারতী, বঙ্গদর্শন ও তত্ত্ববোধিনী (অক্ষয়কুমার দত্তের পরে)।
  • যুরোপ প্রবাসীর পত্র, জাভা যাত্রীর পত্র, জাপান যাত্রী, রাশিয়ার চিঠি রবীন্দ্রনাথের ভ্রমণ কাহিনী বিষয়ক গ্রন্থ।
  • বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত ‘আমার সোনার বাংলা’ রবীন্দ্রনাথের ‘গীতবিতান’ কাব্য গ্রন্থের ‘স্বরবিতান’ অংশ থেকে নেওয়া। এটি সর্বপ্রথম ‘বঙ্গদর্শণ’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
  • আমার সোনার বাংলা এবং বাংলার মাটি বাংলার জল গান দুটি তিনি বঙ্গভঙ্গের প্রেক্ষিতে রচনা করেন।
  • তার আত্মজীবনী- আত্মস্মৃতি, আমার ছেলেবেলা।
  • তার ‘সোনার তরী’ কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
  • স্ত্রীর মৃত্যুতে তিনি রচনা করেন- নৈবেদ্য।

দীনবন্ধু মিত্র

  • ১৮৩০ খ্রিস্টাব্দে চৌবেড়িয়া গ্রাম, নদীয়ায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন; তিনি ১৮৭১ খ্রিস্টাব্দে ভারত সরকার কর্তৃক ‘রায় বাহাদুর’ উপাধি লাভ করেন।
  • নীলদর্পনের উপজীব্য- নীলকরদের অত্যাচার ও নীলাচাষীদের দুঃখ কষ্ট।
  • নীলদর্পনের অভিনয় দেখে বিদ্যাসাগর মঞ্চে জুতা ছুড়ে মেরেছিলেন।
  • দীনবন্ধু মিত্রের বিখ্যাত প্রহসন- সধবার একাদশী, বিয়ে পাগলা বুড়ো এবং জামাই বারিক।
  • তার বিখ্যাত নাটক নীল দর্পণ। ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে ঢাকার ‘বাংলা প্রেস’ থেকে প্রকাশিত হয়। এটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম গ্রন্থ। নাটকটির কাহিনী মেহেরপুর অঞ্চলের। A Native ছদ্মনামে মধুসূদন দত্ত এটি অনুবাদ করেন, নাম দেন Nil Drapan or The Indigo Planing Mirror. নাটকটি Uncle Toms Cabin-এর আদলে রচিত।
  • তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক- নবীন তপস্বিনী, লীলাবতী, কমলে কামিনী।
  • তাঁর রচিত গল্প- যমালয়ে জীবন্ত মানুষ এবং পোড়া মহেশ্বর।

কাজী নজরুল ইসলাম

  • বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ২৫ মে, ১৮৯৯ (১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৩৮ বঙ্গাব্দ) খ্রিস্টাব্দে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। লেটো গানের দলে তার সাহিত্র জীবনের সূচনা ঘটে।
  • প্রথম প্রকাশিত রচনা- ‘বাউন্ডেলের আত্মকাহিনী’ (গল্প), প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ- ‘ব্যথার দান’ (গল্পগ্রন্থ)।
  • প্রথম প্রকাশিত কবিতা- ‘মুক্তি’, প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ- ‘অগ্নিবীণা (১৯২২)।
  • অগ্নিবীণার অর্ন্তগত সর্বাধিক পঠিত কবিতা- ‘বিদ্রোহী’ প্রকাশিত হয়- সাপ্তাহিক বিজলী’তে।
  • প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধ- ‘তুর্কি মহিলার ঘোমটা খোলা’, প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধগ্রন্থ- ‘যুগবাণী’ (১৯২২), প্রথম প্রকাশিত নাটক- ‘ঝিলিমিলি’।
  • প্রথম নিষিদ্ধ গ্রন্থ ‘বিষের বাঁশি’ (১৯২৪)।
  • নজরুলের মোট ৫টি গ্রন্থ নিষিদ্ধ হয় ‘বিষের বাঁশি, ভাঙ্গার গান, প্রলয় শিখা, চন্দ্রবিন্দু, যুগবাণী’।
  • ‘সঞ্চিতা’- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে, ‘অগ্নিবীণা’- বিপ্লবী বারীন্দ্র কুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।
  • অগ্নিবীণার প্রথম কবিতা- প্রলয়োল্লাস, ২য়- বিদ্রোহী, ৩য়- রক্তাম্বরধারীণী মা।
  • নজরুলের দুটি জীবনকাব্য : ১. চিত্তনামা (দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশকে নিয়ে), ২. মরু ভাস্কর (হযরত মুহাম্মদ (স:)-কে নিয়ে)।
  • নজরুলের উপন্যাস : বাঁধন হারা, মৃত্যুক্ষুধা, ও কুহেলিকা।
  • প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস- বাঁধন হারা (পত্রোপন্যাস, ১৯২৭)
  • গল্পগ্রন্থ- ‘ব্যথার দান (১৯২২), রিক্তের বেদন, শিউলিমালা। শিউলিমালা গ্রন্থের দুটি গল্প-‘পদ্মগোখরা’ও ‘জীনের বাদশা’।
  • নজরুলের জীবদ্দশায় অপ্রকাশিত ‘নির্ঝর’ কাব্য সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে, এতে ২৬টি কবিতা আছে।
  • নজরুল ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ ও ‘বিদ্রোহীর কৈফিয়ৎ’ কবিতার জন্য ১ বছর এবং ‘প্রলয় শিখা’ রচনার জন্য ৬ মাস কারাবরণ করেন।
  • চল চল কবিতাটি –‘নতুনের গান’ শিরোনামে ১৯২৮ (১৩৩৫) বাং) সালে শিখা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এটি নজরুলের ‘সন্ধ্যা’ কাব্যগ্রন্থের অর্ন্তভুক্ত। এটি বাংলাদেশের রণসংগীত।
  • নজরুলকে প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়- ২৪ মে, ১৯৭২ এবং নাগরিকত্ব দেয়া হয়।
  • নজরুলের কবর- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রী মসজিদের পাশে।
  • “রমজানের ওই রোজার শেষে এল খুশির ঈদ….” গানটির গীতিকার- কাজী নজরুল ইসলাম।
  • তার ‘দারিদ্র্য’ কবিতাটি ‘সিন্ধহিন্দোল’ কাব্যের অন্তর্গত। ‘ফনিমনসা’ কাব্যটিও তার রচনা।
  • সম্পাতি পত্রিকা- লাঙল (সাপ্তাহিক), ধূমকেতু (অর্ধসাপ্তাহিক), নবযুগ (সান্ধ্য দৈনিক)।

জসীমউদ্দীন

  • ১ জানুয়ারি, ১৯০৩ খ্রিস্টাব্দে ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবার গোবিন্দপুর গ্রামে। ১৩ মার্চ, ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
  • জীবনগাঁথা কাব্য- নকশী কাঁথার মাঠ, সোজন বাদিয়ার ঘাট, মা যে জননী কান্দে।
  • প্রথম প্রকাশিত কাব্য- রাখালী (১৯২৭), অন্যান্য কাব্য- বালুচর, ধানক্ষেত, মাটির কান্না, সূচয়নী।
  • মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত কবর কবিতাটি- রাখালী কাব্যের অন্তর্গত। কবর প্রথম প্রকাশিত হয় কল্লোল পত্রিকায়। কবিতাটিতে মোট ১১৮টি চরণ আছে। কবিতাটির বিষয়বস্তু- প্রিয়জন হারানোর মর্মান্তিক স্মৃতিচারণ।
  • ভ্রমণ কাহিনী- চলে মুসাফির, হলদে পরীর দেশ, যে দেশে মানুষ বড়।
  • শিশুতোষ- হাসু, এক পয়সার বাঁশি, ডালিম কুমার।
  • জসীম উদ্দীনের একমাত্রা উপন্যাস- ‘বোবা কাহিনী’ (১৯৬৪)।
  • The Field of the Embroidered Quilt নামে E. M. Millford নকশী কাঁথার মাঠ ইংরেজিতে অনুবাদ করেন।
  • তার ‘আসমানী’ কবিতাটি এক পয়সার বাঁশি কাব্যের অন্তর্ভুক্ত, আসমানীর বাড়ী- মাদারীপুর (তৎকালীন ফরিদপুর)।

বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন

  • ‘মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত’ বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ৯ ডিসেম্বর, ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দে পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুরে জন্মগ্রহণ করেন, ৯ ডিসেম্বর, ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে তার মৃত্যু হয়।
  • বেগম রোকেয়ার উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ গ্রন্থ- অবরোধবাসিনী, Sultana’s Dream.
  • উপন্যাস- পদ্মরাগ, গল্পগ্রন্থ- মতিচুর।

ফররুখ আহমদ

  • মুসলিম রেঁনেসার কবি ফররুখ আহমদ ১০ জুন, ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দে যশোর জেলার মাঝআইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯ অক্টোবর, ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
  • শ্রেষ্ঠকাব্য: ‘সাত সাগরের মাঝি’; ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যের উপজীব্য।
  • কাব্যনাট্য : নৌফেল ও হাতেম। বিখ্যাত কাব্য ‘সিরাজাম মুনিরা’র রচয়িতাও তিনি।
  • সনেট সংকলন : মুহুর্তের কবিতা।
  • শিশুতোষ : পাখির বাসা (১৯৬৩); এর জন্য ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দে ইউনেস্কো পুরষ্কার লাভ করেন।
  • কাহিনীকাব্য : হাতেমতায়ী (১৯৬৬); এর জন্য আদমজী পুরস্কার লাভ করেন।

কায়কোবাদ

  • বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে সর্বপ্রথম মহাকাব্য ও সনেটর রচয়িতা কবি কায়কোবাদের প্রকৃত নাম মোহাম্মদ আল কোরেশী। তিনি ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে ঢাকার নবাবগঞ্জের আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
  • তার রচিত প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ- বিরহ-বিলাপ।
  • গীতিকাব্য : অশ্রুমালা।
  • মহাকাব্য : মহাশ্মশান (পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের কাহিনী অবলম্বনে)
  • কাব্যগ্রন্থ : কুসুমকানন, শিবমন্দির, অমিয়ধারা, মহরম শরীফ, শ্মশান ভষ্ম।

শরচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

  • ১৫ সেপ্টেম্বর, ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে (১৩ ভাদ্র, ১২৮৩ বঙ্গাব্দ) হুগলির দেবানন্দপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৬ জানুয়ারি, ১৯৩৮ (২ মাঘ, ১৩৪৪ বঙ্গাব্দ) খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি বাংলা সাহিত্যে অপরাজেয় কথা সাহিত্যিক/শিল্পি হিসেবে খ্যাত।
  • শরৎচন্দ্র ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হতে জগত্তারিণী পদক এবং ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে ডি.লিট (Doctor of Literature) ডিগ্রি লাভ করেন।
  • প্রথম উপন্যাস- বড়দিদি’ কিন্তু শ্রীকান্ত তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা, এটি চার খণ্ডে প্রকাশিত একটি আত্মচরিত্রমূল গ্রন্থ। তার প্রথম প্রকাশিত গল্প- ‘মন্দির’; গল্পটির জন্য ১৯০৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি কুন্তলীন পুরস্কার লাভ করেন।
  • ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত রাজনৈতিক উপন্যাস ‘পথের দাবী’ তৎকালীন সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ হয়।
  • শরৎচন্দ্রের অন্যান্য উপন্যাস গুলো- গৃহদাহ, চরিত্রহীন, বিরাজ বৌ, পরিণীতা, নববিধান, শেষের পরিচয়, বৈকুণ্ঠের উইল, দেনা-পাওনা, দেবদাস, দত্তা, পল্লীসমাজ, শেষপ্রশ্ন, শুভদা, চন্দ্রনাথ, বিপ্রদাস, বড়দিদি, বামুনের মেয়ে।
  • তাঁর বিখ্যাত গল্পগুলো হল- মহেশ, বিলাসী, বিন্দুর ছেলে, রামের সুমতি, অনুরাধা, মেজদিদি, অভাগীর স্বর্গ, স্বামী, ছবি, হরিলক্ষ্মী, কাশিনাথ।
  • ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে শরৎচন্দ্র ‘নারীর মূল্য’ প্রবন্ধ ‘অনিলা দেবী’ ছদ্মনামে ‘যমুনা’ পত্রিকায় প্রকাশ করেন। অনিলা দেবী শরৎচন্দ্রের বড়দিদির নাম।
  • বিজয়া, ষোড়শী, রমা তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক।
  • ত্রিভূজ প্রেমের চিত্র পাওয়া যায়- ‘গৃহদাহ’ উপন্যাসে।

অদ্বৈত মল্লবর্মণ (১৯১৪-১৯৫১)

  • জন্মস্থান : ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
  • উপন্যাস : তিতাস একটি নদীর নাম (১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে ঋত্বিক ঘটক চলচ্চিত্রায়ন করেন)।

অমিয় চক্রবর্তী (১০ এপ্রিল, ১৯০১-১৯৮৬)

  • জন্মস্থান- শ্রীরামপুর, হুগলি, পশ্চিমবঙ্গ।
  • রবীণ্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য সচিব অমিয় চক্রবর্তীর ‘অনিঃশেষ’ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যগ্রন্থের ‘বাংলাদেশ’ কবিতাটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত। এ কবিতায় বায়লাদেশ শব্দটি আছে ‘চার’ বার।
  • কাব্যগ্রন্থ– খসড়া, এক মুঠো, অভিজ্ঞান বসন্ত, অনিঃশেষ, হারানো অর্কিড, পালাবদল, মাটির দেয়াল, ঘরে ফোর দিন, পারাপার।
  • প্রবন্ধ- চলো যাই, সাম্প্রতিক, পথ অন্তহীন, পুরবাসী।

অন্নদাশঙ্কর রায় (১৫ মার্চ, ১৯০৪-২৮ অক্টোবর, ২০০২)

  • জন্মস্থান– উড়িষা প্রদেশের ঢেস্কানল
  • তিার প্রকাশিত প্রথম লেখা- তিনটি প্রশ্ন; কাব্যগ্রন্থ- রাখী, উপন্যাস- অসমাপিকা।
  • “যতনি রবে পদ্মা মেঘনা গৌরী যমুনা বহমান..” তার ‘জয় মুজিবুর রহমান’ কবিতার চরণ।
  • কাব্যগ্রন্থ- রাখী, নূতনা রাধা, কালের শাসন, লিপি, কামনা পঞ্চবিংশতি, জার্নাল, ক্রীড়ো
  • ছোটগল্প- প্রকৃতির পরিহাস, মন পবন, যৌবন জ্বালা, কাবিন কাঞ্চন।
  • প্রবন্ধগ্রন্থ- তারুণ্য, জীবন শিল্পী, ইশারা, বিনুর বই, জীয়ন কাটি, দেশ কাল পত্র, প্রত্যয়, নতুন করে বাঁচা, আধুনিকতা
  • ভ্রমণকাহিনী- পথে প্রবাসে, ইউরোপের চিঠি।

অনুরূপা দেবী (১৮৮২-১৯৫৮)

  • জন্মস্থান- কলকাতা
  • ‘রানী দেবী’ ছদ্মনামে ছোট গল্প লিখে প্রথম গল্পেই কুন্তলীন পুরষ্কার লাভ করেন।
  • প্রথম উপন্যাস- ঠিলকুঠি; অন্যান্য উপন্যাস- পোষ্যপুত্র, বাগদত্তা, জ্যোতিঃহারা, মন্ত্রশক্তি, মহানিশা, মা, উত্তরায়ণ, পথহারা।

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (১৯৪৩-১৯৯৭)

  • জন্মস্থান : গাইবান্ধা।
  • উপন্যাস : প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস চিলেকোথার সেপাই (ঊনসত্তরের গণ অভ্যুত্থানের প্রোক্ষাপটে রচিত) ও খোয়াবনামা।
  • ছোটগল্প : অন্য ঘরে অন্য স্বর (প্রথম প্রকাশিত), দুধে ভাতে উৎপাত, দোজখের ওম, খোয়ারী।
  • প্রবন্ধ : সংস্কৃতির ভাঙ্গা সেতু।
সংস্কৃতির ভাঙ্গা সেতু (প্রবন্ধ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
সংস্কৃতির চড়াই উৎরাই (প্রবন্ধ) শওকত ওসমান
সংস্কৃতির রূপান্তর (প্রবন্ধ) গোপাল হালদার
সংস্কৃতির কথা (প্রবন্ধ) মোহাহের হোসেন চৌধুরী
সংস্কৃতির সংকট (প্রবন্ধ) বদরুদ্দিন উমর

আবু ইসহাক (১৯২৬-২০০২)

  • জন্মস্থান : শরীয়তপুর (তৎকালীন ফরিদপুর)
  • উপন্যাস : সূর্য-দীঘল বাড়ি (১৯৫৫), জাল, পদ্মার পলিদ্বীপ
  • গল্পগ্রন্থ : হারেম (১৯৬২), মহাপতঙ্গ (১৯৬৩)।
  • বিখ্যাত গল্প- জোঁক।

আব্দুল্লাহ আল মামুন (১৯৪৩-২০০৮)

  • জন্মস্থান : জামালপুর।
  • নাটক : সুবচন নির্বঅসনে, এখনও ত্রীতদাস, কোকিলারা (একক চরিত্র নির্ভর নাটক)।
  • প্রথম প্রকাশিত নাটক- শপথ (১৯৬৪)।

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ (১৯৩৪-২০০১)

  • জন্মস্থান : বরিশাল।
  • কবিতা : আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি; কোন এক মাকে।
  • কাব্য : সাতনরী হর।

আল মাহমুদ (১৯৩৬-)

  • প্রকৃত নাম মীর আব্দুল শুকুর আল মাহমুদ।
  • জন্মস্থান : ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
  • কাব্যগ্রন্থ: সোনালী কাবিন, লোক লোকান্তর, কালের কলস, বখতিয়ারের ঘোড়া।
  • উপন্যাস : উপমহাদেশ (মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক); আগুনের মেয়ে, ডাহুকী।
  • গল্পগ্রন্থ : পানকৌড়ির রক্ত।
  • শিশুতোষগ্রন্থ : পাখির কাছে ফুলের কাছে।

আবুল ফজল (১৯০৩-১৯৮৩)

  • জন্মস্থানঃ সাতকানিয়া, চট্রগ্রাম।
  • উপন্যাসঃ চৌচির।
  • প্রবন্ধঃ শেখ মুজিব: তাকে যেমন দেখেছি।

আলাউদ্দিন আল আজাদ (১৯৩২-২০০৯)

  • জন্মস্থানঃ রামনগর, ঢাকা।
  • কাব্যঃ মানচিত্র, লেলিহান পাণ্ডুলিপি।
  • গল্পগ্রন্থঃ জেগে আছি, ধান কন্যা, মৃগনাভি।
  • উপন্যাসঃ তেইশ নম্বর তৈলচিত্র, শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন, কর্ণফুলি, ক্ষুধা ও আশা।
  • তেইশ নম্বর তৈলচিত্র উপন্যাস সুভাষ দত্তের পরিচালনায় ‘বসুন্ধরা’ নামে চলচ্চিত্রায়ন হয়।

আবুল মনসুর আহমদ (১৮৯৮-১৯৭৯)

  • জন্মস্থানঃ ধানীখোলা গ্রাম, ময়মনসিংহ।
  • উপন্যাসঃ সত্যমিথ্যা, জীবন ক্ষুধা, আবে হায়াত।     
  • গল্পগ্রন্থঃ আয়না, ফুড কনফারেন্স। 
  • রাজনৈতিক গ্রন্থঃ আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর, শেরে বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু।

আবুল হাসান (১৯৪৭-১৯৭৫)

  • জন্মস্থানঃ মাতুলালয় বর্নি গ্রাম, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
  • কাব্যঃ রাজা যায় রাজা আসে, যে তুমি হরণ করো, পৃথক পালঙ্ক, ওরা কয়েকজন।

আহসান হাবীব (১৯১৭-১৯৮৫)

  • জন্মস্থানঃ শঙ্করপাশা গ্রাম, বরিশাল।
  • কাব্যঃ ছায়া হরিণ, সারা দুপুর, রাত্রিশেষ (প্রথম কাব্যগ্রন্থ), মেঘ বলে চৈত্রে যাবো, দুই হাতে দুই আদিম পাথর।
  • উপন্যাসঃ অরণ্যে নীলিমা, রানীখালের সাঁকো।
  • বস্তুনিষ্ঠা ও জীবনবোধ তার কবিতার বৈশিষ্ট্য, তার ব্যঙ্গাত্নক রচনা মানুষকে আকৃষ্ট করে।

আহমদ শরীফ (১৯২১-১৯৯৯)

  • জন্মস্থানঃ সুচক্রদণ্ডী, চট্রগ্রাম।
  • প্রবন্ধগ্রন্থঃ বিচিত্র চিন্তা, সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা, যুগ মন্ত্রণা, জীবনে সমাজে সাহিত্যে, বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য, স্বদেশ চিন্তা।
  • সম্পাদনাঃ লাইলী মজনু, রসুন বিজয়, চন্দ্রাবতী, সিকান্দারনামা, নবীবংশ, রসুল চরিত্র।

আবদুশ শাকুর(২৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪১-১৫ জানুয়ারি, ২০১৩)

  • জন্মস্থানঃ রামেশ্বরপুর গ্রাম, সুধারাম, নোয়াখালী।
  • উপন্যাসঃ সহে না চেতনা, ভালোবাসা, উত্তর দক্ষিণ সংলাপ, সংলাপ, ক্রাইসিস।
  • ছোটগল্পঃ ক্ষীয়মান, ঘোর গল্পসমগ্র, শরীর, আক্কেলণ্ডডুম আঘাত, এপিটাফ, ধস, বিচলিত প্রার্থনা।
  • রম্যরচনাঃ ভেজাল বাঙালি, নির্বাচিত কড়চা, চুয়াত্তরের কড়চা, মধ্যবিত্তের কড়চা।
  • গবেষণাগ্রন্থঃ গোলাপসংগ্রহ, বাঙালির মুক্তির গান, মহান শ্রোতা, সাংগীতিক সাক্ষরতা, সংগীত সংগীত, সংগীত সংবিত।
  • প্রবন্ধঃ মহামহিম রবীন্দ্রনাথ, পরস্পরাহীন রবীন্দ্রনাথ, মহাগদ্যকবি রবীন্দ্রনাথ, রবীন্দ্রনাথকে যতটুকু জানি, রবীন্দ্রনাথের অনুজ্জল অঞ্চল, চিরনতুন রবীন্দ্রনাথ, ভাষা ও সাহিত্য, রসিক বাঙালি।
  • প্রহসনঃ ঝামেলা, টোটকা।
  • আত্নজীবনীঃ কাঁটাতেও গোলাপ থাকে।
  • পুরস্কারঃ বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৭৯), অমিয়ভূষণ পুরস্কার (২০০৩)

আবু নঈম মুহম্মদ (আ.ই.ম) বজলুর রশীদ (১৯১১-১৯৮৬)

  • জন্মস্থানঃ ফরিদপুর।
  • কাব্যগ্রন্থঃ পান্থবীণা, মরুসূর্য, শীতে বসন্তে, রঙ ও রেখা, এক ঝাঁক পাখি, মৌসুমী মন, মেঘ বেহাগ, রক্ত কমল।
  • নাটকঃ ঝড়ের পাখি, যা হতে পারে, উত্তর ফাগ্লুনী, সংযুক্তা, ত্রিমাত্রিক, উত্তরণ, একেএকেএক, রুপান্তর, ধানকমল।
  • উপন্যাসঃ পথের ডাল, অন্তরাল, মনে মনান্তরে নীল দিগন্ত।
  • ভ্রমণকাহিনীঃ দ্বিতীয় পৃথিবীতে, পথ বেঁধে দিল, দুই সাগরের দেশে, পথ ও পৃথিবী।
  • প্রবন্ধঃ আমাদের নবী, আমাদের কবি, জীবন বিচিত্রা, স্কুলে মাতৃভাষা শিক্ষণ।

আনোয়ারা পাশা (১৫ এপ্রিল, ১৯২৮-১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১)

  • জন্মস্থানঃ বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ।
  • উপন্যাসঃ নীড় সন্ধানী, রাইফেল রোটি আওরাত (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক), নিযুতি রাতের গাথা।
  • কাব্যঃ নদী নিঃশোষিত হলে, সমুদ্র শৃঙ্খলতা উজ্জয়িনী।
  • গল্পগ্রন্থঃ নিরুপায় হরিণী।

আব্দুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দীন (১ জানুয়ারি, ১৯৩০-৩০ নভেম্বর,১৯৯৮)

  • জন্মস্থানঃ ফুলবাড়ি, সিরাজগঞ্জ
  • বিজ্ঞানবিষয়ক রচনার জন্য তিনিঃ ইউনেস্কো আন্তর্জাতিক কলিঙ্গ পুরস্কার (১৯৮৩) লাভ করেন।
  • প্রবন্ধগ্রন্থঃ আবিষ্কারের নেশায়, সাগরের রহস্যপুরী, বিপ্ন্ পরিবেশ, তারার দেশের হাতছানি, বিজ্ঞানের বিস্ময়, মহাকাশে কী ঘটেছে, এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে।

আহমদ ছফা (৩০ জুন, ১৯৪৩-২৮ জুলাই, ২০০১)

  • জন্মস্থানঃ গাছবাড়িয়া, চট্রগ্রাম
  • উপন্যাসঃ সূর্য তুমি সাথী. ওস্কার, একজন আলী কেনানেন উন্থান পতন, মরণ বিলাস, গাভি বৃত্তান্ত, অর্ধেক নারী অর্ধেক -ঈশ্বরী, বিহঙ্গ পুরান।
  • প্রবন্ধগ্রন্থঃ জাগ্রত বাংলাদেশ, বাঙালি মুসলমানের মন, যদ্যপি আমার শুরু, বুদ্ধি বৃত্তির নতুন বিন্যাস
  • গল্পঃ নিহত নক্ষত্র, দুঃখের দিনে দোহা
  • শিশুতোষ গ্রন্থঃ গো হাকিম, দোলা আমার কনক চাপা;
  • সম্পাদিত পত্রিকাঃ ‘উন্থান পর্ব,

আশরাফ সিদ্দিকী (১ মার্চ, ১৯২৭)

  • জন্মস্থানঃ নাগবাড়ি টাঙ্গাইল
  • কাব্যগ্রন্থঃ বিষকন্যা, সাত ভাই চম্পা, দাঁড়াও পথিম বর, তিরিশ বসন্তের ফুল, কুচবরণ কন্যা, সহস্র মুখের বীড়ে।
  • উপন্যাসঃ শেষ কথা কে বলবে, আরশিনগর, গুণীন
  • গল্পগ্রন্থঃ রাবেয়া আপা, গলির ধারের ছেলেটি, শেষ নালিশ
  • তার প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ ‘তালেব মাস্টার ও অন্যান্য কবিতা।’
  • লোক সাহিত্য- সংস্কৃতি বিষয়ক গ্রন্থ- শুভ নববর্ষ, লোক সাহিত্য, কিংবতন্তীর বাংলা, লোকায়ত বাংলা
  • তার ‘গলিল ধারের ছেলেটি ‘নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘ ডুমুরের ফুল,’ পরিচালক- সুভাষ দত্ত।

এন্টনি ফিরিঙ্গী (আঠারো শতকের শেষভাগ-১৮৩৬)

  • জন্মস্থান/প্রথম আবাস- চন্দনগর, ফরাসডাঙ্গা, পশ্চিম বাংলা।
  • প্রকৃত নামঃ এন্টনি হেন্সম্যান, কবিগানের গায়ক হিসেবে এন্টনি ফিরিঙ্গি নামে পরিচিত। তিনি মূলত কবিয়াল।
  • তিনি  ছিলেন পর্তুগিজ, জন্মগতভাবে খ্রিস্টান হলেও তিনি ছিলেন পোশাকে আশাকে বাঙালি হিন্দু। তিনি হিন্দু বিধবাকে বিযে করেন। কলকাতার ফিরিঙ্গী কালী মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা তিনি।
  • তার বিখ্যাত গান- ভজন সাধন জানি নে মা/নিজে তো ফিরিঙ্গী/যদি দয়া করে কৃপা কর/হে শিবে মাতঙ্গী….
  • এন্টনি ফিরিঙ্গিকে নিয়ে ভারতে বাংলা ভাষায় নিমিত চলচ্চিত্র-‘জাতিস্মর’।

এস.ওয়াজেদ আলী (১৮৯০-১৯৫১)

  • জন্মস্থানঃ পশ্চিমবঙ্গের হুগলী জেলা।
  • ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থ: গ্রানাডার শেষ বীর।
  • প্রবন্ধগ্রন্থঃ প্রাচ্য ও প্রতীচ্য, ভবিষ্যতের বাঙালী, জীবনের শিল্প।

কাজী আবদুল ওদুদ (১৮৯৪-১৯৭০)

  • জন্মস্থানঃ বাগমারা, পাংশ, রাজবাড়ি।
  • গল্পগ্রন্থঃ মীর পরিবার।
  • প্রবন্ধঃ শাশ্বত বঙ্গ, নব পর্যায়, আজকার কথা, সমাজ ও সাহিত্য, বাংলার জাগরণ, স্বাধীনতা দানের উপহার, হিন্দু-মুসলমানের বিরোধ, হযরত মুহম্মদ ও ইসলাম, নজরুল প্রতিভা।
  • উপন্যাসঃ নদীবক্ষে, আজাদ।

কাজী মোতাহার মোসেন (৩০ জুলাই, ১৮৯৭-৯ অক্টোবর, ১৯৮১)

  • জন্মস্থানঃ লক্ষীপুর গ্রাম, কুষ্টিয়া। পৈতৃক নিবাস- বাগমারা গ্রাম, পাংশা, রাজবাড়ি।
  • প্রবন্ধঃ সঞ্চরণ, সেই পথ লক্ষ্য করে, গণিত শাস্ত্রের ইতিহাস, নজরূল কাব্য পরিচিতি, আলোক বিজ্ঞান।
  • তিনি জাতীয় অধ্যাপক (১৯৭৫) ছিলেন।

কবীর চৌধুরী ( ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯২৩-১৩ ডিসেম্বর, ২০১১)

  • জন্মস্থানঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়া, পৈতৃক নিবাস-নোয়াখালী।
  • সাহিত্যকর্মঃ আমারজনীর পথে, প্রাণের চেয়ে প্রিয়, ছয়সঙ্গী. অভিযো, অচেনা, ছায়া বাসনা।
  • তিনি জাতীয় অধ্যাপক ও বাংলা একাডেমিক সভাপতি ছিলেন।

গিরিশচন্দ্র সেন (১৮৩৫-১৫ আগস্ট, ১৯১০)

  • জন্মস্থানঃ পাঁচদেনা, নারায়ণগঞ্জ।
  • বাংলার প্রথম কোরআন অনুবাদক-গিরিশচন্দ্র সেন, তিনি হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর প্রথম জীবনীকার।
  • ফারসি ভাষায় রচিত ‘ তাজকেরাতুল আউলিয়া’ অবলম্বনে তিনি ‘তাপসমালা’ রচনা করেন।গ্রন্থটিতে ইসলামের ৯৬ জন সুফী-দরবেশের জীবনী স্থান পেয়েছে।
  • তিনি ১৮৮১০৮৬ পর্যন্ত ছয় বছরের সাধনা ও পরিশ্রমে টীকাসহ সমগ্র কুরআন শরীফের বঙ্গানুবাদ করেন। ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষিত গিরিশচন্দ্র ‘ভাই গিরিশচন্দ্র সেন’ নামে পরিচিত।

গিরিশচন্দ্র ঘোষ (১৮৪৪-১৯১২)

  • জন্মস্থানঃ বাগবাজার, কলকাতা।
  • তিনি ছিলেন নাট্যকার, অভিনেতা ও নাট্য পরিচালক; তিনি সধবার একাদশী নাটকে নিমচাঁদের ভূমিকায় অভিনয় করেন।
  • গীতিনাট্যে ব্যবহৃত ‘গৈরিশছন্দ’ তার উদ্ভাবন, তিনি প্রায় ৮০টি নাটক রচনা করেছেন।
  • পৌরাণিক নাটক- রাবণবধ, অভিমন্যুবধ, সীতার বনবাস, লক্ষণবর্জন, রামের বনবাস, সীতাহরণ, পাণ্ডবের অজ্ঞাতবাস, জমা।
  • চরিত্র নাটকঃ চৈতন্যলীলা, বিল্বমঙ্গল ঠাকুর, শষ্করাচার্য।
  • রোমান্টিক নাটকঃ মুকুলমুঞ্জুরা, আবু হোসেন।
  • সামাজিক নাটকঃ প্রফুল্ল, মায়াবসান, বলিদান।
  • ঐতিহাসিক নাটকঃ সিরাজদ্দৌলা, মীর কাশিম, ছয়পতি শিবাজী।

গোপাল হালদার (১৯০২-১৯৯৩)

  • জন্মস্থানঃ বিদগাঁও, বিক্রমপুর।
  • ত্রয়ী উপন্যাস: একদা, অন্যদিন, আর একদিন; আত্নজীবনী-রুপনারায়ণের কূলে।
  • প্রবন্ধঃ সংস্কৃতির রুপান্তর (তার শ্রেষ্ঠ গদ্যগ্রন্থ), বাঙালি সংস্কৃতির রুপ, বাঙালি সংস্কৃতি প্রসঙ্গ, বাংলা সাহিত্য ও মানব স্বীকৃতি, বাঙালির আশা ও বাঙালির ভাষা, বাংলা সাহিত্যের রুপরেখা, ইংরেজি সাহিত্যের রুপরেখা, রুশ সাহিত্যের রুপরেখা।

জোশুয়া মার্শম্যার (১৭৬০-১৮৩৭)

  • জন্মস্থানঃ ওয়েস্টবেরিলি, উইল্ট শায়ার, লন্ডন।
  • তিনি শ্রীরামপুর স্কুল প্রতিষ্ঠা (পরবর্তীতে শ্রীরামপুর কলেজে রুপান্তর) করেন।
  • তিনি চীনা ভাষায় বাইবেল অনুবাদক এবং উইলিয়াম কেরির সহায়তায় সংস্কৃত রামায়ণের অনুবাদ করেন।
  • উইলিয়াম কেরির মৃত্যুর পর শ্রীরামপুর মিশনের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।

জহির রায়হান (১৯৩৩-১৯৭২)

  • জন্মস্থানঃ মজুপুর গ্রাম, ফেনী।
  • উপন্যাসঃ তৃষ্ণা, শেষ বিকেলের মেয়ে, আরেক ফাগ্লুন (বায়ান্ন সালের ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত), হাজার বছর ধরে, বরফ গলা নদী, আর কত দিন, কয়েকটি মৃত্যু।
  • বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রকার জহির রায়হান পরিচালিত চলচ্চিত্র: কখনো আসেনি, সঙ্গম, জীবন থেকে নেয়া, Stop Genocide (পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গণহত্যার প্রামাণ্যচিত্র)।

জীবনানন্দ দাশ (১৭ ফেবব্রুয়ারি, ১৮৯৯০২২ অক্টোবর-১৯৫৪)

  • জন্মস্থানঃ বরিশাল (মাতা- কুসুমকুমারী দাশ)।
  • ছদ্মনাম বা উপাধিঃ ধূসরতার কবি, তিমির হননেন কবি, নির্জনতার কবি, রুপসী বাংলার কবি।
  • কাব্যগ্রন্থঃ ঝরাপালক (প্রথম), ধূসর পাণ্ডুলিপি, বনলতা সেন, সাতটি তারার তিমির, মহাপৃথিবী, রুপসী বাংলা, বেলা অবেলা কালবেলা।
  • উপন্যাসঃ মালাবান, সতীর্থ, কল্যাণী।
  • প্রবন্ধগ্রন্থঃ কবিতার কথা।
  • জীবনানন্দের কবিতাকে চিত্ররুপময় বলেছেন- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
  • এরগার এলান গো’র টু হেলেন’ অবলম্বনে রচিত- ‘বনলতা সেন’।
  • ত্রিশের দশকের ‘তথাকথিত জনবিচ্ছিন্ন কবি’ জীবনানন্দ এখন তুমুল জনপ্রিয।
  • জীবনানেন্দকে নিয়ে গবেষণা করেন-ক্লিনটন বি সিলি।

জাহানারা ইমাম (১৯২৯-১৯৯৪)

  • সাহিত্যকর্মঃ গজ কচ্ছপ, সাতটি তারার জিকিমিকি, নিঃসঙ্গ পাইন, ক্যান্সারের সাথে বসবাস, প্রবাসের দিনগুলি।
  • স্মৃতিচারণঃ একাত্তরের দিনগুলি (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)।
  • তিনি শহীদ জননী হিসেবে পরিচিত।
  • পুরস্কারঃ বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯০)।

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ (১০ জুলাই, ১৮৮৫-১৩ জুলাই, ১৯৬৯)

  • জন্মস্থানঃ পেয়ারা গ্রাম, চব্বিশ পরগনা, পশ্চিমবঙ্গ।
  • তিনি ভাষাবিজ্ঞানী, গবেষক ও শিক্ষাবিদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ইমেরিটাস প্রফেসর।
  • ‘‘আমলা হিন্দু বা মুসলমান যেম সত্য, তার চেযে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।”- তার উক্তি।
  • তার ভাষাতত্ত্ববিষযক গ্রন্থগুলো হল- বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত, ভাষা ও সাহিত্য এবং বাংলা ব্যাকরণ।
  • ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে বাংলা ভাষার উৎপত্তি গৌড়ীয় প্রাকৃত থেকে।
  • “শিকওয়াহ ও জওয়াব-ই-শিকওয়াহ” অনুবাদ গ্রন্থটির রচয়িতা- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।
  • তার বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থের নাম- বাংলা সাহিত্যের কথা।

তারাশষ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৮-১৯৭১)

  • জন্মস্থানঃ লাভপুর, বীরভুম।
  • উপন্যাসঃ কবি, গণদেবতা, হাঁসুলী বাঁকের উপকথা, বিপাশা, জলসাগর চৈতালী ঘূনী, আগুন, অভিযান, বিচারক, এক পশলা বৃষ্টি, নিশিপদ্ম, কালরাত্রি, কালো মেয়ের কথা (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)।

দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুদমদার (১৮৭৭-১৯৫৭)

  • জন্মস্থানঃ উলাইল, ঢাকা।
  • তার ছদ্মনামঃ দৃষ্টিহীন, গল্পগ্রন্থঃ দাদা মশায়ের থলে, ঠানদিদির থলে।
  • বাংলাদেশে প্রচলিত বিভিন্ন রূপকথার সংকলন “ঠাকুরমার ঝুলি”-এর পরবর্তী খন্ড “ঠাকুর দাদার ঝুলি”।
  • তিনি ময়মনসিংহ অঞ্চলে প্রায় ১০ বছর ধরে গ্রামবাংলার লুপ্তপ্রায় কথাসাহিত্য সংগ্রহ করেন।
  • যে অবান্তর কাহিনীর মধ্যে পশুপাখির কথা বলা অন্তর্ভুক্ত থাবে তাকে- উপকথা বলে।

দামোদর মূখোপাধ্যায়

  • জন্মস্থানঃ কৃষ্ণনগর, পৈতৃক নিবাস- শান্তিপুর, কুষ্টিয়া
  • উপন্যাসঃ বিমলা, দুই ভগ্নী, মা ও মেয়ে, শাস্তি, যোগেশ্বরী, সোনার কমল, নবাব নন্দিনী, অন্নপূর্ণা, সপত্নী, ললিতমোহন।
  • তিনি ‘প্রবাহ’ নামক মিাসিক পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায় (১৮৬৩-১৯১৩)

  • জন্মস্থানঃ কৃষ্ণনগর, নদীয়া, পরিচিতি- ডি.এল.রায় নামে।
  • কাব্যঃ আর্যগাথা, The Lyrics of Ind,, আলেখ্য, ত্রিবেগী।
  • ব্যঙ্গ কবিতাঃ আষাঢ়ে, হাসির গান।
  • ঐতিহাসিক নাটকঃ সাজাহান, প্রতাপ সিংহ, তারাবাঈ, নুরজাহান, চন্দ্রগুপ্ত, সিংহল বিজয়।
  • পৌরাণিক নাটকঃ পাষাণী, সীতা, ভীষ্ম।
  • সামাজিক নাটকঃ পরপারে, বঙ্গনারী।
  • নকশা- প্রহসনঃ একঘরে, কল্কি অবতার, ত্র্যহস্পর্শ, প্রায়শ্চিত্ত, পুনর্জন্ম, আনন্দ বিদায়।
  • সম্রাট সাজাহানকে নিয়ে তিনিই প্রথম নাটক লেখেন।
  • ‘ধনধান্যে পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা’ গানটির গীতিকার তিনি।

দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮১৭-১৯০৫)

  • জন্মস্থান- জোড়াসাঁকো, কলকাতা।
  • তিনি প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের জ্যেষ্ঠপুত্র এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতা।
  • তিনি ১৮৩৯ সালে ‘তত্ত্বরঞ্জিনী সভা’ স্থাপন করেন যা পরের বছর ‘তত্ত্ববোধিনী সভা’ নামকরণ করা হয়।
  • গ্রন্থাবলী- বাংলা ভাষায় সংস্কৃত ব্যাকরণ, ব্রাহ্মধর্ম, ব্রাহ্মবিবাহ প্রণালী, ব্রাহ্মসমাজের পঞ্চবিংশতি বৎসরের পরীক্ষিত বৃত্তান্ত, জ্ঞান ও ধর্মের উন্নতি, Vedantic Doctrines Vindicated.

দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৪০-১৯২৬)

  • জন্মস্থানঃ জোড়াসাঁকো, কলকাতা।
  • তিনি একাধারে করি, দার্শনিক, গণিতজ্ঞ, বাংলা শর্টহ্যান্ড এবং স্বলিপির উদ্ভাবক।
  • ‘ভারতী’ (১৮৭৭) পত্রিকা সম্পাদক এবং সাপ্তাহিক ‘হিতবাদী’ পত্রিকা প্রকাশক।
  • কাব্যগ্রন্থ- স্বপ্নপ্রয়াণ, কাব্যমালা; তার বিখ্যাত গান- “মলিন মুখচন্দ্রমা ভারত তোমারি…
  • প্রবন্ধ- ব্রাহ্মজ্ঞান ও ব্রাহ্মসাধন, আচার্যের উপদেশ, নানাচিন্তা, মেঘদূতের পদ্যানুবাদ।

দিলারা হাসেম (২৫ আগস্ট, ১৯৩৬)

  • জন্মস্থানঃ যশোর
  • উপন্যাসঃ ঘর মন জানালা, স্তব্ধতার কানে কানে, আমলকির মৌ, কাকতালীয়, সদর অব্দর।
  • গল্পঃ হলদে পাখীর কান্না, সিন্ধুপারের উপাখ্যান, নায়ক; কবিতাঃ ফেরারী।
  • পুরস্কারঃ বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৭৬), শিকাগো সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯৭)

নিধুবাবু/রামনিধি গুপ্ত (১৭৪১-১৮৩৯)

  • জন্মস্থানঃ চাপ্তাগ্রাম, হুগলী
  • তিনি ‘বাংলা টপ্পা গনের জনক’ এবং মূলত কবিয়াল।
  • তার রচিত ৯৬টি গানের সংকলন- ‘গীতরত্ন; এছাড়া, দুর্গাদাশ লাহিড়ী সম্পাদিত ‘বাঙারির গান’ গ্রন্থে নিধুবাবুর ৪৫০টি গান এবং ‘সংগীত রাগ কল্পদ্রুম’ গ্রন্থে তার ১৫০টি গান পাওয়া যায়।

নুরুন্নেসা খাতুন, বিদ্যাবিনোদিনী (১৮৯৪-১৯৭৫)

  • জন্মস্থানঃ শাহপুর, মর্শিদাবাদ
  • কাহিনীমূলক রচনা- মোসলেম বিক্রম ও বাংলার মোসলেম বীরত্ব
  • তার প্রথম উপন্যাস- ‘স্বপ্নদ্রষ্ঠা’, ঐতিহাসিক উপন্যাস- ‘জানকী বাঈ বা ভারতে মোসলেম বীরত্ব’। অন্যান্য উপন্যাস-আত্নদান, ভাগ্যচক্র, বিধিলিপি, নিয়তি।
  • সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরুপ নিখিল বঙ্গসাহিত্য সমিতি তাকে ‘বিদ্যাবিনোদিনী’ এবং নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ তাকে ‘সাহিত্য সরস্বতী’ উপাধি প্রদান করে।

নুরুল মোমেন (১৯০৮-১৯৯০)

  • জন্মস্থানঃ বুড়োইচ গ্রাম, যশোর।
  • নাটকঃ রুপান্তর, নেমেসিস (দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে)।
  • রম্যরচনাঃ বহুরুপ, নরসুন্দর, হিংটিং ছট।

নীলিমা ইব্রাহিম (১৯২১-২০০২)

  • জন্মস্থানঃ খুলনা
  • প্রবন্ধ গবেষণাঃ অগ্নিস্নাত- বঙ্গবন্ধুর ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা, আমি বীরাঙ্গনা বলছি।
  • উপন্যাসঃ বিশ শতকের মেযে, এক পথ দুই বাঁক, কেয়া বন সঞ্চারিণী,
  • নাটকঃ দুয়ে দুয়ে চার, যে অরণ্যে আলো নেই।
  • আত্নজীবনীঃ বিন্দু বিসর্গ।

নির্মলেন্দু গুণ (১৯৪৫-)

  • জন্মস্থানঃ কাশবন, নেত্রকোনা।
  • কাব্যগ্রন্থ: প্রেমাংশুর রক্ত চাই, না প্রেমিক না বিপ্লবী, তার আগে চাই সমাজতন্ত্র, দূর হ দুঃশাসন।
  • কিশোর উপন্যাসঃ কালো মেঘ, বাবা যখন ছোট্র ছিলেন।
  • ভ্রমণ কাহিনীঃ ভলগার তীরে, গিন্সবার্গের সঙ্গে।

প্রমথ চৌধুরী (১৮৬৮-১৯৪৬)

  • জন্মস্থানঃ যশোর। পৈতৃক নিবাস পাবনা।
  • ছদ্মনামঃ বীরবল। তিনি জীবনে জ্যাঠামী ও সাহিত্যে ন্যাকামী সহ্য করতে পারতেন না।
  • তিনি বাংলা গদ্যে চলিত ভাষারীতির প্রবর্তক, তার সম্পাদিত সবুজপত্রপত্র পত্রিকা চলিত ভাষার প্রসারে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছিলো।
  • তিনি বাংলা ভাষায় ইতালিয়ান সনেটের প্রবর্তক, তিনিই প্রথম বাংলা সাহিত্যের বিদ্রুপত্নক প্রবন্ধ রচনা করেন।
  • প্রবন্ধঃ বীরবলের হালখাতা (প্রথম), তেল নুন লাকড়ি, নানা কথা, নানা চর্চা, রায়তের কথা।
  • গল্পগ্রন্থঃ চার ইযারী কথা, আহুতি, নীললোহিত।

প্যারীচাঁদ মিত্র (১৮১৪-১৮৮৩)

  • ছদ্মনামঃ টেকচাঁদ ঠাকুর: Defence of Bengal- নামে পরিচিত।
  • উপন্যাসঃ আলালের ঘরের দুলাল (১৮৫৭; বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস), আধ্যাত্নিকা।
  • প্রহসনঃ মদ খাওয়া বড় দায জাত থাকার কি উপায়, যৎকিঞ্চিৎ

ফজল শাহাবুদ্দীন (৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৬-৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪)

  • জন্মস্থানঃ কুমিল্লা
  • ‘ষাট দশকের কবি’ ফজল শাহাবুদ্দিনের মোট কাব্যগ্রন্থ- ২৭টি, প্রথম কাব্যগ্রন্থ- ‘তৃষ্ণার অগ্নিতে একা’ এবং সর্বশেষ কাব্যগ্রন্থ- ‘একজন কবি একাকী’।
  • অন্যান্য গ্রন্থ- আলোহীন অন্ধকারহীন, সান্নিধ্যের আর্তনাদ, আততায়ী সুর্যাস্ত, আকাঙ্কিত সুন্দর, দিকচিহ্নহীন, ছিন্নভিন্ন কয়েকজন, পৃথিবী আমার পৃথিবী, ক্রন্দনধ্বনি, ক্রমাগত হাহাকার।

বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ (১৮৬৫-১৯৫২)

  • জন্মস্থান- বালিয়াতোড়, বাকুড়া
  • তিনি বাকুড়া জেলার বিষ্ণুপুরের নিকটবর্তী কালিয়া/কাকিল্লা গ্রামের দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়াল ঘরের মাচা থেকে চণ্ডীদাসের শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের পাণ্যুলিপি আবিষ্কার করেন এবং বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
  • পাণ্ডুলিপিতে নাম পাওয়া না গেলেও বসন্তরঞ্জন কাব্যটির নামকরণ করেন শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’
  • বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ বসন্তরঞ্জনকে বিদ্ববল্লভ উপাধি প্রদান করে।

বিনয় ঘোষ (১৯১৭-১৯৮০)

  • জন্মস্থান- গোড়াপাড়া, যশোর, ছদ্মনাম- কালপেচাঁ
  • নাটক- ল্যাবরেটরি
  • উপন্যাস- ‘৩০৪’
  • গল্পসংকলন-ডাস্টবিন
  • প্রবন্ধগ্রন্থ- বাংলার সামাজিক ইতিহাসের ধারা, পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি, বিদ্যাসাগর ও বাঙালি সমাজ, মেট্রোপলিটান মন, মধ্যবিত্ত বিদ্রোহ, বাংলার নবজাগৃতি, বাংলার বিদ্বৎসমাজ, অটোমেটিক জীবন ও সমাজ, বাংলার লোকসংস্কৃতি ও সমাজতত্ত্ব।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়  (১২ সেপ্টেম্বর, ১৮৯৪- ১ সেপ্টেম্বর, ১৯৫০)

  • জন্মস্থানঃ মুরারিপুর, চব্বিশ পরগনা।
  • ‘অপুর’ বেড়ে ওঠার কাহিনী নিয়ে রচিত ‘পথের পাঁচালী’ লেখকের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস, যা প্রথম ‘বিচিত্রা’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। তার শেষ উপন্যাস ‘ইছামতির’র জন্য রবীন্দ্র পুরস্কার (মরণোত্তর) লাভ করেন। আরণ্যক উপন্যাস-তার রচন ।
  • ‘পথের পাঁচালী’র পরবর্তী খন্ডের নাম ‘অপরাজিত’, এটি লেখকের ‘দ্বিতীয় উপন্যাস’, যা মাসিক প্রবাসীতে প্রথম প্রকাশিত হয়। পথের পাঁচালী ইংরেজি ও ফরাসি ভাষায় অনুদিত হয়েছে।
  • ‘পথের পাঁচালী’র অপুর গ্রামের নাম-নিশ্চিন্দিপুর; বাবা-হরিহর, মা- সর্বজয়া ও দিদি -দুর্গা।
  • অপু, দুর্গা, হরিহর, সর্বজয়া ‘পথের পাঁচালী’ আর অপু, রানুদি, লীলা, অপর্ণা পাটোয়ারী, নির্মলা নিরুদি ‘অপরাজিত’ উপন্যাসের চরিত্র।
  • বিভূতিভুষণ রচিত ‘পথের পাঁচালী,’ ‘অপরাজিত’ ও অশনি অংকেত’ উপন্যাস অবলম্বনে সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।
  • অশনি সংকেত উপন্যাসের উপন্যাসের উপজীব্য- ১৩৫০ বঙ্গাব্দের দুর্ভিক্ষা।
  • ‘পথের পাঁচালী’ বিদেশি গ্রন্থ রমা রোঁলার ‘Jean Christopher’ সাথে তুলনীয়।
  • পাশ্চাত্যের লেখক উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থের সাথে বিভূতিভূষণের মিল আছে।

বিহারীলাল চক্রবতী (২৫ মে, ১৮৩৫-২৮ মে, ১৮৯৪)

  • জন্মস্থান- কলকাতা
  • ‘বাংলা গীতিকবিতার জনক’ বিহারীলালকে ‘ভোরের পাখি’ উপাধিতে ভূষিত করেন- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
  • তার কবিতা দ্বারা সর্বাধিক প্রভাবিত হয়েছেন- ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর’ এবং সারদামঙ্গলের সারদা ‘কবির মানসী প্রিয়া’।
  • ‘সংগীত শতক’ বিহারীলালের প্রথম কাব্যগ্রন্থ। ‘সারদামঙ্গল’ বিহারীলালের শ্রেষ্ঠ কাব্য।
  • বিহারীলালের আত্নজৈবনিক কাব্য ‘সাধের আসন,’ যেখানে দশটি সর্গ ও একটি উপসংহার রয়েছে।

মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা(১৯০৬-১৯৭৯)

  • জন্মস্থান-পাবনা,
  • তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা কবি, মহিলা কবিদের মধ্যে প্রথম সনেটকার ও গদ্য ছব্দের কবি।অশিক্ষা ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী।তিনি আজীবন কুমারী ‍ছিলেন।
  • কাব্যগ্রন্থ-পশারিণী, মন ও মৃত্তিকা, অরণের সুর।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়(১৯০৮-১৯৫৬)

  • জন্মস্থান: সাঁওতাল পরগনা, বিহার।
  • প্রকৃত নাম: প্রবোধচন্দ্র বন্দোপাধ্যায় (পিতৃ প্রদত্ত)।
  • তিনি মার্কসিজম দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন, তার প্রথম উপন্যাস-জননী।
  • উপন্যাস: পদ্মা নদীর মাঝি, জননী, দিবা-রাত্রির কাব্য, পুতুল নাচের ইতিকথা, সোনার চেয়ে দামি, অহিংসা।
  • গল্পগ্রন্থ: অতসী মামী ও অন্যান্য, প্রাগৈতিহাসিক, সরীসৃপ, বৌ, আত্মহত্যার অধিকার, ছোট বকুলপুরের যাত্রী।
  • পদ্মানদীর মাঝি উপন্যাসের উপজীব্য- জেলে জীবনের বিচিত্র সুখ-দুঃখ, উপন্যাসটি ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ হয়েছিল- পূর্বাশা পত্রিকায়।

মুকুন্দদাস (পিতৃপ্রদত্ত্ব নাম- যজ্ঞেশ্বর)

  • জন্মস্থান- বানারি গ্রাম, বিক্রমপুর, ঢাকা
  • পরিচিতি- ‘চারণ কবি’ নামে।
  • রচিত গ্রন্থ- মাতৃপূজা, সাধনসঙ্গীত, পল্লীসেবা, বজ্রচারিণী, পথ, সাথী, সমাজ, কর্মক্ষেত্র।
  • কাজী নজরুল ইসলাম তাকে ’বাংলা মায়ের দামাল ছেলে চারণ-সম্রাট মুকুন্দ’ এবং রবীন্দ্রনাথ ’সন্তান বলে আখ্যায়িত করেন।

মুহম্মদ আবদুল হাই (২৬ নুভেম্বর,১৯১৯-২ মে, ১৯৬৯)

  • জন্মস্থান- মুর্শিদাবাদ,পশ্চিমবঙ্গ
  • মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ ‘ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব’।
  • তিনি সৈয়দ আলী আহসান সহযোগে ‘বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত (আধুনিক)’ এবং ড. আহমদ শরীফ সহযোগে ‘মধ্যযুগের বাংলা গীতি কবিতা’ (সম্পাদিত গ্রন্থ) রচনা করেন।
  • তার ‘বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন’ থেকে সংকলিত ভ্রমণ কাহিনী ‘ফুলের মেলা’।

মুনীর চৌধুরী (১০২৫-১৯৭১)

  • জন্মস্থান : মানিকগঞ্জ, পৈতৃক নিবাস নোয়াখালী।
  • নাটক : রক্তাক্ত প্রান্তন, চিঠি, কবর, পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য, দণ্ডকারণ্য, মানুষ, নষ্টছেলে।
  • অনুদিত নাটক : কেউ কিছু বলতে পারবে না, রূপার কৌটা, মুখরা রমণী বশীকরণ (শেক্সপিয়ারের নাটক The Taming of the Shrew –এর অনুবাদ)।
  • মুনীর চৌধুরী আবিষ্কৃত টাইপ রাইটারের নাম – মুনীর অপটিমা
  • সাংবাদিক রণেশ দাশগুপ্তের অনুরোধে ঢাকা কেন্দ্রীয়া কারাগারে বসে মুনীর চৌধুরী কর্তৃক রচিত নাটক ‘কবর’ (১৭ জানুয়ারি ১৯৫৩)প্রথম মঞ্চস্থ হয় – ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে, বন্দীদের দ্বারা।

রাশীদ করীম (১৪ আগস্ট, ১৯২৫ – ২৬ নভেম্বর, ২০১১)

  • জন্মস্থান : কলকাতা।
  • গল্পগ্রন্থ : প্রথম প্রেম।
  • উপন্যাস : উত্তম পুরুষ, প্রসন্ন পাসন্ন পাষাণ, আমার যত গ্লানি, প্রেম একটি লাল গোলাপ, একালের রূপকথা, সোনার পাথরবাটি, বড়ই নিঃসঙ্গ, মায়ের কাছে যাচ্ছি, চিনি না, পদতলে রক্ত, লাঞ্চবক্স।
  • প্রবন্ধগ্রন্থ:মনের গহীনে তোমার মুরতিখানি, আর এক দৃষ্টিকোণ, অতীত হয় নুতন পুনরায়।
  • আত্মজীবনী গ্রন্থ : জীবনমরণ।
  • প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্প : আয়শা।
  • ’উত্তমপুরুষ’ উপন্যাসটির জন্য ‍তিনি আদমজী পুবস্কার লাভ করেন।
  • পুরস্কার : বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।
  • পুরস্কার : বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৭২), একুশে পদক (১৯৮৪)।

রামনারায়ণ তর্করত্ন (১৮২২-১৮৬৬)

  • জন্মস্থান- হরিণাভি গ্রাম, চব্বিশপরগণা;
  • উপাধি – কাব্যোপাধ্যায়, নাটুকে রামনারায়ণ।
  • নাটক- কুলীন কুলসর্বাস্ব, রত্নাবলী, নব নাটক, বেণীসংহার, মালতীমাধব নাটক, স্বপ্নধন নাটক, ধর্মবিজয়, কংসবধ, রুক্মিনি হরণ।
  • প্রহসন – যেমন কর্ম তেমন ফল, উভয় সংকট, চক্ষুদান; প্রবন্ধ- পতিব্রতোপাখ্যান
  • কুলীন কুলসর্বস্ব- তার শ্রেষ্ট নাটক, বহুবিবাহবিরোধী নাটক- নব নাটক

রাজিয়া খান (১৯৩৬- ২৮ ডিসেম্বর, ২০১১)

  • জন্মস্থান: ফরিদপুর।
  • উপন্যাস : বটতলার উপন্যাস, আবর্ত, অনুকল্প, প্রতিচিত্র, বন্দী, বিহঙ্গ, দ্রৌপদী।

রাবেয়া খাতুন (১৯৩৫ – )

  • জন্মস্থান : ঢাকা
  • উপন্যাস : মধুমতি, সাহেব বাজার, বায়ান্ন গলির এক গলি, অনন্ত অম্বেষা, মন এক শ্বেত কপোতী, ফেরারী সূর্য, অনেক জনের একজন, জীবনের আরেক নাম দিবস রজনী, মোহর আলী, হানিফের ঘোড়া, পাখিসব করে বর।

শওকত ওসমান (১৯১৭-১৯৯৮)

  • জন্মস্থান : সবলসিংহপুর, হুগলি।
  • প্রকৃত নাম: শেখ আজিজুর রহমান।
  • প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস : জননী (১৯৬১)।
  • ’ক্রীতদাসের হাসি’ উপন্যাসের জন্য আদমজী পুরস্কার লাভ করেন।
  • অন্যান্য উপন্যাস : জাহান্নাম হইতে বিদায়, নেকড়ে অরণ্য, দুই সৈনিক, জলাংগী, চৌরবন্ধি।
  • প্রবন্ধ : সংস্কৃতির চড়াই উৎরাই, মুসলিম মানসের রূপান্তর।
  • গল্প : পিজঁরাপোল, জন্ম যদি তব বঙ্গে, ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী।
  • নাটক : আমলার মামলা, তস্কর ও লস্কর।
  • ভাষা আন্দালন ভিত্তিক তার উপন্যাস- আর্তনাদ।

শহীদুল্লা কায়সার (১৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯২৭- ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১)

  • জন্মস্থান- ফেনী
  • সমুদ্র উপকূলীয় নাবিকদের জীবনকাহিনী বর্ণিত তার ‘সারেং বউ’ উপন্যাসের প্রধান পুরুষ চরিত্র- কদম সারেং এবং প্রধান নারী চরিত্র- নবীতুন।
  • তার ‘সংশপ্তক’ উপন্যাসের চরিত্র : রাবেয়া খাতুন (বাবু), জাহেদ, সেকেন্দার, মালু হুরমতি, লেকু।
  • ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে ’সারেং বউ’ উপন্যাসের জন্য আদমজী পুরস্কার ও বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

শামসুর রাহমান(১৯২৯-২০০৬)

  • জন্মস্থান : মাহুতটুলি, পুরান ঢাকা।
  • পৈতৃক নিবাস পাড়াতলি, নরসিংদী, ছদ্মনাম- মৈনাক।
  • উপন্যাস : অক্টোপাস, অদ্ভুত আধার এক, নিয়ত মন্তাজ, এলো সে অবেলায়।
  • কাব্যগ্রন্থ: প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে (প্রথম কাব্যগ্রন্থ), রৌদ্র করোটিতে, নিরালোকে দিব্যরথ, বিধ্বস্ত নীলিমা, বন্দী শিবির থেকে, বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে, উদ্ভটা উটের পিঠে চলছে স্বদেশ, প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে, এক ফোঁটা কেমন অনল, বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়, দু’সময়ের মুখোমুখি।
  • বিখ্যাত কবিতা- তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা, স্বাধীনতা তুমি, আসাদের শার্ট।
  • শিশুতোষ গ্রন্থ: এলাটিং বেলাটিং, ধান ভানলে তুড়ো দেব, গোলাপ ফুটে খুকির হাতে।
  • আত্মজীবনী: স্মৃতির শহর, কালের ধূলোয় লেখা।

শামসুন নাহার মাহমুদ

  • ‘মুসলিম নারী জগরণের কবি’ শামসুন নাহার মাহমুদ ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে নোয়াখালিতে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দের ১০ এপ্রিল তিনি পরলোকগমন করেন।
  • তার প্রথম প্রতাশিত গ্রন্থ- ‘পুণ্যময়ী’, অন্যান্য রচনা- ফুল বাগিচা, রোকেয়া জীবনী, বেগম মহল, মহিলা মহল, শিশু শিক্ষা (শিশুতোষ), আমার দেখা তুরস্ক (ভ্রমণকাহিনী)।
  • সর্বশেষ রচনা- ’নজরুলকে যেমন দেখেছি’ (১৯৫৮)।

সিকান্দার আবু জাফর (১৯১৯-১৯৭৫)

  • জন্মস্থান: তেঁতুলিয়া, খুলনা।
  • উপন্যাস: নতুন সফর, জয়ের পথে,

     মাটি আর ‍অশ্রু, নবী কাহিনী।

  • কাব্যগ্রন্থ: তিমিরান্তক, প্রসন্ন প্রহর,

     বৈরী  বৃষ্টিতে, বৃশ্চিকলগ্ন।

  • নাটক: সিরাজউদ্দৌলা, শকুস্তলা উপাখ্যান, মহাকবি আলাওল।

সুকান্ত ভট্রাচার্য (১৯২৬-১৯৪৭)

  • জন্মস্থান- কালিঘাট, কলকাতা।
  • পৈতৃক নিবাস গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ায়।
  • কাব্যগ্রন্থ: ছাড়পত্র, পূর্বাভাস, অভিযান, হরতাল, গীতিগুচ্ছ, ছাড়পত্র।
  • কবিতা: রানার, আঠারো বছর বয়স, আকাল, এক যে ছিল।
  • ‘এ বিশ্বকে এ শিশুর ব্সযোগ্য করে যাবো আমি/নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় ‍অঙ্গীকার।’ ছাড়পত্র কবিতার পংক্তি।
  • ‘ছাড়পত্র’ কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলেত কবিতা ‘আঠারো বছর বয়স’। ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত। ‘পূর্বাভাস’ কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত কবিতা ‘দুর্মর’।
প্রসন্ন প্রহর(কাব্য) সিকান্দার আবু জাফর
প্রসন্ন পাষাণ(উপন্যাস) রশীদ করিম
ক্ষুধিত পাষাণ(গল্প) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
পাষাণী(নাটক) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়

সুফিয়া কামাল (১৯১১-১৯৯৯)

  • জন্মস্থান: বরিশাল, পৈতৃক নিবাস কুমিল্লা।
  • শিশুতোষগ্রন্থ : ইতল-বিতল।
  • ডায়েরী: একাত্তরের ডায়েরী।
  • কাব্যগ্রন্থ: সাঁঝের মায়া, মায়া কাজল, উদাত্ত পৃথিবী, মন ও জীবন, কেয়ারকাঁটা।

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় (৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৪ -২৩ অক্টোবর, ২০১২)

  • জন্মন্থান- ফরিদপুর
  • প্রথম উপন্যাস- আত্মপ্রকাশ (১৯৬৬), অন্যান্য উপন্যাস- প্রথম আলো, অরণ্যের দিনরাত্রি, রূপটান, পূর্ব পশ্চিম, কবি ও নর্তকী, বেঁচে থাকার নেশা, ভালবাসা প্রেম নয়।
  • নাটক- প্রাণের প্রহরী, মালঞ্চমালা, স্বধীনতার সংগ্রামের নেতাজী।
  • গল্পগ্রন্থ- আলোকলতার মূল, শাহজাহান ও নিজস্ব বাহিনী, ভ্রমণকাহিনী- পায়ের তলায় সর্ষে।
  • কাব্যগ্রন্থ- একা ও কয়েকজন, বিখ্যাত কবিতা- কেউ কথা রাখেনি, সেই মুহূর্তে নীরা, আমি কীরকমভাবে বেঁচে আছি, আমার স্বপ্ন, অন্যদেশে কবিতা।

সেলিম আল দীন (১৯৪৮-২০০৮)

  • জন্মস্থান- সেরেনখিল, নোয়াখালী।
  • প্রকৃত নাম: মইনুদ্দিন আহমেদ।
  • নাট্যগ্রন্থ: কীর্তন খোলা, মুনতাসীর ফ্যান্টাসি, চাকা, যৈবতী কন্যার মন, বনপাংশু, হরগজ, হাতহদাই, নিমজ্জন।

সেলিনা হোসেন (১৯৪৭ – )

  • জন্মস্থান- রাজশাহী।
  • উপন্যাস: পোকামাকড়ের ঘরবসতি, হাঙর নদী গ্রেনেড, নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি, কাঁটাতারে প্রজাপতি, যাপিত জীবন।

সৈয়দ ওয়ালীউনল্লাহ (১৯২২-১৯৭১)

  • জন্মস্থান- ষোলশহর, চট্রগ্রাম।
  • উপন্যাস : লালসালু (১৯৪৮) (Tree without Roots নামে অনুতদিত হয়), চাঁদের অমাবস্যা, কাঁদো নদী কাঁদো।
  • গল্পগ্রন্থ: নয়ন চারা, দুই তীর।
  • গল্প: একটি তুলসী গাছের কাহিনী।
  • নাটক: বহিপীর, তরঙ্গভঙ্গ।

সৈয়দ মুজতবা আলী (১৯০৪-১৯৭৪)

  • জন্মস্থান- করিমগঞ্জ, সিলেট।
  • ভ্রমণ কাহিনী: দেশে-বিদেশে (কাবুল শহর নিয়ে)।
  • উপন্যাস: আবিশ্বাস্য, শবনম।
  • রম্যরচনা: পঞ্চতন্ত্র, ময়ূর কণ্ঠী, চাচা কাহিনী,টুনি মেম।

সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী (১৮৮০-১৯৩১)

  • জন্মস্থান: সিরাজগঞ্জ।
  • কাব্যগ্রন্থ: অনলপ্রবাহ, স্পেনবিজয় কাব্য (মহাকাব্য)।
  • উপন্যাস: তারা-বাঈ, রায়নন্দিনী (বঙ্কিমচন্দ্রের দুর্গেশনন্দিনীর প্রতিক্রিয়ায় রচিত)।
  • প্রবন্ধ: তুর্কি নারীর জীবন।
  • ভ্রমণকাহিনী: তুরস্ক ভ্রমণ।
  • ইংরেজবিরোধী তীব্র মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে- অনলপ্রবাহ কাব্যে।

সৈয়দ আলী আহসান (২৬ মার্চ, ১৯২২-২৫ জুলাই, ২০০২)

  • জন্মস্থান- কাদিয়া, যশোর
  • তিনি বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত ‘আমার সোনার বাংলা’ –এর ইংরেজি ভাবানুবাদ করেন।
  • গ্রিক ট্রাজেডি ‘ইডিপাস’ বাংলা অনুবাদ করেন
  • তার বিখ্যাত কবিতা ‘আমার পূর্ব বাংলা’, উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ- একক সন্ধ্যায় বসন্ত, অনেক আকাশ, সহসা সচকিত, উচ্চারণ।
  • আত্মজীবনী গ্রন্থ- আমার সাক্ষ্য;
  • তিনি ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে মধুসূদন স্বর্ণপদক ও নাসির উদ্দিন স্বর্ণপদক লাভ করেন।

সৈয়দ শামসুল হক(২৭ ডিসেম্বর,১৯৩৫-)

  • জন্মস্থান- কুড়িগ্রাম
  • উপন্যাস-সীমানা ছাড়িয়ে, খেলারাম খেলে যা, এক মহিলার ছবি, নিষিদ্ধ লোবান ও নীলদংশন।
  • ’পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ তার মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যনাট্য।
  • ’নিষিদ্ধ লোবান’ উপন্যাস অবলম্বনে নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাংলা ভাষায় ‘গেরিলা’ নামে চলচ্চিত্র নির্মণ করেছেন।
  • ’জাগো’ বাহে কুণ্ঠে সবাই’ এই অবিস্মরণীয় আহ্বান উচ্চারণ করে- সৈয়দ শামসুল হকের ‘নূরুল দীনের সারাজীবন’ নাটকের নূরুল দীন

হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, মহামহোপাধ্যায়(১৮৫৩-১৯৩১)

  • জন্মস্থান- নৈহাটি, পশ্চিমবঙ্গ
  • তিনি ১৯০৭ সালে নেপালের রাজগ্রন্থাগার থেকে বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদ আবিস্কার করেন এবং ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে তা গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
  • কলকাতার সংস্কৃত কলেজ থেকে তিনি ‘শাস্ত্রী’ উপাধি লাভ করেন।
  • বিএ ক্লাসে অধ্যায়নকালে তিনি ‘ভাত মহিলা’ প্রবন্ধ রচনা করে ‘হোলকার’ পুরস্কার লাভ করেন।
  • সাহিত্যকর্ম- বেণের মেয়ে (উপন্যাস), কাঞ্চণমালা(উপন্যাস), মেঘদূত ব্যাখ্যা, বাল্মীকির জয়, হাজার বছরের পুরাণ বাংলা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা, প্রাচীন বাংলার গৌরব, বোদ্ধধর্ম

হাসান আজিজুল হক (১৯৩৯-)

  • গল্পগ্রন্থ : শীতের অরণ্য, আত্মজা ও একটি করবী গাছ, জীবন ঘষে আগুন, নামহীন গোত্রহীন, পাতালে হাসপাতালে।
  • উপন্যাস: আগুনপাখি।
  • মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ: একাত্তরের করতলে ছিন্নমাখা।

হাসান হাফিজুর রহমান (১ জুন, ১৯৩২- ১৮ এপ্রিল, ১৯৮৩):

  • জন্মস্থান- জামালপুর।
  • কাব্য : বিমুখ প্রান্তর, আর্ত শব্দাবলী, অন্তিম শরের মত, যখন উদ্যত, শোকার্ত তরবারী।
  • গল্প : আরো দুটি মৃত্যু।
  • প্রবন্ধ : আধুনিক কবি ও কবিতা, মূল্যবোধের জন্যে, সাহিত্য প্রসঙ্গ, আলোকিত গহ্বর।
  • তার দুটি বিরল সম্পাদনা-

  (ক) ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম সাহিত্য সংকলণ, একুশে

     ফেব্রুয়ারি(১৯৫৩)

  (খ)বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ : দলিলপত্র (১৯৮২-৮৩) (১৫ খণ্ড)।

  • পুরস্কার : বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৭১), একুশে পদক (১৯৮৪, মরণোত্তর)।

হুমায়ুন আজাদ (২৮ এপ্রিল, ১৯৪৭ -১২ আগস্ট, ২০০৪)

  • জন্মস্থান: রাড়িখাল, বিক্রমপুর।
  • কাব্য : অলৌকিক ইস্টিমার, জ্বলো চিতাবাঘ, সবকিছু নষ্টদের আধিকারে যাবে, যতোই গভীরে যাই মধু যতোই ওপরে যাই নীল, কাফনে মোড়া অশ্রু বিন্দু, আমি বেঁচে ছিলাম অন্যদের সময়ে।
  • উপন্যাস : ছাপ্পান্ন হাজার বর্গ মাইল, সবকিছু ভেঙে পড়ে, শুভ দ্রুত তার সম্পুর্কিত সুসমাচার, রাজনীতি বিতগণ, কবি অথবা দণ্ডিত পুরুষ, পাক সার জামিন সাদ বাদ।
  • কিশোর উপন্যাস : আব্বুকে মনে পড়ে।
  • সমালোচনামূলক গ্রন্থ : রবীন্দ্র প্রবন্ধ, রাষ্ট্র ও সমাজ চিন্তা, শামসুর রহমান : ‍নিঃসঙ্গ শেরপা, শিল্পকলার বিমানবিকীকরণ ও ঐুতহাসিক ভাষা বিজ্ঞান, লাল নীল দীপাবলী বা বাংলা সাহিত্যের জীবনী, কতোনদী সরোবর বা বাংলা ভাষা জীবনী।
  • পুরস্কার : বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮৬), একুশে পদক (২০১২, মরণোত্তর)।

হুমায়ুন কবির (২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯০৬ – ১৮ আগস্ট, ১৯৬৯)

  • জন্মস্থান- কোমরপুর, ফরিদপুর।
  • উপন্যাস : নদী ও নারী।
  • কাব্য : স্বপ্নসাধ, সাথী, অষ্টদশী।
  • প্রবন্ধ : ধারাবাহিক, শরৎ সাহিত্যের মূল তত্ত্ব, বাংলার কাব্য, মার্কসবাদ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী।
  • হুমায়ুন কবীর ‘চতুরঙ্গ’ পত্রিকা সম্পাদনা করে স্মরণীয় হয়ে আছেন।
  • হুমায়ুন কবীর ‘ভারত সরকারের’ মন্ত্রী ছিলেন।

হুমায়ুন আহমেদ (১৩ নভেম্বর, ১৯৪৮-১৯ জুলাই, ২০১২)

  • জন্মস্থান- মোহনগঞ্জ, নেত্রকোণা।
  • উপন্যাস : নন্দিত নরকে, বহুব্রীহি, দূরে কোথাও, নক্ষত্রের রাত, কোথাও কেউ নেই, এইসব দিনরাত্রি, অয়োময়, রজনী, শঙ্খনীল কারাগার, আজ রবিবার, জোছনা ও জননী গল্প।
  • প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস- নন্দিত নরকে (২৪ বছর বয়সে), সর্বশেষ উপন্যাস- দেয়াল।
  • রম্য রচনা- এলেবেলে, আত্মজীবনী- কাঠপেন্সিল, রংপেন্সিল।
  • হুমায়ুন আহমেদের মৌলিক রচনা ও সাক্ষাৎকারের অনবদ্য সংকলন ‘বসন্ত বিলাপ’।
  • চলচ্চিত্র : আগুনের পরশমণি, দারুচিনি দ্বীপ, শ্যামল ছায়া, দুই দুয়ারী, শ্রাবণ মেঘের দিন, ঘেটুপুত্র কমলা(সর্বশেষ)।
  • সৃষ্টচরিত্র : হিমু, মিসির আলী, বাকের ভাই, শুভ্র।
  • পুরস্কার: একুশে পদক (১৯৯৪)।

হেলাল হাফিজ (৭ অক্টোবর, ১৯৪৮-)

  • জন্মস্থান- নেত্রকোনা
  • প্রথম কাব্যগ্রন্থ-’যে জ্বলে আগুন জ্বলে’(১৯৮৬), দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ- ’কবিতা একাত্তর’ (২০১২)
  • ”এখন যৌবন যার, মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়’ এবং ‘নিউটন বোমা বোঝ, মানুষ বোঝ না” – তার বিখ্যাত পঙক্তি।তার বিখ্যাত রচনা- নিষিদ্ধ সম্পদকীয়।
  • তিনি কাবিতায় ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (২০১৪)’লাভ করেছেন।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য
একনজরে আরো কিছু তথ্য
  • আব্দুল করিম সাহিত্য বিশারদ (১৮৭১-১৯৫৩) সংগৃহীত পুঁথির সংখ্যা প্রায় ২ হাজার, যার প্রায় ১ হাজার পুঁথি বাঙালি মুসলমানের লেখা; তিনি আলাওলের ’পদ্মাবতী’ পুঁথি সম্পাদনা করেছেন।
  • আরজ আলী মাতুব্বর (১৯০৩- ১৯৮৫) রচিত গ্রন্থ- সত্যের সন্ধান, সৃষ্টির রহস্য, অনুমান।
  • আবু জাফর শামসুদ্দীন এর ত্রয়ী উপন্যাস- ভাওয়ালগড়ের উপাখ্যান, পদ্মা মেঘনা, সংকর সংকীর্তন।
  • ‘বুদ্ধির মুক্তি’ আন্দোলনের প্রধান উদ্যোক্তা আবদুল কাদির সম্পাদিত পত্রিকা- ‘মাহে নাও’ তার কাব্য- উত্তর বসন্ত, ছন্দ বিষয়ক গ্রন্থ ‘ছন্দ সমীক্ষা’।
  • ১৯ শতকের প্রথম মুসলিম লেখক- খন্দকার শামসুদ্দিন সিদ্দিকী।
  • খান মুহাম্মদ মঈনুদ্দিন রচিত উপন্যাস– অনাথিনী (প্রথম উপন্যাস), নয়া সড়ক; কাব্যগ্রন্থ– পালের নাও, আর্তনাদ, হে মানুষ; গল্পগ্রন্থ– ঝুমকোলতা।
  • চন্দ্রকুমার দে সংগৃহীত: পালাগান– মহুয়া, মলুয়া, চন্দ্রাবতী, কমলা, দস্যু কেনারাম, দেওয়ান- ভাবনা, কষ্কলীলা, ধোপার পাট, রুপবতী, দেওয়ান মদিনা; এবং পূর্ববঙ্গীয় গীতিকা– মাইষাল বন্ধু, ভেলুয়া, আয়না বিবি, পীর বাতাসী, কমলারনী, শিলাদেবী, জিবালনি, সোনারামের জন্ম।
  • মানবজীবন’, ‘মহৎজীবন’ ও ‘উন্নতজীবন’- প্রভৃতি গ্রন্থের রচয়িতা- ডা. মোঃলুৎফর রহমান
  • ‘আমি ভাল আছি তুমি’ ’জন্মই আমার আজন্ম পাপ’ ও ’নারকীয় ভুবনের কবিতা’ কাব্যগ্রন্থত্রয়ের কবি- দাউদ হায়দার।
  • দীনেশ চন্দ্র সেন সম্পাদিত ‘বঙ্গভাষা ও সাহিত্য’ (১৮৯৬) বাংলা নাহিত্যের প্রথম ইতিহাস গ্রন্থ, তিনি মৈমনসিংহ গীতিকা’ সংগ্রাহক, সম্পাদক ও প্রকাশক।
  • ‘রূপজালাল’ নামে আত্মজীবনী লিখেছিলেন- নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরাণী।
  • নাথিনিয়েল ব্রাশি হ্যালহেড (২৫ মে, ১৭৫১-১৮ ফেব্রুয়ারি ১৮৬০) রচিত A Grammar of the Bengla Language ইংরেহজি ভাষায় রচিত বাংলা ভাষা প্রথম ব্যাকরণ গ্রন্থ।
  • প্রিন্সিপাল ইব্রাহীম খাঁ রচিত নাটক– আনোয়ার পাশা, কামাল পাশা, কাফেলা, ভিস্তি বাদশা, নিযাম ডাকাত; ভ্রমণকাহিনী– ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র, গল্পগ্রন্থ– সোনার শিকল।
  • ‘ময়নামতীর চর’ কাব্যটির রচয়িতা- বন্দে আলী মিয়া।
  • মোহাম্মদ নজিবর রহমান সাহিত্যরত্নের প্রথম ও জনপ্রিয় উপন্যাস ‘আনোয়ারা’ (১৯১৪)।মুসলিম মধ্যবিত্তের তৎকালীন সমাজচিত্র ‘আনোয়ারা’ উপন্যাসের মূল উপজীব্য- ’সতীর সর্বস্বপতি, সতী শুধু পতিময়, বিধাতার প্রেমরাজ্যে সতত সতীর জয়।
  • ‘শান্তিপুরের কবি’ মোজাম্মেল হক রচিত উপন্যাস– জোহরা, অনূদিত গ্রন্থ– শাহনামা, সম্পাদিত পত্রিকা– ’মোসলেম ভারত’।
  • ‘বার্ট্রান্ড রাসেলে’ ভাবশিষ্য মোতাহের হোসেন চৌধুরীর প্রবন্ধগ্রন্থ- ‘সংস্কৃতির কথা’ থেকে সংকলিত প্রবন্ধ- ’শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’; ক্লাইভ বেলের ‘সিভিলাইজেশন’ এর তার অনূদিতগ্রন্থ- ‘সভ্যতা’, বার্ট্রান্ড রাসেলের ’কংকোয়েস্ট ‍অব হ্যাপিনেসে’র তার অনূদিতগ্রন্থ- ‘সুখ’।
  • শামসুদ্দিন আবুল কালাম রচিত উপন্যাস– আলমগড়ের উপকথা, কাশবনের কন্যা, কাঞ্চনমালা, জায়মঙ্গল, কাঞ্চনগ্রাম, সমুদ্র বাসর; গল্প– আনেক দিনের আশা, ঢেউ, পথ জানা নাই, দুই হৃদয়ের তীর, শাহের বানু, পুঁই ডালিমের কাব্য।
  • সঈদ আহমেদ রচিত নাটক- কালবেলা, মাইলপোস্ট, প্রতিদিন একদির; তার ‘তৃষ্ণায়’ নাটকটি ‘দ্য সারভাইবেল’ ইংরেজি নাটকের অনুবাদ; বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনালোকে রচিত নাটক ‘শেষ নবাব’ তার শেষ নাটক।
  • কখনো উপন্যাম লেখেননি- ত্রিশের দশকের লিরিক কবি সুধীন্দ্রনাথ দত্ত।
  • আবোল, হ-য-ব-র-ল, বহুরূপী, পাগলা দাশু, খাই খাই গ্রন্থসমূহের রচয়িতা- সুকুমার রায়, তার পিতা- উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী এবং পুত্র অস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়।
  • আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক- স্বর্ণকুমারী দেবী, তার প্রথম উপন্যাস- দীপ নির্বাণ; তিনি ‘বালক’ নামে কিশোর পত্রিকা প্রকাশ করেন।
  • হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়- এর মহাকাব্য ‘বৃত্রসংহার’. কাব্যের কাহিনী উৎস পৌরাণিক কাহিনী, মহাভারতের বনপর্ব উপাখ্যান। তার কাব্যগ্রন্থ- চিন্তা তরঙ্গিনী, বীরবাহু, কবিতাবলী, ছায়াময়ী, আশাকানন, দশমহাবিদ্যা, চিত্তবিকাশ।
  • কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা- নীলমনি ঠাকুর।
  • ফোর্ট উইলেয়ান কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চণ্ডীচরণ মুনশী ভগবগীতা ছাড়াও ফারসি গ্রন্থ তুতিহনামা কে ‘তোতা ইতিহাস’ নামে বাংলায় অনুবাদ করেন।
  • ত্রিশের দশকের কবি বুদ্ধদেব বসুর কাব্য- তিথিডোর।
  • পদ্মপুরাণ কাব্যের রচয়িতা নারায়ন দেব- এর ছদ্মনাম ছিল ‘কবিবল্লভ’; তার নামে কালিকা পুরাণের একটি পুঁথি পাওয়া য়ায।
  • ডক্টর নিহাররঞ্জন রায় (১৯০৩-১৯৮১) রচিত গ্রন্থ- বাঙালীর ইতিহাস, বাঙালী হিন্দুর বর্ণভেদ।
  • বাংলা মৃদ্রণাক্ষরের জনক- পঞ্চানন কর্মকার (জন্ম তারিখ অজ্ঞাত – মৃত্যু- ১৯০৪)
  • প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায় (১৮৭৩-১৯৩২) রচিত গল্পগ্রন্থ- গল্পাঞ্জলি, গল্পবীথি; বিখ্যাত গল্প-রসময়ীর রসিকতা, বস্তসাপ, বলবান, জামাতা, দেবী, আদরিণী, মাস্টার মশাই, ফুলের মূল্য; উপন্যাস- নত্মদ্বীপ(১৯৯৫); ব্যঙ্গকাব্য- অভিশাপ।
  • ছন্দ- পরিক্রমা, বাংলা ছন্দ সমীক্ষা, ছন্দ জিজ্ঞাসা, ছন্দ সোপান, বাংলা ছন্দচিন্তার ক্রমবিকাশ- প্রভৃতি গ্রন্থের রচয়িতা- প্রবোধচন্দ্র সেন।
  • বেদুইন শমসের/শমসের আলী (১৯১৯-১৯৬৪) রচিত গ্রন্থ- রিকসায়ালা, বুড়িগঙ্গার বুকে, বেঈমান, দিশাহারা, কাঁটা ও ফুল, চাওয়া পাওয়া, তার  ও ঝংকার।
  • মানকুমারী বসু রচিত কাব্য- কুসুমাঞ্জলি, কনকাঞ্জলি, বীরকুমারবধ; গদ্যপদ্য রচনা- প্রিয় প্রসঙ্গ বা হারানো সময়; সনেট- পুরন্দরের প্রতি ইন্দুবালা।
  • মিসেস এম, রহমান রচিত ‘চাষী’ (শিশুতোষ) কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয়- দৈনিক সংবাদ এর খেলাঘরের পাতায়।
  • মোহাম্মদ আবদুল হাকিম রচিত উপন্যাস- পল্লী সংস্কার, বিষাদ লহরী, প্রতিশোধ, মিলন, প্রতিদান; কাব্য- কবিতা লহরী, জাতীয় লহরী।
  • যতীন সেনগুপ্ত রচিত কাব্য- মরীচিকা, মরুশিখা, মরুমায়া, সায়ম, ত্রিযামা; সাহিত্যের রূপতত্ত্ব বিষয়ক গন্থ- কাব্যপরিমিতি।
  • ‘কান্ত কবি’ নামে পরিচিত রজনীকান্ত সেন রচিত কাব্য- কাণী, কল্যাণী, অমৃত, আনন্দময়ী, অভয়া, বিশ্রাম, সম্ভাবকুসুম, শেষদান; ”মায়ের দেয়া মোটা কাপড় মাথায় তুলে নেরে ভাই….” স্বদেশী আন্দোলনের প্রেক্ষিতে তার লেখা জনপ্রিয় গান; ”বাবুই পাখিরে ডাকি বলিছে চড়াই….” তার ‘স্বাধীনতার সুখ’ কবিতার চরণ।
  • শুকুর মাহমুদ (১৬৮০-১৭৫০) রচিত ‘গুপীচন্দ্রের সন্যাস দিকের।
  • বাংলা সাহিত্যের প্রথম আত্মজীবনীকার- রাসসুন্দরী দাসী; তার গ্রন্থের নাম- আমার জীবন।
  • শহীদ সাংবাদিক সিরাজউদ্দীন হোসেন (১৯২৯-১৯৭১) রচিত গ্রন্থ – ছোট থেকে বড়, মহিয়সী নারী, ইতিহাস কথা নও, The Days Decisive.
  • সোমেন চন্দ (১৯২০-১৯৪২) রচিত বিখ্যাত ছোটগল্প- ‍ইঁদুর; গল্পগ্রন্থ- ‘সংকেত ও অন্যান্য গল্প’, ’বনস্পতি ও অন্যান্য গল্প।
  • হুমায়ুন কাদির (১৯৪৮-১৯৭২) রচিত উপন্যাস – নির্জন মেঘ; ছোটগল্প- একগুচ্ছ গোলাপ ও কয়োটি গল্প, আদিম অরণ্যে একরাত্রি, শীলার জন্যে সাধ, কোথায় পাব তারে।
  • সমবেশ বসু কালকূট ছদ্মনামে লিখেছেন-অমৃত কূম্ভের সন্ধানে।
  • ‘পরানের গহীণ ভিতর’ গ্রন্থের লেখক সৈয়দ সামসুল হক কিন্তু ‘বুকের ভিতর আগুন’ গ্রন্থের রচয়িতা- জাহানারা ইমাম।
  • Defece  of  Bengal নামে পরিচিত.. প্যারীচাঁদ মিত্র, তার উপন্যাস- আধ্যাত্মিকা, আলালের ঘরের দুলাল (বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস)।
  • ’সূর্য সাক্ষী’ গ্রন্থের রচয়িতা- পান্না কায়সার।
বাংলা সাহিত্য ও বিভিন্ন সংগঠন

বাংলা একাডেমি

  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে (ভাষা আন্দোলনের ফলস্বরূপ) বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠা-৩ ডিসেম্বর, ১৯৫৫; উদ্বোধক- পূর্ব বাংলার তৎকালীন মুখ্যকমন্ত্রী আবু হোসেন সরকার।
  • বাংলা একাডেমিকে বলা হয়- জাতির মননের প্রতীক। বাংলা একাডেমির বিভাগ- চারটি।
  • বাংলা একাডোমিকে প্রতিষ্ঠা হয়- বর্ধমান হাউসে (বর্তমানে লেখক জাদুঘর)।
  • প্রথম স্পেশাল আফিসার- মোহম্মদ বরকতুল্লাহ, প্রথম সভাপতি- মাওলানা আকরম খাঁ, বর্তমান সভাপতি- অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান।
  • প্রথম পরিচালক ড. মুহম্মদ এনামুল হক, প্রথম মহাপরিচালক- ড, মাযহারুল ইসলঅম, বর্তমান মহাপচালক.. ড. শামসুজ্জামান খান।
  • বাংলা একাডেমি থেকে ছয়টি পত্রিকা ও সাময়িকী প্রকাশিত হয়।সেগুলো হলো- উত্তরাধিকার (মাসিক), বাংলা একাডেমি পত্রিকা(ত্রৈমাসিক), বাংলা একাডেমি বিজ্ঞান পত্রিকা(ষন্মাসিক), ধানশালিকের দেশ(ত্রৈমাসিক), লেখা(মাসিক) ও The Bangla Academy Journal (ষান্মাসিক)।
  • নজরুল মঞ্চ, নজরুল স্মৃতিকক্ষ, লেখক জাদুঘর- বাংলা একাডেমিতে অবস্থিত।
  • বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক ভাস্কর্য ’ মোদের গরব’, ভাস্কর-অখিল পাল।
  • ’বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার’ প্রদান করা হয়- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ থেকে।

বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি

  • প্রাতিষ্ঠা-৩ জানুয়ারি, ১৯৫২, প্রতিষ্ঠাতা- স্যার উইলিয়াম জোন্স ।
  • প্রতিষ্ঠানটি সিরাজুল ইসলাম সম্পাদিত দশখণ্ডে ’বাংলা পিডিয়া’ (২০০৩)বিশ্বকেষ প্রকাশ করে।

মুসলিম সাহিত্য সমাজ

  • প্রতিষ্ঠা- ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দে ‘ঢাকা সাহিত্য সমাজ’ নামে, পরিবর্তীত নাম- মুসলিম সাহিত্য সমাজ।
  • শ্লোগান- ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি যেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব।”
  • সংগঠনের বার্ষিক মুখপত্র- ‘শিখা’ পত্রিকা(১৯২৭), সম্পাদক- আবুল হুসেন (প্রথমবর্ষ)।
  • পত্রিকার প্রচ্ছদ- সংগঠনের শ্লোগান ও অগ্নিশিখা, পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়- একাধারে পাঁচ বছর।
  • অবদান- ’বুদ্ধির মুক্তি’ আন্দোলন।
  • প্রধান লেখক- কাজী আবদুল ওদুদ, কাজী মোতাহার হোসেন, আবুল ফজল।

বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি

  • প্রতিষ্ঠা- ১৯১১ খ্রিস্টাব্দের ৪ সেপ্টেম্বর, কলকাতায়, পত্রিকা- বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা।
  • প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি- কাজী ইমদাদুল হক এবং সম্পাদক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।

হিন্দু কলেজ ও ইয়ংবেঙ্গল

  • হেনরী লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও(১৮০৮-১৮৩১)১৭ বছর বয়সে প্রেসিডেন্সি কলেজে(তৎকালীন ‘হিন্দুকলেজ’) ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে যোগদেন এবং ১৮৩১ সালে তাকে বরখাস্ত করা হয়।মাত্র ২২ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়। তার প্রধান গ্রন্থ- The Fakeer of Jungkeera’।
  • ডিরোজিও ১৮১৮ সালে ‘একাডেমিক এসোসিয়েশন’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন।
  • ডিরোজিওর শিষ্যদের ইয়ংবেঙ্গল বলা হয়, তাঁরা ছিলেন ইংরেজি ভাবধারা পুষ্ট বাঙালি যুবক।
  • ইয়ংবেঙ্গলের আদর্শ- আস্তিকতা হোক, নাস্তিকতা হোক, কোন জিনিসকে পূর্ব থেকে গ্রহণ না করা; জিজ্ঞাসা ও যুক্তি দিয়ে বিচার করা।
  • ইয়ংবেঙ্গল এর সদস্য- প্যারীচাঁদ মিত্র, দক্ষিনারঞ্জন মিত্র, কালিপ্রসাদ ঘোষ, হরচন্দ্র ঘোষ, মাধবচন্দ্র মল্লিক, রামতন লাহিড়ী।

বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনী

রচয়িতা গ্রন্হেরে নাম
সঞ্জিবচন্দ্র চট্রোপাধ্যায় পালামৌ
যাযাবর(বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় দৃষ্টিপাত
সৈয়দ মুজহবা আলী দেশে- বিদেশে
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রাশিয়াড চিঠি, য়ুরোপ প্রবাসী পত্র
অন্নদাশষ্কর রায় পথে প্রবাসে
মুহাম্মদ আব্দুল হাই বিলেতে সাড়ে সাতশো দিন
ইব্রাহিম খাঁ ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র, নয়াচীনে এক চক্কর
ড. মুহাম্মদ এনামূল হক বুলগোরিয়া ভ্রমণ
জসীম উদ্দীন চলে মুসাফির, হলদে পরীর দেশে, যে দেশে মানুষ বড়
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী তুরস্ক ভ্রমণ
এস ওয়াজেদ আলী মোটর যোগে রাঁচি সফর
বেগম সুফিয়া কামাল সোভিয়েতের দিনগুলি
নির্মলেন্দু গুণ ভালগার তীরে, গিন্সবার্গের সঙ্গে
আ. ন. ম. বজলুর বশীদ দ্বিতীয় পৃথিবীতে, দু্ই সাগরের দেশে, পথ ও পৃথিবী, পথ বেঁধে দিল
ফজল শামসুজ্জামান অন্য পৃথিবী
সত্যেন সেন পতাকা বাহার
সৈয়দ আবদুস সুলতান পথের দেখা, পঞ্চরদীর পলিমাটি
শহীদু্ল্লাহ কায়সার পেশোয়ার থেরক তাসখন্দ
  সৈয়দ আলী আহসান প্রেম যেখানে সর্বস্ব  
  সানাউল হক বন্দর থেকে বন্দরে  
  ইব্রাহিম খলিল সীমান্তের চিঠি  
  জহুরুল হক সাঁতসাতার  

বাংলা ভাষা ও সাহিত্য

বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত শিশুতোষ গ্রন্থ

রচয়িতা গ্রন্থের নাম
কাজী নজরুল ইসলাম সাত ভাই চম্পা, ঝিঙেফুল
জসীম উদ্ দীন ডালিম কুমার, এক পয়সার বাঁশি, হাসু
সুফিয়া কামাল ইতল বিতল, নওল কিশোরের দরবারে
শওকত ওসমান তারা দুইজন, ওটেন সাহেবের বাংলো, ক্ষুদে সোসালিস্ট
শামসুর রহমান এলাটিং বেলাটিং, ধান ভানলে কুঁড়ো দিবো
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বর্ণ পরিচয়
ফররুখ আহমদ পাখির বাসা, হরফের ছড়া, ছড়ার আসর
সুকুমার রায় হ-য-ব-র-ল, বহুরূপী, খাই খাই, আবোল তাবোল, পাগলা দাশু
সৈয়দ শামসুল হক আলু বড় হয়, হডসনের বন্দুক, সীমান্তের ‍সিংহাসন
বন্দে আলী মিয়া ডাইনী বউ হয়, হডসনের বন্দুক, সীমান্তের সিংহাসন
আবুল মনসুর আহমদ গালিভারের সফরনামা, ছোটদের কাসাসুল আম্বিয়া
আহমদ ছফা গো হাকিম, দোলা আমার কনকচাঁপা
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সেকেলের রূপকথা, রসুলুল্লাহ (সাঃ), শেষ নবীর সন্ধানে
সৈয়দ আলী আহসান কখনো আকাশ
আহসান হাবিব ছুটির দিন দুপুরে, বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর
নির্মলেন্দু গুণ কালোমেঘ, বাবা যখন ছোট্র ছিলেন
সত্যেন সেন অভিযাত্রী
ফয়েজ আহমদ টিউ টিউ, পুতলী, জোনাকী, জুড়ি নেই, তা ধিন তা, হাতেখড়ি, তুলির সাথে লড়াই, হারিয়ে যাওয়া, বোকা আইভান, বাছাইকরা শতেক ছড়া, বেছে নেয় কবিতা খাতা, প্রতিবাদের ছড়া
আবদুল গাফফার চৌধুরী ডানপিটে শওকত
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী দরজাটা খোলা, বাবুলের বেড়ে ওঠা
ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল আমার বন্ধু রাশেদ, দীপু নাম্বার টু
খান মুহাম্মদ মঈনুদ্দীন আমাদের নবী
আল মাহমুদ পাখির কাছে ফুলের কাছে

বিখ্যাত আত্নজীবনী ও স্মৃতিকথা

রচয়িতা গ্রন্থের নাম
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অসমাপ্তজীবনী
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আমার জীবনী, বিবি কুলসুম, উদাসীন পথিকের মনের কথা
অচিন্ত্য কুমার সেনগুপ্ত কল্লোল যুগ
আব্দুল মান্নান সৈয়দ স্মৃতির নোটবুক
আবুল ফজল রেখাচিত্র
আবুল কালাম শামসুদদীন অতীতের দিনের স্মৃতি
আবুল মনসুর আহমদ আত্মকথা
আবদুশ শাকুর কাঁটাতেও গোলাপ থাকে
খান মুহাম্মদ মঈনুদ্দীন যুগস্রষ্টা নজরুল
জাহানারা ইমাম একাত্তরের দিনগুলি
সুফিয়া কামাল একাত্তরের ডায়েরি
নবীনচন্দ্র সেন আমার জীবন
নীলিমা ইব্রাহিম বিন্দু বিসর্গ
নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরী রূপজালাল
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণাঙ্কুর
বুন্ধদেব বসু আমার ছেলেবেলা, আমার যৌবন
রশীদ করীম জীবনমরণ
শহীদুল্লা কায়সার রাজবন্দীর রোজনামচা
শামসুর রহমান স্মৃতির শহর, কালের ধুলোয় লেখা
সৈয়দ আলী আহসান আমার সাক্ষ্য
হাসান আজিজুল হক অপ্রকাশের ভার
হুমায়ূ্ন আহমেদ কাঠপেন্সিল, রংপেন্সিল
সৈয়দ শামসুল হক প্রণীত জীবন

বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য প্রহসন

আমৃতলাল বসু কালাপানি, চোরের ওপর বাটপাড়ি. বিবাহ বিভ্রাট, ডিসমিশ, চাটুজ্যে ও বাডুজ্যে।
জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর কিঞ্চিত জলযোগ, এমন কর্ম আর করব না, হিতেবিপরীত।
দীনবন্ধু মিত্র সধবার একাদশী, বিয়ে পাগলা বুড়ো।
দ্বিজেন্দ্রলাল রায় এক ঘরে, কলি অবতার, প্রায়শ্চিত্ত, পুনর্জন্ম, আনন্দ বিদায়।
মাইকেল মধুসূদন দত্ত একেই কি বলে সভ্যতা, বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ।
মীর মশাররফ হোসেন এর উপায় কি? ভাই ভাই এই তো চাই, একি, ফাঁস কাগজ।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গোড়ায় গলদ, বৈকুণ্ঠের খাতা, চিরকুমার সভা, শেষ রক্ষা।
রামনারায়ণ তর্করত্ন উভয় সষ্কট, চক্ষুদান, যেমন কর্ম তেমন ফল।
গিরিশচন্দ্র ঘোষ বেল্লিক রাজার বড় দায়,জাত থাকার কি উপায়।
প্যারীচাঁদ মিত্র মদ খাওয়া বড় দায়, জাত থাকার কি উপায়।
মহেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় চার ইয়ারের তীর্থযাত্রা।
ভোলানাথ মুখোপাধ্যায় কিছু কিছু বুঝি।
মুন্সি নামদার দুই সতীনের ঝগড়া, নন্দভাজের ঝগড়া, কলির বউ ঘর ভাঙানি, কলির বউ হাড় জ্বালানি, বড়গাঁয়ে শিয়াল রাজা, খেলারামের জাত।

চরিত্র, সাহিত্যকর্ম ও সাহিত্যিক

 চরিত্র গ্রন্থের নাম রচয়িতা
রাধা, কৃষ্ণ, বড়ায়ি শ্রীকৃষ্ণ কীর্তন (কাব্য) বড় চন্ডিদাস
চাঁদ সওদাগর, বেহুলা, লক্ষীন্দর মনসামঙ্গল (কাব্য) কানা হরিদত্ত
ঈশ্বরী পাটনী অন্নদামঙ্গল (কাব্য) ভারতচন্দ্র
পদ্মাবতী পদ্মাবতী (কাব্য) আলাওল
ঠগচাচা আলালের ঘরের দুলাল (উপন্যাস) প্যারীচাঁদ মিত্র
নবীন মাধব নীল দর্পণ (নাটক) দীনবন্ধু মিত্র
নিম চাঁদ সধবার একাদশী (প্রহসন)  
মেঘনাদ, প্রমীলা, রাবণ মেঘনাধ বধ (কাব্য) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
কপালকুণ্ডলা, নবকুমার কপালকুন্ডলা (উপন্যাস) বঙ্কিমচন্দ্র চট্রোপাধ্যায়
রোহিনী, গোবিন্দলাল কৃষ্ণকান্তের উইল(উপন্যাস)  
গফুর, মহেশ, আমিনা মহেশ(ছোট গল্প) শরৎচন্দ্র চট্রোপাধ্যায়
হেমাঙ্গিনী, কাদম্বিনী, কেষ্টা মেজদিদি(ছোট গল্প)  
শ্রীকান্ত, অভয়া, রাজলক্ষী শ্রীকান্ত(উপন্যাস) শরৎচন্দ্র চট্রোপাধ্যায়
সুরেশ, অচলা, মহিম গৃহদাহ(উপন্যাস)  
সতিশ, সাবিত্রী, কিরণময়ী চরিত্রহীন(উপন্যাস)  
দেবদাস, পার্বতী, চন্দ্রমুখী দেবদাস(উপন্যাস)  
রতন পোস্টমাস্টার(ছোট গল্প) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
মৃন্ময়ী সমাপ্তি(ছোট গল্প)  
হৈমন্তী, গৌরীশঙ্কর, অপু হৈমন্তী(ছোট গল্প)  
খুকী, রহমত কাবুলীওয়ালা(ছোট গল্প)  
রাইচরণ খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন(ছোট গল্প)  
কাদম্বিনী জীবিত ও মৃত (ছোট গল্প)  
অমল ডাকঘর (নাটক)  
অমিত, লাবণ্য, শোভনলাল শেষের কবিতা(উপন্যাস)  
মহেন্দ্র, বিনোদিনী, বিহার চোখের বালি(উপন্যাস)  
শর্মিলা, ঊর্মিলা দুইবোন(উপন্যাস)  
কুবের, কপিলা, গনেশ পদ্মানদীর মাঝি(উপন্যাস) মানিক বন্দোপাধ্যায়
ইমাম হোসেন, এজিদ বিষাদ সিন্ধু(উপন্যাস) মীর মশাররফ হোসেন
অপু, দুর্গা পথের পাঁচালি(উপন্যাস) বিভৃতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়
মজিদ, জমিলা লালুসালু (উপন্যাস) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
টু্নি, মকবুল, মন্তু হাজার বছর ধরে(উপন্যাস) জহির রায়হান
জয়গুন, হাসু সূর্যদীঘল বাড়ী(উপন্যাস) আবু ইসহাক

উক্তি

আব্দুল হাকিম ‘যে সব বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী।  সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।’ বঙ্গবাণী কবিতা
  ‘দেশি ভাষা বিদ্যা যার মনে ন জুয়াএ  নিজ দেশ ত্যাগী কেন বিদেশ ‍ন যাত্র।’ বঙ্গবাণী কবিতা
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ’অলীক কুনট্য রঙ্গে, মজে লোক  রাঢ়ে ও বঙ্গে’ বঙ্গবাণী কবিতা
প্রমথ চৌধুরী ‘ভাষা মানুষের মুখ থেকে কলমের মুখে আসে উল্টোটা করতে গেলে মুখে শুধু কালিই পড়ে’  
মদনমোহন তর্কালংকার পাখি সব করে রব রাতি পোহাইল  
কাজী নজরুল ইসলাম ‘গাহি সাম্যের গান, ধরণী হাতে দিল যারা আনি ফসলের ফরমান’ জীবন-বন্দনা
  ‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী, আর হাতে রণ তুর্য বিদ্রোহী
  ‘দেখিয়া শুনিয়া ক্ষেপিয়া গিয়াছি, তাই যাহা আসে কই মুখে’ কৈফিয়ৎ
  ‘কান্ডারী এ তরীর পাকা মাঝি মাল্লা দাড়ি মুখে সারিগান  লা শরীক আল্লাহ’ খেয়াপারের তরণী
  ‘সাম্যের গান গাই, আমার চক্ষে পুরুষ-রমনী কোন ভেদাভেদ নাই’    
  ‘বউ কথা কও, বউ কথা কও  কও কথা অভিমানিনী সেধে সেধে কেঁদে কেঁদে যাবে কত যামিনী’  
  ‘নিঃশেষে নিশাচর, নিশাচর, গ্রাসে মহাবিশ্বে, ত্রাসে কাঁপে তরণীর পাপী যত নিঃশেষে’  
  ‘বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর অর্ধেক তার নর’ নারী
  ‘কাটাকুঞ্জে বসি তুই গাঁথিবি মালিকা দিয়া গেনু ডালে তোর বেদনার টিকা’  
  ‘আমি চিরর্দুদম দুর্বিনীত, নৃশংস মহা-প্রলয়ের আমি নটরাজ আমি সাইক্লোন,আমি ধ্বংস’ বিদ্রোহী
কামিনী রায় ‘সকলের তবে সকলে আমরা প্রতেকে আমরা পরের তরে’ পরার্থে
কুষ্ণচন্দ্র মুজুমদার ‘যে জন দিবসে মনের হরষে জ্বালায় মোমের বাতি’ মিতব্যুয়িতা
দ্বিজ চন্ডীদাস ‘আমারি বঁধুয়া আন বাড়ি যায়- আমারি আঙিনা দিয়া’  
জসীম উদ্ দীন ‘কাচা ধানের পাতার মত কচি মুখের মায়া’ নকশী কাঁথার মাঠ
  ‘তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে’ কবর
  ‘এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ  পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক’ কবর
জীবনানন্দ দাশ সুরঞ্জনা, এইখানে যেয়ো নাকো তুমি। আকাশলীনা
  ‘আবার আসিব ফিরে ধান সিঁড়িটির তীরে’  
  ‘বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি, তাই পৃথিবীর রূপ খুজিতে যাই না আর’  
  ‘পাখির নীড়ের মত চোখ তুলে  নাটোরের বনলতা সেন’ বনলতা সেন
  ‘কে হায় হৃদয় খুড়ে বেদনা জাগাতে ভালবাসে’ হায় চিল
জ্ঞানদাস ‘সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু অনলে পুড়িয়া গেল’  
  রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর’  
নির্মলেব্দু গুণ ‘সমবেত সকলের মতো আমি গোলাপ ফুল খুব ভালবাসি, রেসকোর্স পার হয়ে যেতে সেই সব গোলাপের একটি গোলাপ গতকাল আমাকে বলেছে, আমি যেন কবিতায় শেখ মুজিবের কথা বলি’  
বডু চণ্ডীদাস ‘গুনহ মানুষ ভাই- সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই’  
বিদ্যাপতি এ ভরা বাদর মাহভাদর গুণ্য মন্দির মোর’  
বঙ্কিমচন্দ্র চট্রোপাধ্যায় ‘পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ….’ কপালকুন্ডলা
  ‘তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন’  
মাইকেল মধুসূদন দত্ত ‘হে বঙ্গ ভান্ডারে তব বিবিধ রতন, তা সবে (অবোধ আমি)অবহেলা কুরি, পরধন লোভে মত্ত,করিনু গমন পরদেশে’ বঙ্গভাষা
  ‘ওরে বাছা মাতৃওকোষে রতনের রাজি, সতত তোমার কথা ভাবি এ বিরলে’ কপোতাক্ষ নদ
মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী ‘এখানে যারা প্রাণ দিয়েছে রমনার উর্দ্ধমুখী কৃষ্ণচূড়ার নীচে সেখানে আমি কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’ কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবী নিয়ে এসেছি
মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ‘কবিতায় আর কি লিখব? যখন বুকের বক্তে লিখেছি একটি নাম বাংলাদেশ’ শহীদ স্মরণে
যাযাবর আধুনিক সভ্যতা দিয়েছে বেগ, কেড়ে নিয়েছে আবেগ দৃষ্টিপাত
যতীন্দ্র মোহন বাগচী ‘বাঁশবাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ঐ……..’ কাজলা দিদি
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘সমগ্র শরীরকে বঞ্চিত করে কেবল মুখে রক্ত জমালে তাকে স্বাস্থ্য বলা যায় না’  
  ‘এ জগতে হায়, সেই বেশি চায় আছে যার ভুরি ভুরি রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি’ দুই বিঘা জমি
  ‘আমি শুনে হাসি, আঁখিজলে ভাসি, এ ছিল মোর ঘটে তুমি মহারাজ সাধ হলে আজ, আমি আজ চোর বটে’ দুই বিঘা জমি
  ‘নীল নবঘনে আষাঢ় গগনে তিল ঠাঁই আর নাহিরে ওগো, আজ তোরা যাসনে ঘরের বাহিরে’ আষাঢ়
  কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল সে মরে নাই। জীবিত ও মৃত
  ‘খাঁচার পাখি ছিল সোনার খাঁচাটিতে বনের পাখি ছিল বনে’ একদা কি করিয়া মিলন হইল দোঁহে, কি ‍ছিল মনে’  
  ’যে আছে মাটির কাছাকাছি সে কবির বাণী লাগি কান পেতে আছি’  
  ‘যে আমারে দেখিবারে পায় অসীম ক্ষমায় ভালো মন্দ মিলায়ে সকলি’  
  ‘মানুষ যা চায় ভুল করে চায়, যা পায় তা চায় না’  
  ‘তোমার সৃষ্টির পথ রেখেছ আকীর্ণ করি’ শেষলেখা
  ‘আজি এ প্রভাতে রবির কর কেমনে পশিল প্রাণের পর কেমনে পশিল গুহার আধারে প্রভাত পাখি গান না জানি কেন রে এতদিন পরে জাগিয়া উঠিল প্রাণ’ রির্ঝরের স্বপ্ন ভঙ্গ
  ‘সন্ধ্যারাগে ঝিলিমিলি ঝিলমের স্রোতখানি বাঁকা’ বলাকা
  ‘একখানি ছোট খেত, আমি একেলা’ সোনার তরী
  ‘শিশু রাজ্যে এই মেয়েটি একটি ছোটখাট বর্গির উপদ্রব বলিলেই হয়’ সমাপ্তি
  ‘কিন্তু মঙ্গল আলোকে আমার শুভ উৎসব উজ্জ্বল হইয়া উঠিল’ কাবুলিওয়ালা
  ‘গ্রহণ করেছ যত, ঋণী তত করেছ আমায় হে বন্ধু বিদায়’ শেষের কবিতা
  ‘এনেছিলে সাথে করে মৃত্যুহীন প্রাণ, মরণে তাই তুমি করে গেলে দান’ দেশবন্ধু  চিত্তরঞ্জন দাসকে উৎসর্গ করে লেখা
  ‘আজি হতে শতবর্ষ পরে, কে তুমি পড়িছ বসি আমার কবিতাখানি কৌতুহল ভরে’ ১৪০০ সাল
  ‘সম্মুখে শাস্তি পরাবার ভাসাও ত হে কর্ণধার’ ‘তুমি হবে চিরসাথী লও লও হে ক্রোড়পতি অসীমের পথে জ্বলিবে জ্যোতি ধ্রুবতারার’  
  ‘বৃস্টি পড়ে টাপুর নদে এলো বান’  
রঙ্গলাল বন্দোপাধ্যায় ‘স্বাধীনতা হীরতায় কে বাঁচিতে চায়’ পদ্মিনী উপাখ্যান
রামনিধি গুপ্ত ‘বাংলার কাব্য বাংলার ভাষা মিটায় আমার…. সে দেশ আমার নয় গো আপন, যে দেশে বাঙালি নেই’  
রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ‘জাতির পতাকা আজ খামচে ধরেছে সেই পুরনো শকুন’ বাতাশে লাশের গন্ধ
শামসুর রাহমান ‘পৃথিবীর এক প্রান্ত হতে ‍অন্য প্রান্ত বুলন্ত ঘোষণার ধ্বনি প্রতিধ্বনি তুলে নতুন নিশানা উড়িয়ে দামামা বাজিয়ে দিগ্বিদিক এই বাংলায় তোমাকেই আসতে হবে’ তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা
  ‘শহীদের কলকিত রক্তের বুদবুদ, স্মৃতিগন্ধে ভরপুর একুশের কৃষ্ণচূড়া আমাদের চেতনারই রঙ’  
শেখ ফজলল করিম ‘কোথায় স্বর্গ, কোথায় নরক…..              মানুষেতে সুরাসুর’ স্বর্গ-নরক
  ‘সুন্দর হে দাও দাও সুন্দর জীবন      হউক দুর অকল্যাণ সকল অশোভন’  
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ‘মধুর চেয়ে আছে মধুর সে আমার এই দেশের মাটি আমার দেশের পথের ধুলা খাঁটি সোনার চেযে খাঁটি’  
সুকান্ত ভট্রাচার্য ‘পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি’  

বাংলা নাটক

  • ১৭৫৩ সালে ইংরেজরা old Play House নামে কলকাতার লালবাজারে প্রথম রঙ্গমঞ্চ প্রতিষ্ঠা করেন।
  • ১৭৯৫ সালে ‘বেঙ্গল থিয়েটার’ রঙ্গমঞ্চে হেরাসিম লেবেদফ এর ‘‘Ths Disguise’’ নাটকের অনুবাদ মঞ্চস্থ হয়।
  • ১৮৩১ সালে হিন্দু থিযেটার প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলা মৌলিক নাটকের যাত্রা শুরু হয় ১৮৫২ সালে তারাচরণ শিকদার রচিত ‘ভদ্রার্জ্জুন’ নাটকের মাধ্যমে।
  • রামনারায়ণ তর্করত্ন রচিত ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ বাঙালী অভিনীত জনপ্রিয় নাটক।
  • মাইকেল মধুসূদন রচিত ‘শর্মিষ্ঠা’ (১৮৫৮) বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক নাটক।
  • ‘কৃষ্ণকুমারী’ (১৮৬১) মাইকেল রচিত প্রথম সার্থক ট্রাজেডি নাটক।
  • ‘মায়াকানন’ মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত সর্বশেষ নাটক।
  • ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম গ্রন্থ নীলদর্পন (১৮৬০) নাটকের রচয়িতা ছিলেন দীনবন্ধু মিত্র।
  • মুসলমান রচিত প্রথম নাটক ‘বসন্তকুমারী’ (১৮৭৩) রচয়িতা মীর মশাররফ হোসেন তাঁর রচিত বিখ্যাত দুটি নাটক- জমীদার দর্পণ এবং বেহুলা গীতাভিনয়।
  • ঐতিহাসিক নাটক ‘সিরাজদ্দৌলা’ রচয়িতা গিরিশচন্দ্র ঘোষ এবং ‘সাজাহান’ নাটকের রচয়িতা দ্বিজেন্দ্রলাল রায়।
নাট্যকার নাটক
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাসের দেশ, রক্ত কবরী, প্রায়শ্চিত্ত, কালের যাত্রা, বিসর্জন, রাজা ও রানী, ডাকঘর, অচলায়তন
ইব্রাহীম খাঁ কামাল পাশা, আনোয়ার পাশা
কাজী নজরুল ইসলাম আলেয়া, পুতুলের বিয়ে, ঝিলিমিলি, মধূমালা
নুরুল মোমেন নেমেসিস, রুপান্তর
শওকত ওসমান আমলার মামলা, তস্কর লস্কর
সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহ বহিপীর, তরঙ্গ ভঙ্গ, সুড়ঙ্গ
মুনীর চৌধুরী রক্তাক্ত প্রান্তর, চিঠি, কবর, দণ্ডকারণ্য, পলাশী ব্যারাক, মানুষ
আলাউদ্দিন আল আজাদ নরকে লাল গোলাপ
আব্দুল্লাহ আল দীন যৈবতী কন্যার মন মুনতাসীর ফ্যান্টাসি, কীর্ত্তন খোলা, হাত হদাই
সৈয়দ শামসুল হক পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়

কবি সাহিত্যিকদের ছদ্মনাম ও উপাধি

আসল নাম ছদ্মনাম উপাধি
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত যুগসন্ধিক্ষণের কবি
কালীপ্রসন্ন সিংহ হুতোম প্যাঁচা
প্যারীচাঁদ মিত্র টেকচাঁদ ঠাকুর
কাজী নজরূল ইসলাম বিদ্রোহী কবি/জাতীয় কবি
চারুচন্দ্র চক্রবর্তী জরাসদ্ধ
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভানুসিংহ ঠাকুর বিশ্বকবি
বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় বনফুল
মীর মশাররফ হোসেন গাজী মিয়া
মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান হায়াৎ মাহমুদ
মধুসূদন মজুমদার দৃষ্টিহীন
রামনারায়ণ তর্করত্ন
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যের জনক
নীহার রঞ্জন বান ভট্র
জীবনানন্দ দাশ রুপসী বাংলার কবি
বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় যাযাবর
কাজেম আল কোরায়র্শী কায়কোবাদ
মুকুন্দ দাস চারণ কবি
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় নীল লোহিত, নীল উপাধ্যায়, সনাতন পাঠক
বঙ্কিমচন্দ্র চট্রোপাধ্যায় সাহিত্য সম্রাট
মালাধর বসু গুণরাজ খান
অচিন্ত্য কুমার সেনগুপ্ত নীহারিকা দেবী
বাহরাম খান দৌলত উজির
গোবিন্দ চন্দ্র দাস স্বভাব কবি
মুকুন্দরাম চক্রবর্তী কবি কঙ্কন
মোজাম্মেল হক শান্তিপুরের কবি/ কাব্য কণ্ঠ
বেগম রোকেয়া মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত
শামসুন নাহার মাহমুদ মুসলিম নারী জাগরণের কবি
শেখ আজিজুর রহমান মুসলিম রেনেসাঁর কবি
সুকান্ত ভট্রাচার্য কিশোর কবি
প্রমথ চেধৈুরী বীরবল চলিত গদ্যের জনক
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ছন্দের যাদুকর
রাজশেখর বসঙ পরশুরাম
সমরেশ বসু কালকুট
হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার মিল্টন
যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত দুঃখবাদী কবি
নজিবর রহমান সাহিত্যরত্ন
সমর সেন নাগরিক কবি
জমীসউদ্দীন তুজম্বর আলী পল্লীকবি
আব্দুল কাদির ছান্দসিক কবি
আসল নাম ছদ্মনাম উপাধি
শরৎচন্দ্র চট্রোপাধ্যায় অপরাজেয কথাশিল্পী
বিষ্ণু দে মার্কসিস্ট কবি
বিদ্যাপতি মৈথিলী কোকিল কবিকণ্ঠহার
সুফিয়া কামাল জননী সাহসিকা
বিহারীলাল চক্রবর্তী ভোরের পাখি
জাহানারা ইমাম শহীদ জননী
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সেরাজী স্বপ্নাতুর কবি
শামসুর রাহমান মৈনাক, মজলুম আদিব বাংলাদেশের প্রধান করি
সেলিম আল দীন নাট্যাচার্য
নির্মলেন্দু গুণ কবিদের কবি
নির্মল সেন অনিকেত
আব্দুল মান্নান সৈয়দ অশোক সৈয়দ

বাংলা সাহিত্য প্রথম

বিষয় গ্রন্থ লেখক
ছাপার অক্ষরে প্রথম বাংলা বই কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ (১৭৪৩) ম্যানুয়েল দা অ্যাসুস্পসাঁও
প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ কথোপকথন (১৮০১) উইলিয়াম কেরি
প্রথম প্রণয়োপাথ্যান/রোমান্টিক কাব্য ইউসুফ-জোলেখা শাহ মুহম্মদ সগীর
প্রথম উপন্যাস আলালের ঘরের দুলাল (১৮৫৭) প্যারীচাঁদ মিত্র
প্রথম গীতিকাব্য সন্দর্শন বিহারীলাল চক্রবর্তী
প্রথম গীতিকবি বিহারীলাল চক্রবর্তী
প্রথম সার্থক উপন্যাস দুর্গেশ নন্দিনী (১৮৬৫) বঙ্কিমচন্দ্র চট্রোপাধ্যায়
প্রথম রোমান্টিক উপন্যাস কপালকুণ্ডলা (১৮৬৬) বঙ্কিমচন্দ্র চট্রোপাধ্যায়
মহাভারতের প্রথম বাংলা অনুবাদক মহাভারত কবীন্দ্র পরমেশ্বর
রামায়ণের প্রথম বাংলা অনুবাদক রামায়ণ কৃত্তিবাস্ ওঁঝা
বাংলা ভাষায় প্রথম নাটক ভদ্রার্জুন তারাপদ শিকদার
প্রথম ভাষায় রচিত প্রথম প্রবন্ধ গ্রন্থ বেদান্ত রাজা রামমোহন রায়
প্রথম সামাজিক নাটক কুলীনকুল সর্বস্ব রামনারায়ণ তর্করত্ন
বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম সাময়িকী দিকদর্শণ (১৮৬০) দীনবন্ধু মিত্র
একুশের প্রথম নাটক কবর (১৯৫৩) মুনীর চৌধুরী
একুশের প্রথম উপন্যাস আরেক ফাগ্লুন(১৯৬৮) জহির রায়হান
কোরআন শরীফ প্রথম বাংলায় অনুবাদ   ভাই গিরিশচন্দ্র সেল
একুশে প্রথম সাহিত্য সংকলন একুশে ফেব্রুয়ারি হাসান হাফিজুর রহমান
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক/আধুনিক নাটক শর্মিষ্ঠা  
বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রহসনধর্মী নাটক একেই কি বলে সভ্যতা (১৮৬০)  
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সটেনগ্রন্থ চতুর্দশপদী কবিতাবলী মাইকেল মধুসুদন দত্ত
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ট্রাজেডি নাটক কৃষ্ণকুমারী (১৮৬১)  
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক মহাকাব্য মেঘনাদবধ (১৮৬১)  
একুশের প্রথম কবিতা কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি মাহবুব উল আলম চৌধুরী
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলমান নাট্যকার বসন্তকুমারী মীর মশাররফ হোসেন (১৮৪৭-১৯১১)
প্রথম বাঙালি মুসলমান গদ্য লেখক মীর মশাররফ হোসেন
চলিতরীতির প্রবর্তক প্রমথ চৌধুরী (১৮৬৮-১৯৪৬)
বাংলা গদ্যরীতিকে পাঠ্যপুস্তকের বাইরে সর্ব প্রথম ব্যবহার করেন রাজা রামমোহন রায়
প্রথম যতিচিহ্নের ব্যবহারকার বেতাল পঞ্চবিংশতি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক দীপ নির্বাণ স্বর্ণকুমারী দেবী
প্রথম বাংলা অক্ষর খোদাইকারী পঞ্চানন কর্মকার
রামায়ণ অনুবাদকারী প্রথম মহিলা চন্দ্রাবতী
বাংলা সাহিত্যের প্রথম আত্নজীবনী আমার জীবন রাসসুন্দরী দাসী
বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাস গ্রন্থ বঙ্গভাষা ও সাহিত্য দীনেশ চন্দ্র সেন
বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ গ্রন্থ A Grammar of The Bangla Lenguage নাথিনিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড

বাংলা গান

লালন শাহ খাঁচার ভিতর অচিন পাখি/ সময় গেলে সাধন হবে না/ আমার ঘরখানায় কে বিরাজ করে/ পারে লইয়া যাও আমার/ কেউ মালা কেউ তসবি গলায় তাইতো জাত ভিন্ন বলায়
শাহ আব্দুল করিম গাড়ী চলে না চলে না রে…। কোন মিস্ত্রি নাও বানাইছে…
দ্বিজেন্দ্রলাল রায় ‘ধন-ধান্যে পুষ্পেভরা আমাদের এই বসুন্ধরা….
অতুল প্রসাদ সেন ‘মোদের গরব, মোদের আশা-আমরি বাংলা ভাষা’
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আমার সোনার বাংলা…./ বাংলার মাটি বাংলার জল….

পত্র পত্রিকা

  • ভারতবর্ষের প্রথম সংবাদপত্র ‘বেঙ্গল গেজেট’ (ইংরেজীতে)। ১৭৮০ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা থেকে জেমস অগাষ্টাস হিকি এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
  • বাংলা ভাষায় প্রথম মাসিক পত্রিকা ‘দিকদর্শন’। ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিল মাসে প্রকাশিত। সম্পাদক জন ক্লার্ক মার্শম্যান।
  • বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘সমাচার দর্পন’। ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দের মে মাসে জন ক্লার্ক মার্শম্যান এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
  • ভারতীয় বাঙ্গালীদের সম্পাদনায় প্রথম প্রকাশিত সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘বাঙ্গাল গেজেট’। এটি ১৮১৮ সালে গঙ্গাকিশোর ভট্রাচার্যের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
  • বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম দৈনিক সংবাদপত্র- ‘সংবাদ প্রভাকর।’ ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে প্রথম সাপ্তাহিক, ১৮৩৬ খ্রিস্টাব্দে বারত্রয়িক (সপ্তাহে তিন দিন) এবং ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দের ১৪ জুন দৈনিক সংবাদ পত্র হিসেবে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
  • মুসলমান সম্পাদিত প্রথম সংবাদপত্র ‘সমাচার সভারাজেন্দ্র’।১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে সাপ্তাহিকভাবে শেখ আলিমুল্লাহ এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
  • ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দে অক্ষয় কুমার দত্তের সম্পাদনায় (পরে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রবীন্দ্রনাথ প্রমূখ) তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা প্রকাশিত হয়।
  • ‘গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’ ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে কাঙাল হরিনাথ [নদীয়া (কুষ্টিয়া) কুমারখালি পাঠশালার শিক্ষক] এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
  • ‘হিতকরী’ ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে মীর মশাররফ হোসেন কর্তৃক সম্পাদিত পত্রিকা।
  • বঙ্কিমচন্দ্র চট্রোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে ‘বঙ্গদর্শন পত্রিকা’ প্রকাশিত হয়।
  • ‘সবুজপত্র’ ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত পত্রিকা।
  • ‘মোসলেম ভারত’ এর সম্পাদক ছিলেন কবি মোজাম্মেল হক (১৯২০)।
  • নবযুগ (১৯২০), ‘ধুমকেতু’ (১৯২২), লাঙল (১৯২৫)- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত।
  • ‘কল্লোল’ (১৯২৩)-দীনেশ রঞ্জন দাশ।
  • ‘প্রগতি ১৯২৭ খ্রি. ঢাকা থেকে প্রকাশিত (মাসিক পত্রিকা)। সম্পাদক-বন্ধুদের বসু ও অজিত কুমার।
  • ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় মুসলিম সাহিত্য সমাজ। এর মুখপাত্র হিসেবে ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে শিখা পত্রিকা প্রকাশিত হয়। শ্লোগান- ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবন্ধ, বুদ্ধি যেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’। এর প্রথম সম্পাদক আবুল হুসেন পরে কাজী মোতাহার হোসেন ও অন্যান্য।
  • সমকালঃ সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত ১৯৫৭ খ্রি. ঢাকা থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা।
  • সওগাতঃ মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন।
  • আঙ্গুরঃ (১৯২০, কিশোর মাসিক)- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।
  • বেগমঃ নূরজাহান বেগম।

ভাষা আন্দোলন ও বাংলা সাহিত্য

ঔপন্যাসিক উপন্যাস
জহির রায়হান আরেক ফাল্গুন
শওকত ওসমান আর্তনাদ
সেলিনা হোসেন নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি
নাট্যকার নাটক
মুনীর চৌধুরী করব
সম্পাদক সম্পাদিত গ্রন্থ
হাসান হাজিফুর রহমান একুশে ফেব্রুয়ারি
চলচ্চিত্রকার চলচ্চিত্র
জহির রায়হান জীবন থেকে নেওয়া, Let there be light
কবি কবিতা
মাহবুব-উল আলম চৌধুরী কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি
আলাউদ্দিন আল আজাদ স্মৃতিস্তম্ভ
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ কোনো এক মাকে; চিঠি
হাসান হাফিজুর রহমান অমর একুশে
শামসুর রাহমান বর্ণমালা, আমার দুখিনী বর্ণমালা; ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯
সৈয়দ শামসুল হক সভ্যতার মনিবন্ধে
নির্মলেন্দু গুণ আমাকে কি মালা দেবে দাও
গীতিকার সংগীত
আবদুল গাফফার চৌধুরী  
ফজল-এ-খোদা সালাম সালাম হাজার সালাম…..
আবদুল লতিফ ওরা আমার মুখের কথা কাইড়া নিতে চায়…
কবির সুমন একুশে ফেব্রুয়ারি….
  • মুনীর চৌধুরী রচিত ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক নাটক- ‘কবর’ ১৯৫৩ সালে ঢাকা জেলে রচিত ও রাজবন্দীদের দ্বারা অভিনীত হয়।
  • ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ প্রথম সংকলনের সম্পাদক- হাসান হাফিজুর রহমান।
  • ভাষা আন্দোলনের উপর রচিত প্রথম কবিতা- মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী রচিত ‘কাদঁতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’।

বাংলা ভাষা ও সাহিত্য

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্য

ঔপন্যাসিক উপন্যাস
আনোয়ারা পাশা রাইফেল রোটি আওরাত
শওকত ওসমান জাহান্নাম হতে বিদায়; নেকেড়ে অরণ্য; দুই সৈনিক; জলাঙ্গী
সৈয়দ শামসুল হক নিষিদ্ধ লোবান; নীল দংশন
শওকত আলী যাত্রা
রশীদ হায়দার খাঁচায়
শামসুর রাহমান অদ্ভুত আধাঁর এক
আল মাহমুদ উপমহাদেশ
রশীদ কবির আমার যত গ্লানি
আমজাদ হোসেন অবেলায় অসময়
আবু জাফর শামসুদ্দীন দেয়াল
হুমায়ুন আহমেদ আগুনের পরশমণি; শ্যামল ছায়া
ইমদাদুল হক মিলন কালো ঘোড়া
হারুন হাবীব প্রিয়যোদ্ধা প্রিয়তম
সেলিনা হোসেন যুদ্ধ হাঙর নদী গ্রেনেড
রাবেয়া খাতুন ফেরারী সূর্য; একাত্তরের নিশান
তাহমিমা আনাম এ গোন্ডেন এজ
নাট্যকার নাটক
সৈয়দ শামসুল হক পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
আলাউদ্দিন আল আজাদ নরকে লাল গোলাপ
নীলিমা ইব্রাহিম যে অরণ্যে আলো নেই
জিয়া হায়দার পঙ্কজ বিভাস
মোহাম্মদ এহসাননুল্লাহ কিংশুক যে মরুতে
মমতাজউদ্দীন আহমেদ বর্ণচোর; কি চাহ শঙ্খচিল; বকুলপুরের স্বাধীনতা
সাঈদ আহমদ প্রতিদিন একদিন
রনেশ দাসগুপ্ত ফেরী আসছে
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ তরঙ্গভঙ্গ
সম্পাদক সম্পাদিত গ্রন্থ
হাসান হাফিজুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস (১৫ খন্ড)
প্রবন্ধকার প্রবন্ধ
ড. নীলিমা ইব্রাহীম আমি বীরাঙ্গনা বলছি
সেলিনা হোসেন একাত্তরের ঢাকা; যাপিত জীবন
মেজর আব্দুল জলিল A search for Identity
মেজর জেনারেল সুখওয়াক্ত সিং The Liberation of Bangladesh
এম আর আখতার মুকুল আমি বিজয় দেখেছি; একাত্তরের বর্ণমালা
জাহানারা ইমাম একাত্তরের দিনগুলি
সুফিয়া কামাল একাত্তরের ডায়েরি
রামেন্দ্র মজুমদার বাংলাদেশ আমার বাংলাদেশ
গল্পকার ছোটগল্প
শাহরিয়ার কবীর একাত্তরের যীশু
হাসান আজিজুল হক নামহীন গোত্রহীন
শওকত ওসমান জন্ম যদি তব বঙ্গে
আবদুল গাফফার চৌধুরী বাংলাদেশ কথা কয়
গীতিকার সংগীত
গোবিন্দ হালদার এক সাগর রক্তের বিনিময়ে….; মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে….; পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে….
নজরুল ইসলাম বাবু সব কটা জানালা খুলে দাওনা….
গাজী মাজহারুল আনোয়ার জয় বাংলা বাংলার জয়…..
কাজী নজরুল ইসলাম কারার ঐ লৌহকপাট…
আবদুল লতিফ সোনা সোনা সোনা লোকে বলে সোনা….
গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার শোন একটি মুজিবরের থেকে….
আল মুজাহিদী অত্যাচারের পাষাণ জ্বালিয়ে দাও….
নেওয়াজিস হোসেন আমি এক বাংলার মুক্তি সেনা….
সিকান্দার আবু জাফর জনতার সংগ্রাম চলবেই…
সলিল চৌধুরী বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা….
ফজল-এ-খোদা আমি শুনছি আমার মায়ের কান্না…
নাঈম গহর নোঙ্গর তোল তোল…

ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য>

আরো দেখুন>

বাংলা ভাষা ও সাহিত্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to top